নির্বাচনকালীন সহিংসতা সম্পর্কে জানবেন কীভাবে?

নির্বাচন এলেই বাংলাদেশে বাড়ে সহিংসতা। কিন্তু সব ঘটনা কি আমরা জানতে পারি? এই প্রশ্ন থেকেই তৈরি হয়েছে Violencetracker.org। এআই ও ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশজুড়ে রাজনৈতিক, মব, ধর্মীয় ও সামাজিক সহিংসতার তথ্য রিয়েল-টাইমে ম্যাপ করছে এই প্ল্যাটফর্ম। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার প্রকৃত চিত্র, মিডিয়ার সীমাবদ্ধতা ও এআই-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কথা বললেন উদ্যোক্তা সাদিক মোহাম্মদ আলম।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): দেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। আর নির্বাচন আসলেই আমাদের অঞ্চলে একটা কমন বিষয় হচ্ছে ভায়োলেন্স। নির্বাচন ঘিরে হতাহতের ঘটনা কম ঘটেনি। এছাড়া প্রতিদিনই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এই সবগুলো ঘটনার খবর কি আমরা জানতে পারছি? আজকে আমরা কথা বলবো এই বিষয়টা নিয়েই। আমাদের সাথে কথা বলার জন্য আছেন একজন খুব গুরুত্বপূর্ণ অতিথি। আমাদের সাথে আছেন সাদিক মোহাম্মদ আলম। তিনি একজন আইটি উদ্যোক্তা। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ভায়োলেন্স ট্র্যাকার। এই ভায়োলেন্স ট্র্যাকার নিয়ে আজকে কথা বলব। সাদিক ভাই শুভেচ্ছা জানাই।

সাদিক মোহাম্মদ আলম: ধন্যবাদ।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): আপনাদের যে এই ভায়োলেন্স ট্র্যাকার এইটা সম্পর্কে আমরা পত্রিকাগুলোতে দেখতে পাচ্ছি যে আপনারা আসলে নির্বাচন সংক্রান্ত যেসব ভায়োলেন্সগুলো ঘটছে সেগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি যদি একটু বুঝি বিষয়টা এটা আসলে কি?

সাদিক মোহাম্মদ আলম: আচ্ছা। সো আমরা চিন্তা করেছিলাম যে ভায়োলেন্সের যে একটা পিরিয়ড আমরা গেছি গণভুত্থানের পরে সময়টাতে, সেই সময়ে যেহেতু বিভিন্ন ধরনের ভায়োলেন্স হচ্ছিল ইভেন নির্বাচনের আগে, সেই সময়টাকে চিন্তা করে আমরা ভাবলাম যে যদি একটা নিরপেক্ষ এরকম প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায় যে আসলে একটা ওয়াচডগ এর মতো কাজ করবে এবং এটার মধ্যে কোন ধরনের বায়াসনেস থাকবে না। আমাদের অনেক সময় মিডিয়া হয়তো তাদের কভারেজের সংকটের কারণে অনেক ভায়োলেন্স কে হয়তো পিকআপ করতে পারেনা, আবার দেখা যায় যে কারো কারো কোন একটা পার্টিকুলার এজেন্ডার কারণে সব ভায়োলেন্সকে হয়তোবা সে ভায়োলেন্স হিসেবে দেখাতেও চায় না। তো এই সমস্যাটা সমাধান করতে যেহেতু প্রযুক্তি এখন অনেক বেশি এই জায়গাটায় সক্ষমতা অর্জন করেছে। সো আমরা ইন জেনারেল পুরো বাংলাদেশের ভায়োলেন্সটাকে ম্যাপ করার চিন্তা করেছিলাম। নির্বাচনের আগের কথা বলছি। আর যেহেতু এখন নির্বাচনের মুখের দ্বারপ্রান্তে আমরা দাঁড়িয়ে। সো এই জায়গায় আমাদের ভায়োলেন্সের মধ্যে একটা বড় ক্যাটাগরি হয়ে গেছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট। ভায়োলেন্স বা সহিংসতা যেখানে বিভিন্ন ধরনের পলিটিক্যাল পার্টিরা ইনভল্ভ থাকছে। তো একই সাথে আমরা এই প্ল্যাটফর্মে শুধু পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স না আমরা হচ্ছে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, ধর্মীয় সহিংসতা এবং ইভেন কি আমরা যে টেরোরিজম যে একটা বিশেষ সেক্টর আছে সহিংসতার সেগুলোকে আমরা আলাদা আলাদা ভাবে ডিটেক্ট করতে পারছি এখানে।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): ওকে। আমরা দেখলাম যে আপনারা মাত্র অল্প কয়েকদিনের কাজকর্মে প্রায় ৩০০ নিউজ স্ক্যান করে ৪০৭ টি সহিংসতার ঘটনা শনাক্ত করছেন। এখন এই নির্বাচনকে ঘিরে যেই ছোটখাট ঘটনাগুলো তো মিডিয়াতে আসতেছে। কিন্তু একটা কমপ্লিট পিকচার আমরা দেখতে পাই না। এইখানে আমরা আপনারা কোন পদ্ধতিতে আসলে তথ্যকে ভেরিফাই করেন?

সাদিক মোহাম্মদ আলম: আচ্ছা। আমরা যেটা করেছি যে আমাদের যে রিলায়েবল নিউজ মিডিয়া আছে এইরকম নিউজ মিডিয়ার আমরা এখানে সোর্স হিসেবে দিচ্ছি। সেই সোর্সগুলা থেকেই ও কন্টিনিউয়াসলি নিউজগুলোকে স্ক্যান করে এবং সবগুলো নিউজকে আমাদের একটা ডাটাবেজে স্টোর করা হয় উইথ টাইম স্ট্যাম্প সহ। কারণ অনেক সময় নিউজ মিডিয়াতে যেটা দেখা যায় যে একটা নিউজ হয়তোবা সে রিট্র্যাক্ট করে বা সরিয়ে ফেলে বা আনপাবলিশও করে, এরকমও হয় যে অনেক সময় তথ্যের উৎসতে সমস্যা থাকার কারণে। তো আমরা এগুলাকে টাইমস্ট্যাম সহ সেভ করি একটা ডাটাবেজে।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): সামগ্রিক পুরো বাংলাদেশের নিউজগুলো। হু।

সাদিক মোহাম্মদ আলম: এরপরে আমাদের একটা বিশেষ এআই মডেল এই নিউজগুলার কোনগুলা ভায়োলেন্স রিলেটেড সহিংসতা নিউজ সেগুলাকে আবার সেপারেট করে একটা ছাকনির মত ফিল্টারিং এর মাধ্যমে। এরপরে আমরা আরেকটা ফিল্টারিং বসাই যে সেই সহিংসতাটার ন্যাচারটা বোঝার জন্য। যেটা কি পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স নাকি এটা অন্য ধরনের সহিংসতা। কারণ শিশুদের বিরুদ্ধে এগেন্স্টেও সহিংসতা হয়, আমরা জানি। তো এইভাবে আমরা আসলে সেগ্রিগেট করি। এখন যে সোর্সগুলো আমরা ব্যবহার করতেছি এগুলো সবই বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড নিউজমিডিয়া। এই সোর্সটাকে বড় করা সম্ভব। আমরা এখন পরীক্ষামূলকভাবে এখানে চারটা কি পাঁচটা টপ নিউজমিডিয়াকে সোর্স হিসেবে ধরছি। কিন্তু ফিউচারে বিশেষ করে যদি কোন বিশেষায়িত অ্যাপ্লিকেশন হয় যারা বিশেষ ধরনের কোন একটা সেক্টর নিয়ে কাজ করতে চায় তখন এইখানে আমাদের ডাইভার্স সোর্স দেওয়ার একটা সুযোগ আছে।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): ওকে। একটা সমস্যা হচ্ছে যে ধরেন আমরা দেখলাম এই ওয়েবসাইটটাতে যে আপনারা আসলে একেবারে জেলাওয়ারি একেবারে লোকাল জায়গাগুলোকে শনাক্ত করছেন। তো এইটার ক্ষেত্রে যে এই তথ্যগুলো এর আগে আমরা যেসব সোর্স থেকে পাইতাম সেগুলো দেখে তো অনেক সময় লেগে যেত। এখন দেখা যাচ্ছে আমরা তাৎক্ষণাক পাচ্ছি। তো এইটা তো ধরেন পলিসি মেকারদের জন্য এক ধরনের একটা চাপ তৈরি করে। এই বিষয়গুলোতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। এই ধরনের মানে সেগ্রিগেশনটা আপনারা আসলে কিভাবে করলেন আসলে?

সাদিক মোহাম্মদ আলম: আচ্ছা। সো আমরা আসলে যেটা বলতে চাই যে যেহেতু প্রযুক্তি এখন অনেক বেশি ম্যাচিউর হয়েছে। সো রিয়েল টাইমে ডাটা পাওয়াটা এখন অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। ফলে একটা সহিংসতার খবর প্রকাশ হওয়ার মধ্যে আমরা এই মুহূর্তে ২৪ ঘন্টায় দুইবার স্ক্যান করছি। সবগুলো নিউজ মিডিয়া। কিন্তু চাইলে এটা আমরা এভ্রি ফোর আওয়ারেও স্ক্যান করতে পারি। ২৪ ঘন্টায় হয়তোবা আমি চারবার স্ক্যান করতে পারি। এরকম করে করা সম্ভব। আমাদের এই ভায়োলেন্স ট্র্যাকার বানানোর পিছে আমাদের স্টেকহোল্ডার আমরা চিন্তা করেছি গভমেন্ট, অবশ্যই বিভিন্ন ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি এবং একই সাথে সাংবাদিক বা মিডিয়া এবং গবেষক। সো আমরা দেখি যে যারা এই ধরনের সহিংসতা নিউজ প্রকাশ করে অনেক রেগুলার ইন্টারভাল যেমন যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে এই ধরনের যারা নন গভমেন্ট অর্গানাইজেশন বা এনজিও আছে তাদের এই ধরনের নিউজ ওনাদেরকে রেগুলার বেসিসে পাবলিশ করার একটা ওনাদের রিসার্চেরই অংশ। তো আমরা কিছু কম্পারিজন করে দেখলাম যে ট্রেডিশনাল যেভাবে নিউজগুলি কালেক্ট করা হয় এটা তাদের সোর্সের পদ্ধতিগত জায়গা হতে পারে কিন্তু তাদের নিউজ সহিংসতার নিউজ অনেক কম তুলনামূলকভাবে। সো ওইটা একটা বড় জায়গা যেখানে আমরা মনে করি যে এরকম একটা অটোমেটেড প্ল্যাটফর্ম আমাদের আসলে অনেকটা একটা ৩৬০ ভিউ দেওয়া সম্ভব। দুই নাম্বার হচ্ছে যে আমরা এইখানে সারা বাংলাদেশ থেকে নিউজগুলো আসতেছে কাজেই যেহেতু আমরা মাল্টিপল নিউজ সোর্সে যাচ্ছি সেহেতু কোন একটা পার্টিকুলার মিডিয়ার হয়তো একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংবাদদাতা না থাকলে সে মিস করতেছে। কিন্তু আমরা যেহেতু মাল্টিপল সোর্স করতেছি সেহেতু দেখা যাচ্ছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কোন জায়গায় আসলে বাদ পড়ছে না। এবং আমরা এটা একটা ক্রস রেফারেন্সিংও করতেছি যে কারণ আমরা জানি যে মিডিয়াতে ভুয়া তথ্য বা তথ্যের অপপ্রচার এরকম ব্যাপার আছে। সো আমাদের একটা মেথডোলজি হচ্ছে যে একটা পার্টিকুলার সহিংসতার নিউজ যদি আমরা মাল্টিপল জায়গায় কাছাকাছি রিপোর্ট পাই তাহলে আমার এটা একটা কনফিডেন্স দেয়। আমরা এই কনফিডেন্সটাও রাখছি যে এই নিউজটা ৯৯% কনফিডেন্ট যে একজন লোক মারা গেছে বিকজ আমার অনেকগুলি সোর্স আসলে এটা ভেরিফাই করতেছে। এইটার মাধ্যমে আমি নিউজের ফ্যাক্ট চেকিংও এক ধরনের হয়ে যাচ্ছে আর আমাদের কাভারেজটাও অনেক ওয়াইড করা সম্ভব হচ্ছে এখন।

এখন আপনার যে মূল প্রশ্নটা ছিল যে এর ফলে তো গভমেন্ট বা অন্যান্য এজেন্সি এক ধরনের চাপ অনুভব করবে। তো আমাদের স্বপ্ন তো আসলে একটা সহিংসতা মুক্ত দেশ আমরা চাচ্ছি এবং সেটা নির্বাচন হোক অথবা নির্বাচন পরবর্তী যেকোনো সময় হোক। তো যখন আমার এখানে একটা হিট ম্যাপের মত একটা ম্যাপে আমি দেখতে পাচ্ছিและ ম্যাপে ক্লিক করলে আমাকে একদম দেখাচ্ছে যে কোথায় এই ভায়োলেন্সটা হয়েছে। কতজন হতাহত হয়েছে বা কতজন নিহত হয়েছে এবং একই সাথে আমি সোর্সটাকে চেক করতে পারছি। ফলে আমি এখানে কোন ধরনের ব্লাইন্ড স্পট নাই। আমি প্রতিটা তথ্যকে একদম স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করছে। ফলে আমার অন্য একটা নিউজ মিডিয়া অথবা গভমেন্টের যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তারাও এইটাকে ব্যবহার করে ফোকাস করতে পারবে যে আচ্ছা নেক্সট ১০ দিনে আমার আসলে কোন এলাকার ভায়োলেন্সের ট্রেন্ডটা সে বুঝতে পারতেছে বা হিস্টরিক্যাল ডেটাটা পাচ্ছে।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): এটা আর কি। তাহলে সাদিক ভাই এই এইটা যেহেতু একদম এআই ড্রিভেন একটা প্রযুক্তি তাহলে তো আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করে হয়তো মানে ধরেন নারী নিপীড়নের ঘটনা বা অন্য যেকোন সমস্যার ক্ষেত্রে স্পেশালাইজড ডাটা কালেকশনের পদ্ধতি ডাটা কালেকশন একদম সম্ভব।

সাদিক মোহাম্মদ আলম: রাইট। সো আমরা সহিংসতা নিয়ে এক্সপেরিমেন্টটা করলাম এবং আমাদের অনেক সাংবাদিক বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা ফিডব্যাকও নিয়েছি তারা আমাদের বেশ কিছু ভ্যালুয়েবল ফিডব্যাক দিয়েছে। তো আমি মনে করি যে যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন সোশিও ইকোনমিক রিসার্চ করেন বা মিডিয়াতে যে নিউজগুলা আমাদের কাভারেজ ভালো আসে এইরকম নিউজের এনালাইসিস বা গবেষণার জন্য আমরা সিমিলার মডেলকে এপ্লাই করাতে পারি।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): তাহলে আমরা যদি চিন্তা করি যে এই পদ্ধতিগুলো যদি বিভিন্ন হাউসগুলা ব্যবহার করতে চায়, সে কষেত্রে লোক বলেন মানে আপনারাই বা কয়জনের এই কর্মযোগ্যের সাথে কয়জনকে নিয়ে কাজ করেন?

সাদিক মোহাম্মদ আলম: আচ্ছা। এইটার ক্ষেত্রে যেহেতু এটা এআই ড্রিভেন কাজেই এখানে আসলে মানুষের যে টিম এটা খুব বড় হওয়ার প্রয়োজন হয় না। এবং এই সার্ভিসটা আমরা আসলে ডেমোক্রেটাইজ ভাবে অনেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কাজেই এটা একটা প্ল্যাটফর্ম যেটা প্ল্যাটফর্ম এজ এ সার্ভিস হিসেবে অনেকে ব্যবহার করতে পারে। সো আমাদের যদি বিভিন্ন সেগমেন্টের নিউজ দরকার হয় আমরা সেই সেগমেন্টগুলো শুধু ওকে চিনায় দিলেই হয় এবং তাকে ট্রেনিং দিয়ে দিলেই হয় এইটা আসলে ওয়াইড স্কেলে ডেপ্লয় করা সম্ভব।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): আপনি যেহেতু এআই নিয়ে কাজ করছেন এবং এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য নতুন আমি আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন প্রশ্ন এটাই জানতে চাইব যে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে এআই এর ভূমিকাটা মানে সামনের দিনে কেমন দেখতে পাবো আমরা? এখানে একটু বলে নেওয়া ভালো যে আমাদের এখানে একটা ব্যাক প্র্যাকটিস আমরা দেখতে পাই যে অনেক সময় যে নিউজ কপি করা বা নিউজ ডিরেট করার একটা প্রবণতা এ এর মাধ্যমে যেটা পাঠকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা কমায় আবার অনেক সময় আনঅথেন্টিক ইনফরমেশনও চলে আসে। তো এইটার ক্ষেত্রে পলিসি লেভেলে কি হইতে পারে আর প্রস্পেক্টটা কি দেখতে পারেন আপনি?

সাদিক মোহাম্মদ আলম: এইটাখানে যেহেতু এআই আসলে আমাদের জীবনকে অনেক বেশি ইনফ্লুয়েন্স করতে যাচ্ছে এবং এই বাস্তবতা থেকে এস্কেপ করার আসলে সুযোগ নাই। কারণ প্রযুক্তির বিবর্তনের ধাপ হিসেবে আমাকে আসলে এই প্রযুক্তিটা এখন আমাকে একটা স্পিড দিবে, কনভিনিয়েন্স দিবে এবং অনেক কাজ যেটা করতে বেশি সময় লাগতো সেটাকে কমপ্রেস করতে পারছে। যেহেতু এই সুবিধাগুলো আসছে সেহেতু পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার মতো আমাদের দেশেও এইটা সব ইন্ডাস্ট্রিকে এফেক্ট করবে। মিডিয়াতে আপনি যে পয়েন্টগুলো বললেন আমাদের আসলে প্রথমত এআই সচেতনতাটা তো বাড়ানো দরকার। আমাদের যারা সাংবাদিক বন্ধু আছে বা মিডিয়া হাউজে যারা ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে কাজ করে তাদের আসলে এটার এডুকেশন খুব দ্রুত নেওয়ার দরকার। সো দ্যাট এখানে অনেকগুলো মিসইউজের জায়গা আছে। আমরা যখন এন্টায়ার ইন্ডাস্ট্রি এইটার ইউসেজের পজিティブ এবং নেগেটিভ দিকটা সম্পর্কে সচেতন হবে তখন আসলে সে তার নিজের কোয়ালিটি কন্ট্রোলেও এটা ব্যবহার করতে পারবে। আর এটার এবিউসটা কে ঠেকাতে পারবে? সো ফর এক্সাম্পল যে নিউজটা আসলে খুবই ফ্যাক্ট চেক ভিত্তিক একদম গ্রাউন্ডের তথ্য উপরে তৈরি করার দরকার সেইটা যদি কেউ এআই ভিত্তিক তৈরি করে এটা তো আসলে একটা কনফ্লিক্ট তৈরি করে। সো এই জায়গাগুলোর ডিটেকশনের যে টুলগুলো এবং এরকম অনেক টুল এখন অনলাইনে এভেলেবল আছে। গুগল নিজেই অনেক ধরনের এরকম টুল রিলিজ করেছে। আমরা কাজ করছি এবং এরকম তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করে এবং মিডিয়াতে যাদের ইন্টারেস্ট আছে তারা আসলে এই ধরনের কাস্টম টুল তৈরি করা সম্ভব। যেটা তাকে তার ইনহাউজের কোয়ালিটি চেক এবং এফিসিয়েন্সি বাড়াতে হেল্প করবে। ফলে আমাদের বিভিন্ন মিডিয়াগুলার মধ্যে যেটা সামনে হবে যারা আসলে এআই এর এডপশনটা বেশি করবে তারা আসলে অন্যান্যদের থেকে অনেক এগিয়ে যাবে এবং কম্পিটিশনে তারাই সামনে থাকবে। ওই কারণে আমি মনে করি যে সামনে এই ২০২৬ এ আমাদের আসলে এআই এডপশন নিয়ে অনেক নিবিড়ভাবে কাজ করা দরকার।

আরিফ রহমান (ঢাকা স্ট্রিম): সাদিক ভাই অনেক ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য। দর্শক সাদিক ভাই যেমনটা বলছিলেন যে সামনের দিন কিন্তু এআই এর দিন এবং সেই সময়ে আমরা কিভাবে এই প্রযুক্তিটাকে ব্যবহার করব সেটার শিক্ষাটাও আমাদের কিন্তু গ্রহণ করতে হবে। স্ট্রিমে আমরা এই আলাপগুলো নিয়মিত করতে চাই। সামনের দিনে এমন আলাপ আরো দেখতে চাইলে স্ট্রিমের সাথেই থাকুন।

কারিগরি স্থাপত্য ও অটোমেশন

Next.js 15, Prisma ORM এবং হাই-পারফরম্যান্স PostgreSQL দ্বারা চালিত।

সিস্টেম সক্রিয়
সর্বশেষ ক্রল সম্পন্ন: Loading...

এআই অ্যানালাইসিস পাইপলাইন

অত্যাধুনিক জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খবরের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ, এন্টিটি শনাক্তকরণ এবং ঘটনার তীব্রতা নির্ণয় যা সম্পূর্ণরূপে স্বয়ংক্রিয়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল-স্কেল স্ক্র্যাপিং

একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য ডেটা সংগ্রহ আর্কিটেকচার দ্বারা পরিচালিত যা ২৪/৭ নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ইকোসিস্টেম

স্বয়ংক্রিয় আপডেট সিস্টেম প্রতিদিন দুইবার বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ, একই খবরের পুনরাবৃত্তি (ডুপ্লিকেট) রোধ এবং লাইভ আপডেট করা হয়।

শতভাগ দ্বিভাষিক সক্ষমতা

বাংলা ও ইংরেজি — দুই ভাষাতেই সাবলীল বুদ্ধিদীপ্ত লজিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলা এবং ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই ইন্টারফেস ও তথ্যের নিখুঁত উপস্থাপন নিশ্চিত করে।

© 2026 ভায়োলেন্স ট্র্যাকার. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। জনস্বার্থে এটি ডেল্টা ফ্লো -এর একটি অলাভজনক কারিগরি উদ্যোগ।
AI POWERED|NEXT.JS|OPEN DATA
Contact Us