কারা রেখেছিল মতিঝিলের ‘ছাতা বোমা’?
Why this classification
A powerful IED was recovered in Motijheel that was intended to target a religious procession, indicating a planned terrorist attempt.
Killed
0
Injured
1
Summary
মতিঝিলে রথযাত্রার পথ লক্ষ্য করে একটি ছাতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা শক্তিশালী আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় একজন পথচারী আহত হয়েছেন।
AI analysis
Category
Terrorism / Extremist Attacks
Confidence
95% · severity 7
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Sanatan Hindus
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 24/07/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
গুরুত্বপূর্ণ-জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জামায়াতের
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘মেট্রো স্টেশনসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সরকারের প্রতি আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।’ আজ শনিবার গণামাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। শক্তিশালী ‘পাইপ বোমার’ পাশ দিয়েই গেছে রথযাত্রা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাজধানীর অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে এ ধরনের প্রাণঘাতী বিস্ফোরক বা বোমা উদ্ধারের ঘটনা চরম উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। এ ধরনের হীন ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্যই হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া।’ মতিঝিলে ‘বোমা’ নিষ্ক্রিয় করার সময় পথচারী আহত গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার যেকোনো দেশবিরোধী চক্রান্ত ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদা সজাগ ও তৎপর থাকতে হবে। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। মেট্রো স্টেশনসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সরকারের প্রতি আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়করণকালে স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত পথচারীর প্রতি আমি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং তাঁর সুষ্ঠু ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে ‘বোমা’, বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ জাতীয় নাশকতা চালানোর সাহস না পায়।’ জামায়াতের এই নেতা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি যেকোনো উসকানি ও নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কারা রেখেছিল মতিঝিলের ‘ছাতা বোমা’?
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা মতিঝিল থেকে শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধারের আট দিন পার হলেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে নগরের নিরাপত্তা নিয়ে। এক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর অকেজো থাকা। ফলে বিস্ফোরকটি কে বা কারা রেখে গেছে, তারা কোন দিক দিয়ে এসেছে কিংবা ঘটনার আগে-পরে তাদের গতিবিধি কেমন ছিল, তার কোনো ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার মতো কার্যকর আলামতও মেলেনি। আরও পড়ুন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে জানান, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই আইইডিটি রাখা হয়েছিল। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। আর ঠিক সেই পথেই একটি ছাতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল শক্তিশালী এই বিস্ফোরক। আইইডিটির ভেতরে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি সালফার, বৈদ্যুতিক সার্কিট, দুটি ৯ ভোল্ট ব্যাটারি এবং জিআই পাইপের ভেতরে অসংখ্য লোহার বিয়ারিং বল ব্যবহার করা হয়েছিল তিনি জানান, দায়িত্বে থাকা এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ছাতার ভেতর থেকে লাল আলো জ্বলতে দেখে সন্দেহ করেন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানান। পরে সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে রথযাত্রার পথ পরিবর্তন করা হয় এবং শর্ট সার্কিটের অজুহাত দেখিয়ে এলাকাটি দ্রুত খালি করা হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি নিষ্ক্রিয় করে। যদিও নিষ্ক্রিয় করার ওই প্রক্রিয়ায় এক পথচারী আহত হন। আইইডিটি অত্যন্ত সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কেউ কৌতূহলবশত ছাতাটি খুলতে গেলে কিংবা হাতলের সুইচে চাপ দিলেই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে সিটিটিসির বোমা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইইডিটির ভেতরে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি সালফার, বৈদ্যুতিক সার্কিট, দুটি ৯ ভোল্ট ব্যাটারি এবং জিআই পাইপের ভেতরে অসংখ্য লোহার বিয়ারিং বল ব্যবহার করা হয়েছিল। বিস্ফোরণে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতেই এসব স্প্লিন্টার ব্যবহার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে খয়েরি রঙের ছাতার পোড়া কাপড়, ছাতার বাঁট, ব্যাটারির খণ্ডাংশ, ছাতার রড, জিআই পাইপের টুকরা এবং ১২টি বিয়ারিং বল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আইইডিটি অত্যন্ত সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কেউ কৌতূহলবশত ছাতাটি খুলতে গেলে কিংবা হাতলের সুইচে চাপ দিলেই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া এটি কোনো সাধারণ বিস্ফোরক ছিল না; বরং সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরি করা হয়। তবে ঘটনার আট দিন পরও তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে পারেননি, এটি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সুপরিকল্পিত হামলা ছিল নাকি অন্য কোনো নাশকতাকারী চক্রের কাজ ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে। ঘটনার পরপর মতিঝিল থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, তদন্ত চলছে। তবে এই মুহূর্তে নতুন করে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই। এখন পর্যন্ত কেউ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি। সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। এটি কোনো সংগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠীর কাজ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। নগর নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশে দীর্ঘদিন বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলা না হলেও উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। কারণ, কয়েক মাস আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এরপর কিছু ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের সময় পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে হলেও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যেগুলো সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে। এর মধ্যে রয়েছে, কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ও পরবর্তীতে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার; তদন্তে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্ভাব্য অনলাইন যোগাযোগের প্রমাণ; পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লিংকের তথ্য যাচাই এবং নতুন উগ্রবাদী সেল হিসেবে আলোচনায় আসা ‘ফাতাহ কমব্যাট গ্রুপ’-এর কার্যক্রম। সর্বশেষ মতিঝিল থেকে শক্তিশালী আইইডি উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জঙ্গি নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা ছিল পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মূল কাজ। তবে বর্তমানে তারা নিয়মিত অন্যান্য অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, ছিনতাই প্রতিরোধ ও নিয়মিত মামলার তদন্ত নিয়ে ব্যস্ত আছে। এতে তাদের মূল দায়িত্বে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল সংকটকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতে সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটিটিসিতে পদায়ন করা হলেও সম্প্রতি সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে অন্যান্য ইউনিটে বদলি করার ফলে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এখন সন্ত্রাসবাদ দমনে গঠিত বিশেষায়িত দুই সংস্থা, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, সিটিটিসির অধীনে শুধু কাউন্টার টেরোরিজম নয়, আরও কয়েকটি বিভাগ রয়েছে এবং সব বিভাগই সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এমএসি/এমএসএ
‘বাংলার এপস্টেইন’ আসিয়ানের নজরুলের কাণ্ড বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় অভিনেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
বর্তমান সময়ের আলোচিত ঢাকাই সিনেমার মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এপস্টেইন কায়দায় টানা দু’ঘণ্টা নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এ সময় অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও শারীরিক নির্যাতন ও তার পায়ের নখ তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। হালের ঢালিউড বেশ কয়েকটি সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে স্নিগ্ধা চৌধুরী যথেষ্ঠ সুনাম অর্জন করেন। পারিবারিক বন্ধন ও দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ এই নারী গসিপ আর সমালোচনার বাইরে ছিলেন দীর্ঘদিন। তবে এবার খোদ এই নায়িকার অভিযোগ, তাকে গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টানা দু’ঘন্টা হাত ও পা বেঁধে পেটানো, কুসুম গরম কফি গায়ে ঢেলে দেওয়া, অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ ও সব শেষে কফিতে নেশাজাত/বিষাক্ত দ্রবণ মিশিয়ে পান করিয়েছেন ভূমি দস্যূতায় অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের আলোচিত ব্যবসায়ী নজরুল। তিনি এসময় আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও নির্যাতন করেন নজরুলের অনুচররা। তুলে ফেলে পায়ের নখ। ঘটনার বর্ণানা দিতে গিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, বছর খানেক আগের পরিচিত ইমন নামের একজন কো-অর্ডিনেটরের ফোনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হওয়ার অফার করা হয় তাকে। এ সময় ইমন জানায়, ২০ লাখ টাকার এই কাজে সে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে দেবে ১৭ লাখ। তবে ডিল ফাইনাল বা চুক্তি করতে যেতে হবে সেই কোম্পানিতে। এ কথার সূত্র ধরে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে নিয়ে ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ স্নিগ্ধা চৌধুরীর বুকিং করা উবারে চড়ে রাজধানীর ৩০০ ফিটের পাশের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান তারা। স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, পৌঁছেই খটকা লাগে তার। তিনি ইমনকে প্রশ্ন করেন, ‘করিডরে ফিংগার প্রিন্ট কেন?’ জবাবে ইমন জানায়, ‘যেহেতু মালিক ভেতরে; তাই হয়তো বাড়তি নিরাপত্তা।’ ভেতরে ঢোকার পর দেখা মেলে সেখানে বসে আছেন আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। আশপাশে আছেন তার বিশ্বস্ত অনুচর পলাশ, পিএস মিয়ামিসহ বেশ কয়েকজন। শুরুতেই সামান্য আলাপচারিতার মাঝেই আসে চা, নাস্তা, কফি, খেজুর বিস্কুট- বলছিলেন ইশরাত। এরপর হঠাৎ করেই নজরুল হুঙ্কার দিয়ে উঠেন। ইসরাতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তোরে কত বছর ধইরা খুঁজতাছি। আমি তোরে দুই বার বিয়া করছি। তোর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া না?’ স্নিগ্ধা চৌধুরীর দাবি, আশিয়ানের চেয়ারম্যান তাকে জেবা তাকিয়া উল্লেখ করে বলেন, ‘ফকিন্নি, তুই আমার কোটি কোটি টাকা খাইছস। এই ইমনরে লইয়া তোর মিরপুরের বাড়ির লাইগগা ৩০ লাখ টেকা দিয়া পর্দা কিনা দিসি।’ জবাবে স্নিগ্ধা জানান, তার বাড়ি উত্তরবঙ্গে। এ সময় নজরুল আবার বলেন, ‘তুই আমার লগে ফাউল করছস। কতদিন কত জাইগা থোন তোরে আমি ধইরা আনসি। তুই আমার থেইকা টেকা লইয়া তোর বিদেশে থাকা নাগররে দিছত। তোর আমারে আবার বিয়া করতে হইব।’ এই কথা বলেই ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প সামনে ফেলেন নজরুল। হাতে তুলে নেন তলোয়ার সদৃশ্য ধারাল অস্ত্র। মুহূর্তে পালটে যায় স্নিগ্ধা চৌধুরীর চেনা জগৎ। সোশ্যাল মিডিয়ার সিনেমাটিক চরিত্র এপস্টেইন চরিত্র যেন তারই সামনে উপস্থিত। নিজের আতঙ্কিত মুহূর্তের কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন তিনি। স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, ‘এ সময় আমি কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি যতবারই বলছিলাম আমি তাকিয়া না, ততবারই ক্ষেপে যাচ্ছিলেন নজরুল। আমার সঙ্গে থাকা ইমন ইশারায় আমাকে তাকিয়ার অভিনয় করতে বলেন। সাদা দলিলে সই করে টিভিসির চুক্তির টাকা নিয়ে বেরিয়ে যেতে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি বাধ্য হয়েই অন্য একটা ভুয়া নাম সই করে দেই বাঁচার জন্য।’ বাসর করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন নজরুল তবে সই করেও শেষ রক্ষা হয়নি। নজরুল এ সময় বাসর করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন- দাবি ভুক্তভোগি স্নিগ্ধা চৌধুরী। রুম থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বেড টাইপ সোফায় গিয়ে বসতে তলোয়ার উচিয়ে নির্দেশ দেন নজরুল। বাসর রাতের চাপ থেকে বাঁচতে পিরিয়ড (মাসিক) চলছে উল্লেখ করায় আরও ক্ষেপে যান নজরুল। তাকে তলোয়ার উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বাধ্য করে সোফায় বসতে। এরপর রশি বের করে বলেন, ‘রশি দেখছস? এটা দিয়ে ফাঁসি দেয়। বহু বড় বড় লোককে এটা দিয়ে ফাঁসি দিসি।’ বলেই স্নিগ্ধা চৌধুরীর আইফোন নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এ সময় মোটা রশি দিয়ে প্রথমে স্নিগ্ধা চৌধুরীর পা বাঁধে নজরুল। রশি শক্ত করে বাধায় ইসরাত নজরুলকে বলেন, ‘আমার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’ এতে আবারও উত্তেজিত হয়ে ইসরাতের ডান গালে চড় কষান নজরুল। সোফায় চেপে ধরে বেঁধে ফেলেন হাত। ওপরে উঠে চেপে ধরেন গলা। সোফায় শোয়া অবস্থায় সে দুটো লাঠি নিয়ে আসেন, স্নিগ্ধা চৌধুরীর দু পায়ের পাতায় মোটা লাঠি দিয়ে লাগাতার মোট ১৪ বার আঘাত করেন তিনি। চুল ধরে বসিয়ে ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডের ওপরের অংশে ৫ থেকে ৭ বার সজোরে আঘাত করে বলে দাবি ইশরাতের। আঘাত করা হয় উঁরু, পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে। নির্যাতনের এ পর্যায়ে উপস্থিত হন নজরুলের নারী পিএস মিয়ামি। নজরুল সেসময় খানিকটা শান্ত হয়ে কফি অর্ডার করলে হাত বাঁধা স্নিগ্ধা চৌধুরী আপত্তি জানান। তখন নজরুলের নির্দেশে স্নিগ্ধা চৌধুরীর হাতে কুসুম গরম কফি ঢেলে দেয় মিয়ামি। পরে সেটি পান করতে বাধ্য করা হয় যাতে মেশানো ছিল নেশাজাত দ্রব্য। কীভাবে পালালেন স্নিগ্ধা চৌধুরী? তিনি জানান, এক পর্যায়ে নজরুল হয়তো বুঝতে পারেন সে প্রকৃত জেবা তাকিয়া নন। তখন খুলে দেওয়া হয় হাত-পায়ের বাঁধন। তখন ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়া দরজা খোলা পেয়ে দ্রুত দরজা টপকে নজরুলের রুম থেকে বেরিয়ে সামনের বারান্দার দিকে দৌঁড় দেন তিনি। তারপর সেই বারান্দা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে পৌঁছে যান ৩০০ ফিট রোডে। সেখানে পার্শ্ব রাস্তায় চলাচলকারী একটি চলন্ত অটো থামিয়ে সেটাতে উঠে বসেন। এভাবেই প্রাণে রক্ষা পান বলে জানিয়েছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। দুদিন আগের এই বর্বরতার হাত থেকে বেঁচে ফেরা স্নিগ্ধা চৌধুরীর পুরো শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন। ঘরে পৌঁছেই সে অচেতন হয়ে পড়ে বলে দাবি তার পরিবারের সদস্যদের। অভিযোগের সূত্র ধরে, ঘটনাস্থলের বিবরণ মেলায় অনুসন্ধানী দল। সেখানে পৌঁছে মেলে বর্ণনার সত্যতা- ঢোকার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিরাপত্তা বলয়, পালানোর বারান্দা, নজরুলের কক্ষ সবই ঠিকঠাক যার যার স্থানেই আছে। এছাড়াও বাস্তবেই আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ দুই কর্মচারীর একজন পলাশ, আরেকজন মিয়ামি। এছাড়াও স্নিগ্ধা চৌধুরীর মুঠোফোনের সেদিনে লোকেশন আর অবস্থানের সময়েরও মিল পায় অনুসন্ধানী টিম। মিলেছে স্নিগ্ধা চৌধুরীর উবার বুকিং এর ডিজিটাল স্লিপও। আশিয়ান মেডিকেলের ভিতরে নজরুলের অফিস কক্ষে রয়েছে সুড়ঙ্গ সাদৃশ্য আলাদা রুম আর সেখানেই তার টর্চার সেলের অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন মাস্টার বলেন, এই জাইল্যা নজরুল প্রায়ই বিভিন্ন লোককে তার টর্চার সেলে এনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। কেউ তার ভয়ে টু শব্দ করে না। মামলা তো অনেক পরের বিষয়। এলাকাবাসী তাকে বর্বর জাইল্যা হিসেবে চেনে। তার এসব পাষবিক অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। তার প্রতিষ্ঠানের ষ্টাফদেরও প্রায়ই এরকম নির্যাতন করা হয়। সে একজন সায়কোপ্যাথ। এদিকে ভিডিও কলে ইমনকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে মিলেছে তার উপর চলা নির্যাতন ও নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ। ইমন এখনও অচেতন। তবে অনুসন্ধান বলছে এই ইমনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা নজরুলের। পাশার চাল পালটে যাওয়ায় নজরুলের প্রকৃত শিকার জেবা তাকিয়াকে না পাওয়ায় কি এ নির্যাতন? নাকি ঘটনাস্থল থেকে স্নিগ্ধা চৌধুরী জীবিত পালিয়ে আসায় নজরুলের এপস্টেইন চরিত্রের হিংস্রতার শিকারে ইমন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে আইন প্রয়োগকারীরা। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, এ সকল অভিযোগ মিথ্যা। পরবর্তীতে স্নিগ্ধা চৌধুরীর লোকেশন ট্র্যাকিং এর কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমি তাকে ৪ বছর আগে চিনতাম। তখন তাকে বলা হয় আপনি তো তাকে জেবা তাকিয়া ভেবে মেরেছেন? সে তো জেবা তাকিয়া না, তখন সে আগামীকাল সকালে দেখা করার কথা বলে লাইন কেটে দেন। এ ঘটনায় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়ক থেকে এই বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছেছবি: ডিএমপির সৌজন্যে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল। পুলিশ বলেছে, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। ডিএমপি সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচে সড়কে একটি ছাতার ভেতরে একটি বোমা রাখা ছিল। এটি দেখে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখেন। ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় ওই সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই ছাতার ভেতরে রাখা হয়েছিল বোমাটি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছেছবি: ডিএমপির সৌজন্যে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার করা বোমাটি আইইডি প্রকৃতির। পরে সেটি সেখান থেকে সরিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ছাতার ভেতরে কে বা কারা বোমা রেখেছে, তাদের শনাক্ত করতে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় বোমার স্প্লিন্টার চোখে লেগে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করছে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছেছবি: ডিএমপির সৌজন্যে পথচারী আহত বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করার সময় মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হয়েছেন। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মিরাজের বন্ধু শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মিরাজ আহমেদসহ তাঁরা তিন বন্ধু টিকাটুলীর রাজধানী মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। রাত আটটার দিকে রিকশায় মতিঝিল মেট্রোরেলের নিচে নামা মাত্রই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এ সময় কিছু একটা মিরাজের বাঁ চোখে লাগে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। মিরাজ মতিঝিলের আরামবাগে থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় হয়তো আহত ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কাছে ছিলেন। এ সময় তাঁর চোখে স্প্লিন্টার লাগতে পারে। এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বোমা উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় কোনো বিস্ফোরক আছে কি না, তা শনাক্তে ডিএমপির ডগ স্কোয়াড তল্লাশি চালায়। বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ডিএমপির কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচের সড়ক দিয়ে উল্টো রথযাত্রা অতিক্রম করার পর ছাতায় রাখা বোমাসদৃশ বস্তুটি সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের নজরে আসে। ডিএমটিসিএলের বক্তব্য ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মতিঝিল স্টেশনের নিচতলায় (গ্রাউন্ড ফ্লোর) ডিজেল জেনারেটর রুমের পাশে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে একটি ছাতা ও একটি বালতি দেখতে পাওয়া যায়। ছাতার ভেতরে আলো জ্বলতে থাকায় বস্তুটি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়। মেট্রোরেলের দায়িত্বরত আনসার সদস্য বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশন কন্ট্রোলার ও এমআরটি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে মতিঝিল থানা-পুলিশ, এমআরটি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরে বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল, ডিএমপি ও ডিএমপির ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বোমা শনাক্ত করে এবং নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে বোমা নিষ্ক্রিয় করে। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন অপরাধ থেকে আরও পড়ুন সন্ত্রাসবাদরাজধানী ঢাকাসন্ত্রাসঅপরাধরাজধানী
