রাবি শিক্ষার্থীদের ৯ ঘণ্টার অবরোধে পশ্চিম রেলের ক্ষতি ৩৫ লাখ টাকা
Why this classification
Although the article describes a 9‑hour rail blockade by students after a beating, no political party or election motive is mentioned, so it is not classified as political violence.
Killed
0
Injured
1
Summary
২১ জুলাই রাবি শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ৯ ঘণ্টা রেল অবরোধ করে, যা রেলওয়ের প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন টাকা ক্ষতি এবং প্রায় ২০,০০০ যাত্রীর ভোগান্তি সৃষ্টি করে। এই অবরোধের কারণ ছিল রেলকর্মীদের দ্বারা ফোরকান উদ্দিনের উপর মারধর।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
93% · severity 5
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 20/07/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (5 sources)
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে টিটিই বরখাস্ত
চলন্ত ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জুনিয়র ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার (টিটিই) সুমন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার বিভাগীয় সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা-২ পার্থ প্রতীম আচার্য্য এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আন্তনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্ব পালনের সময় মঙ্গলবার সুমন আলী একজন যাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড হয়েছে। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে রাজশাহী স্টেশনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। তাই তদন্তপূর্বক তাঁকে মঙ্গলবার থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাবেন। সাময়িক বরখাস্তকালীন সুমন আলীকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাকশীর ডিভিও দপ্তরে অবশ্যই উপস্থিত থাকতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ভুক্তভোগী ফুরকান উদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে তিনি এক টিটিইকে সরকারি রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে ওই টিটিই ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি তাঁকে টি-শার্টের কলার ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে অন্য যাত্রীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সরে যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেছেন। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেলা ৩টা পর্যন্ত রেলপথ অবরোধই ছিল। তবে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারের বৈঠক হয়েছে।
রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বনলতা, সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়েছে। এছাড়া হরিয়ানা স্টেশনে এলাকায় ঈশ্বরদী কমিউটার আটকা পড়েছে। জানা গেছে, রাবির আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দিনকে টিটি মারধর করেন। ফোরকান পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে আসছিলেন। পথে সিরাজগঞ্জে ট্রেনের মধ্যে টিটি সুমন সরকারি রিসিট ছাড়া অর্থ্যাৎ ঘুষ নিয়ে টিকিট না কাটা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ায় ফোরকান এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনার জেরে শিক্ষার্থী ফোরকানকে কয়েকজন মারধর করে। ফরকানের দাবি ট্রেনের দুই ভাগের মাঝখানের অংশে নিয়ে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে রেল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাবির প্রক্টর মাহাবুবুর রহমান। এসময় তিনি জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সমাধান হবে। ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দীন বলেন, গতকাল রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলাম। খেয়াল করি যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটিরা টাকা আদায় করছে। টাকা নিচ্ছে, কিন্তু রসিদ দিচ্ছে না। আমি তখন প্রতিবাদ করে টিটিদের বলি রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু টিকেট ইস্যু না করে টাকা নিচ্ছেন কেন? সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে পেছন থেকে আমার গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যায় ৬-৭ জন টিটি। এরপর আমার ঘাড়ে ও পিঠে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। আমি পড়ে গেলে খারাপ কিছু হতে পারত। আমার চশমাও ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক ভাইকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অন্যায় এবং প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনা হয়েছে দাঁড়িয়েছে। আমরা রেল অবরোধ করেছি। কর্তৃপক্ষ আসবে এবং ঘুষ নেওয়ার দায়ে শাস্তি, মারধরের ক্ষতিপূরণসহ যথাযথ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে রাকসু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অবরোধ স্থলে অবস্থান করছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আন্দোলনকে সমর্থন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। ফেসবুক পোস্টে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান লিখেছেন, রেললাইন বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট লোকেরা নিজে আমাদের কাছে এসে এখন এটা সামলান। কাদের গায়ে হাত দিয়েছেন ঠাহর তো করতে হবে। পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে রাবির এক শিক্ষার্থী ভাইকে অন্যায়ভাবে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে। নচেৎ রাজশাহীর সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দেখতে চাই। তিনি আরও লিখেছেন, এর আগেও জানা অজানা এমন অনেক আচরণ রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা হয়েছে। আজকে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে কখনো রেলগুন্ডারা বাঁকা চোখেও যেন না দেখে সে ব্যবস্থা করতে হবে। রাকসু ও হল সংসদ নেতাদের এই রেললাইন সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, গতকাল রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট চেকারেরা (টিটি) প্রচণ্ডভাবে মারধর করেছে। এরই প্রতিবাদে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। যাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোও আমাদের বিবেচ্য বিষয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবদুল আওয়াল বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ইতোমধ্যে তাকে সাময়িকভাবে দরখাস্ত করা হয়েছে। আরকে
রাবি শিক্ষার্থীদের ৯ ঘণ্টার অবরোধে পশ্চিম রেলের ক্ষতি ৩৫ লাখ টাকা
রাবি শিক্ষার্থীদের ৯ ঘণ্টার অবরোধে পশ্চিম রেলের ক্ষতি ৩৫ লাখ টাকা Advertisement রাজশাহী ব্যুরো প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম গত ২১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা রেল অবরোধের কারণে রেলওয়ের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও রহনপুর স্টেশন থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী এবং দেশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জমুখী ১০টি আন্তঃনগর ও ৯টি কমিউটার ট্রেন ১ ঘণ্টা থেকে সোয়া আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। এছাড়া রেল অবরোধের কারণে দুটি আন্তঃনগর ও ৪টি কমিউটার ট্রেনের পূর্বনির্ধারিত যাত্রা বাতিল করতে হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রেল ভ্রমণকারী ২০ হাজার যাত্রী। বৃহস্পতিবার বিকালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল হাসানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এসব ট্রেন দীর্ঘসময় অবরোধের কারণে যাত্রী সাধারণের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি ট্রেন চলাচলে পূর্বনির্ধারিত সিডিউল ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়ে; যা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টাতেও স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এতে রেল যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই রাতে ফোরকান উদ্দিন নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে রাজশাহীর মধ্যে চলাচলকারী পদ্মা আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলেন। ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টিটিইসহ রেলকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন ফোরকান। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২১ জুলাই সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে রেল অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৪টা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকে। পরে পশ্চিম রেলওয়ের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঘটনার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। গঠন করেন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। ওই দিন বিকাল ৪টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পশ্চিম রেলওয়ের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ২১ জুলাই ৯ ঘণ্টার রেলপথ অবরোধের ফলে মুমূর্ষু রোগী, অসুস্থ মানুষ, নারী ও শিশু এবং বিদেশগামী যাত্রীসহ প্রায় ২০ হাজার রেলযাত্রী দুর্বিষহ ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই যাত্রী দুর্ভোগের কারণে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আচরণ বা ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়েরের নিয়ম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার যথাযথ প্রতিকার করে থাকেন; কিন্তু সেই পথে না গিয়ে রেলপথ অবরোধ করে হাজার হাজার রেলযাত্রীকে জিম্মি করে এবং তাদের দুর্ভোগের কবলে পতিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে একদিকে যেমন বিভিন্ন গন্তব্যগামী হাজার হাজার মানুষের সময় ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় তেমনি রেলওয়ের মতো জাতীয় সম্পদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। সুষ্ঠুভাবে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী সেবা নিশ্চিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সব নাগরিকের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
রাবি শিক্ষার্থীকে ট্রেনে হেনস্তা করলেন টিটিই
চেইন টানায় ক্ষুব্ধ রাবি শিক্ষার্থীকে ট্রেনে হেনস্তা করলেন টিটিই Advertisement রাবি প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেইন টানা কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ভ্রমণকালীন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হেনস্তা করেছেন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো হেনস্তার ঘটনা ঘটেনি বরং নিয়ম ভঙ্গের কারণে ওই শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মৃন্ময় চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মৃন্ময় চক্রবর্তীর অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামছে না বলে জানতে পেরে তিনি স্টেশনে ট্রেনটির চেইন টানেন। মৃন্ময় বলেন, ‘চেইন টানার পর রেলওয়ের কর্মীরা আমাদের ধরে ফেলেন। আমরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাই এবং রেলের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু এর আগে আমাদের কটূক্তি, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চেইন টানা আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি। রেলের আইনে যে শাস্তি আছে, সেটাও মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সেই ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ শিক্ষার্থীকে হেনস্তা বা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম অঞ্চল) ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নিয়ম ভঙ্গ করায় ওই শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের হেনস্তা করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে তাকে ন্যূনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ এর আগে, গত ২১ জুলাই ট্রেনে রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবি ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে বলে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ, সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ। আজ মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসের চারুকলা এলাকায়ছবি: প্রথম আলো বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন টিকিট এক্সামিনারের (টিটিই) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার ভোরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন চারুকলা এলাকায় রেললাইন অবরোধ শুরু করেন একদল শিক্ষার্থী। সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ আছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, গতকাল সোমবার রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফিরছিলেন ফোরকান। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায় করছিলেন কয়েকজন টিটিই। বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে ফোরকানকে মারধর করেন এক টিটিই। শিক্ষার্থীদের দাবি, যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায় করছিলেন কয়েকজন টিটিই। বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে ফোরকানকে মারধর করেন এক টিটিই। ফোরকানের ভাষ্য, টিটিই যখন টিকিট চেক করছিলেন, তখন তিনি তাঁর টিকিট দেখান। কিন্তু সামনের আসনে থাকা দুজনের টিকিট না দেখে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় পেছন থেকে এক টিটিই তাঁর ওপর হামলা করেন। তাঁর গলা চেপে, পায়ে আঘাত করে এবং টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে ঢাকামুখী বনলতা ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি রাজশাহী স্টেশনে আটকে আছে বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও অবরোধের কারণে ট্রেন দুটি ছাড়া যায়নি। এ মুহূর্তে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ আছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি আছে। তবে আলোচনা ক্যাম্পাসে হবে নাকি রেলস্টেশনে হবে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, প্রক্টর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৪ দাবি এ ঘটনার প্রতিবাদে চারটি দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো—অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীর উপস্থিত করা; যেহেতু তিনি ঘুষ গ্রহণ করেছেন, সেই অপরাধে প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি হিসেবে তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার, রেলে ভ্রমণকারীর ওপর হত্যাচেষ্টার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তের শাস্তি এবং মারধরের ক্ষতিপূরণসহ যথাযথ সমাধান না করা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তিনি বলেন, ‘তারা আলোচনায় বসতে রাজি আছে। তবে আলোচনা ক্যাম্পাসে হবে নাকি রেলস্টেশনে হবে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেহেতু শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে রেলস্টেশনে গিয়েও কোনো সমাধান পায়নি, তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’ প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন শিক্ষার্থীপ্রতিবাদরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়বাংলাদেশ রেলওয়েট্রেন চলাচলঅবরোধরাজশাহীরাজশাহী বিভাগ
