রাজধানীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ককটেল হামলা ও নাশকতার ঘটনা
Why this classification
The report describes physical attacks involving cocktail explosions and political processions linked to the Awami League in Dhaka.
Killed
0
Injured
0
Summary
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এই নাশকতার পেছনে পুলিশের ভেতরে থাকা কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
85% · severity 5
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Awami League
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Law Enforcement
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 27/09/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (3 sources)
জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জন কারাগারে
জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জন কারাগারে জাসদ কার্যালয়ে হামলা-আটকের ঘটনায় আসকের নিন্দা ছবি: সংগৃহীত সমকাল প্রতিবেদক প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩০ রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যালয় থেকে আটক করা ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে ২৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– দিনারুল আলম, ইমান আহম্মেদ, মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মিরাজ আহমেদ, মিরাজ মল্লিক, রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার, কাউসার হোসেন, শ্রী অন্তর শিল, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, আবদুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মেদ আহসান হাবিব, সুজন আলী, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল্লা সাদেক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আল আমিন হাওলাদার, তুষার আলী, রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান। আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, এই ব্যক্তিরা জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শনিবার বিকেলে তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তারা কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন– প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা করা হচ্ছে। এসব কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। তবে জাসদ জানিয়েছে, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আসকের নিন্দা জাসদ কার্যালয়ে হামলা ও মব সৃষ্টির অভিযোগ এবং পরে ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। রোববার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে মব তৈরি করে তা ভণ্ডুল করা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মব সৃষ্টি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। আসক দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছে, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে হামলা, উস্কানি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয়নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই: এবি পার্টি
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একইসঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে এ ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে দলটি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা ছিল ভয়-দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অবসান। অথচ সেই আন্দোলনের পরও যদি নতুন পরিচয়ে একই ধরনের দখলদারি ও সন্ত্রাস ফিরে আসে, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। যৌথ বিবৃতিতে মিনার-ফুয়াদ বলেন, সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে সরকার দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। তাই এ অভিযোগকে আমলে নিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীদের পরিত্রাণের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের বিচার হতে হবে। কেউ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত হোক কিংবা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। তারা বলেন, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় শতাধিক মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করবে, মানুষকে কুপিয়ে আহত করবে কিংবা অফিসে ঢুকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করবে; এসব নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা হতে পারে না। এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। চাঁদার দাবিতে যদি সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে এমন তাণ্ডব চালানোর সাহস পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে। রাজধানীতেই যদি অস্ত্রের মহড়া, ভাঙচুর ও লুটপাটের এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহনের উৎস শনাক্ত, লুট হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি নেপথ্যের চাঁদাবাজিসহ রাজনৈতিক পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান দলটির এই দুই নেতা। এমআরআর/এমএন
কঠোর অবস্থানে সরকার
বাড়ছে ‘ফ্যাসিবাদী’ কানেকশন কঠোর অবস্থানে সরকার Advertisement ক্ষমতায় আসার শুরুতে কিছুটা উদারতা দেখানো হলেও পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে সরকারকে হার্ডলাইনে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত আওয়ামী লীগের হুমকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশের শৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জানা যায়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশে কর্মরত কিছু পুলিশের গোপন যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি শনিবার খোলাসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই। রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই পুলিশ সদস্যদের পরিবর্তন হতে হবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে, অপেশাদার আচরণ করলে কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে। যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, জনপ্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে পরিণতি ভালো হবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করতে আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট চালু করা হবে। গত কয়েক মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গোপন বৈঠক, ঝটিকা মিছিল ও মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত জুলাই ও চলতি সেপ্টেম্বরে ভারতে অবস্থানরত দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন। তার এই ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির কর্মী-সমর্থকরা নানা ধরনের প্রচারণা শুরু করেন। এদিকে সরকারের অব্যাহত চেষ্টার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় পুলিশবাহিনীকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না এমন প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের কিছু পুলিশের যোগাযোগ আছে কি না, এ নিয়েও কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের একটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হলে পুলিশের একাংশের মনোভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। রাকিব বলেন, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল, ভয়ানক দুর্বল।’ তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলে এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না। সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই।’ সূত্র জানায়, রাকিবের এই বক্তব্যের পরপরই সরকারের শীর্ষ মহলের টনক নড়ে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা পুলিশের ‘গুপ্ত’ সদস্যদের তৎপরতা খতিয়ে দেখা শুরু হয়। নীতিনির্ধারক মহলে অনেক আলোচনা-পর্যালোচনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশবাহিনীর বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিসে অভিযান বা কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে শনিবার গুলিস্তানে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ সন্দেহে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এদিকে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, কোনো পুলিশ সদস্য যদি ফ্যাসিবাদ চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তাহলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগতে অপপ্রচার ঠেকাতে বিশেষ আইন প্রয়োগ এবং নতুন ‘সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘাপটি মারা পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে একটি বিশেষ সেল কাজ করছে। নাশকতার ছক ভাঙতে ডিএমপি, ডিবি, সিটিটিসি এবং বিশেষায়িত ব্যাটালিয়নগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে পুলিশের উদ্দেশে। সূত্র জানায়, সরকার জানতে পেরেছে, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বসে থাকা সুবিধাবাদী কর্মকর্তা ও ‘গুপ্তরা’ নতুন করে তৎপর হয়ে উঠছেন। কর্মরত পুলিশের মিড লেভেল ও কিছু স্পর্শকাতর থানায় পুরোনো নেটওয়ার্কের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরই একটি বড় উদাহরণ হলো ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানের অডিও রেকর্ড। অতি স্পর্শকাতর একটি থানা এলাকায় পুরোনো ব্যবস্থার প্রতি অনুগত মনোভাব বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওসি ও তার ঘনিষ্ঠজনরা। জানা যায়, কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং পুলিশি চেকপোস্টের ভেতরেও রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, পল্টন, ধানমন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ দলের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তদন্তে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ের কিছু পুলিশ সদস্য তথ্য গোপন করেছেন। পুলিশের ভেতরে থাকা ওই ‘গুপ্ত’ সিন্ডিকেট যোগাযোগ রাখছেন নিষিদ্ধ দলের সদস্যদের সঙ্গে। তাদের যোগাযোগ বাড়ছে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পালিয়ে যাওয়া পুলিশের সাবেক শীর্ষ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজপথের কৌশলের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া অডিও-ভিডিও তৈরি করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার পাঁয়তারা চলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার ইউনিট’ গঠন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ইউনিটের মূল কাজ হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেশবিরোধী অপপ্রচার এবং গুজব তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত ও প্রতিহত করা। সাইবার অপরাধীদের আইপি অ্যাড্রেস ও মূল উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করবে এই ইউনিট। এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি সংক্রান্ত আইনি কাঠামো ব্যবহার করে ত্বরিত বিচার নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, নতুন সাইবার ইউনিটকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হবে। কারণ, রাজপথের চেয়ে এখন সাইবার স্পেসে বেশি বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগ ও ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ‘ফ্যাসিবাদ’ সরকারের সময় অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার এই অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ধ্বংসে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত পলাতক নেতা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ঝটিকা মিছিল এবং গোপন তৎপরতার পেছনে পুলিশের ভেতরে ঘাপটি মারা কিছু সদস্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। কূটনৈতিক জোন গুলশান বা সংবেদনশীল এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে এসব মিছিল হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ভেতরে ঘাপটি মারা চক্র মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আরও উঠে এসেছে, ঝটিকা মিছিল বা নাশকতার ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই আগাম বার্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। ঘাপটি মারা চক্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে ব্লক বা অন্ধত্ব তৈরি করছে। উলটো অপরাধীদের আগাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে চক্রটি। শুধু তাই নয়; নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভাঙতে নানা ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এ কারণে সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তারাও এক ধরনের মানসিক অস্বস্তি ও আস্থার সংকটে পড়ছেন। আর এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাঠপর্যায়ের পুলিশিং কার্যক্রমে। জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, পুলিশবাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা ‘গুপ্ত’ সিন্ডিকেটের তৎপরতা স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির অডিও-কাণ্ড এবং বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের পেছনে পুলিশের অসাধু সদস্যদের যোগসাজশের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, যখন মাঠপর্যায়ের কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধীদের আগাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করে, তখন তা কেবল পেশাদারির লঙ্ঘন নয়, এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি। তবে সরকারের বর্তমান হার্ডলাইন নীতি, বিশেষ করে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত এবং স্বতন্ত্র ‘সাইবার ইউনিট’ গঠনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুষ্টচক্রের পেছনে থাকা অবৈধ অর্থায়নের নেটওয়ার্ক এবং পলাতক মাস্টারমাইন্ডদের আন্তর্জাতিক সহায়তায় আইনের আওতায় আনতে হবে।
