মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ওপর ডিম নিক্ষেপ
Why this classification
This incident was classified as political violence in Dhaka. Parties reported: Angry Protesters, Police, Retired Lt Gen Masud Uddin Chowdhury. Reported by 2 sources.
Killed
0
Injured
0
Summary
মানব পাচার মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর আদালত থেকে হাজতে নেওয়ার পথে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ওপর পচা ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এক ব্যক্তি রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে এই হামলা চালায়।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
89% · severity 2
Parties involved
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 24/03/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ উদ্দিনের গায়ে ময়লা পানি-ডিম নিক্ষেপ
আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ উদ্দিনের গায়ে ময়লা পানি-ডিম নিক্ষেপ ছবি: সংগৃহীত সমকাল প্রতিবেদক প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ | ২২:৫৫ ২০০৭-০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকায় পাঁচটি ও ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গায়ে এক ব্যক্তি ময়লা পানি ও ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় তার গায়ে থাকা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের সামনে এবং পেছনে ময়লা দেখা যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাজতখানায় নিয়ে যান। ওয়ান-ইলেভেনের ‘অন্যতম কুশীলব’ হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেনীর বিচারাধীন তিনটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। ফেনীতে আরও তিনটি এবং ঢাকায় পাঁচটিসহ আটটি মামলা তদন্তাধীন। ঢাকার পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) অভিযোগ রয়েছে। পল্টন থানার মামলায় তিনি তিন নম্বর আসামি। সেখানে মোট ১০১ জন আসামি রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো অনেক আগের। এমন নয় যে, এগুলো পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। এগুলোর বেশির ভাগের বাদী সাধারণ মানুষ। আমরা কোনো ব্যক্তি বা কারও অবস্থান দেখি না; বরং তার কৃতকর্ম বা অপরাধের বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ অর্থ ও মানব পাচারের মামলার কথা বললেও রাজনৈতিক কারণে কিংবা ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে ভূমিকার জন্য মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নে শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব মামলা আছে সেগুলোই তারা তদন্ত করছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা ও সবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাটাই তাদের লক্ষ্য। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটক হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে অনেকে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ ইস্যু সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন। তাদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওই সময়ে আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেই দায়ী করছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মঙ্গলবার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ১/১১-তে গণতন্ত্র হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার শুরু করার জন্য।’ এদিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার মানব পাচার আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ‘গ্রেপ্তারের পর মামলার ঘটনার বিষয়ে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি চালাক প্রকৃতির লোক হওয়ায় নিজেকে আড়াল করে মামলার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। এ অবস্থায় মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ ও চাঁদার টাকা উদ্ধার, মূল অপরাধী চক্র শনাক্তসহ অন্য আসামি গ্রেপ্তারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। এ জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’ রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘তথাকথিত এক-এগারো সরকারের সময় এই আসামিসহ (জেনারেল মাসুদ) অন্যরা মিলে ট্রুথ কমিশন গঠন করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্যাতন করতো। তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো। বিশেষ করে মাইনাস টু ফর্মুলার নামে জিয়া পরিবারকেই শেষ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস। যাকে (তারেক জিয়া) টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছিল, তিনিই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী।’ অন্যদিকে মাসুদ উদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত বছরের আগস্টে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রাজধানীর বনানী থানায় ওই মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযুক্তদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন ছাড়াও তার স্ত্রী জেসমিন মাসুদ ও মেয়ে তাসনিয়া মাসুদকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মাসুদ উদ্দিন তার জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৩৭২ কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠান। ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন মাসুদ উদ্দিন। ওই সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি তখন গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান হন। মেজর জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করা হয়। ওই কমিটির অধীনে তখন চালানো হয় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দি অবস্থায় তারেক রহমানকে নির্যাতনের ঘটনায় মাসুদ উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিনকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসেও তাকে সেই দায়িত্বে বহাল রাখে। তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তৎকালীন সরকার। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার পর তিনি ঢাকায় পাঁচতারকা হোটেল ও জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দিয়ে ফেনী-৩ আসনে (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি ফেনী-৩ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও আসামি করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগও আনা হয়। সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ‘শান্তির স্বপ্নে’ গ্রন্থে ওই সময় মাসুদ উদ্দিনের নানা ভূমিকার কথা উঠে আসে। বইয়ে তিনি লিখেছেন, তারা তখন প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার জন্য শুরুতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে রাজি হননি। ড. ইউনূস অস্বীকৃতি জানানোর পর ড. ফখরুদ্দীনের নাম উঠে আসে। মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ড. ফখরুদ্দীনের বাসায় যান এবং রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তখন গভীর রাত। আমি ড. ফখরুদ্দীনের বাসায় ফোন করলাম। তিনি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আমিও তাকে প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে আমন্ত্রণ জানালাম। এই বইতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তখনকার সেনাপ্রধান লিখেছেন, ‘এ সময় দেশের গোয়েন্দা বিভাগ ও সাভার ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে সর্বাত্মক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। সাভার ডিভিশনের জিওসি দীর্ঘদিন ডিজিএফআইতে কর্মরত থাকার সুবাদে তার মতামত এ পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ওপর ডিম নিক্ষেপ
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ওপর পচা ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। মানব পাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আদালত থেকে হাজতে নেওয়ার পথে তাঁর ওপর পচা ডিম নিক্ষেপ করেন এক ব্যক্তি। জানা গেছে, তাঁকে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এর মধ্যে এক ব্যক্তি ডিম নিক্ষেপ করতে থাকেন।বয়স্ক এবং দাড়িওয়ালা ওই ব্যক্তি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলকে বলেন, তিনি ১০টি পচা ডিম নিক্ষেপ করেছেন। ডিমগুলো তিনি বাসা থেকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ছয়-সাতটি ডিম তাঁর গায়ে লেগেছে। বাকিগুলো পুলিশের গায়ে লেগেছে। অসাবধানতাবশত পুলিশের গায়ে লাগায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও কিছু মারা হবে। কেন পচা ডিম মারা হলো—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে একসময় রিমান্ডে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এই রাগে তিনি পচা ডিম মেরেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করেননি।বিকেল ৫টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।গতকাল সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
‘যাকে টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছে, আজকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী’
জাতীয় ‘যাকে টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছে, আজকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী’ নিজস্ব প্রতিবেদক ২৫ মার্চ ২০২৬, ০০:১৫ অ+ অ- রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার আইনের মামলায় এক-এগারোর সময়ে আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বিজ্ঞাপন মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রিমান্ড শুনানিতে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সে যাকে টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছে, আজকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। এদিন বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক রায়হানুর রহমান মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে ফারুকী বলেন, এই লোকটাকে আমরা ওয়ান ইলেভেনে দেখেছি। তিনি ট্রুথ কমিশন করেছিলেন। ট্রুথ কমিশন করে তারা বলেছিলেন, যারা যারা দোষ স্বীকার করে টাকা দিবে তাদের মাফ করে দেয়া হবে। এইভাবে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা তার নেতৃত্বে আদায় করে। বিজ্ঞাপন সেনাসমর্থিত সেই সরকারের সময়ে একটা টাস্কফোর্স করা হয়। সে ছিল টাস্ক ফোর্সের প্রধান। টাস্ক ফোর্স বলতে মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন করা, তাদের থেকে টাকা আদায় করা, এভাবে যে কাজটা করেছে তারা, তার প্রধান ছিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এভাবে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় করে সে মেরে দিয়েছিল এবং বিদেশে পাচার করেছিল। তিনি আরও বলেন, ওয়ান-ইলেভেন বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যবসায়ী নেই, যে ব্যবসায়ীকে তারা ধরে নিয়ে আসেনি এবং তার কাজ থেকে টাকা আদায় করেনি। এর পেছনে যে মূল হোতা ছিল সে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ফারুকী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের হয়রানি করা, টর্চার করা এবং তাদেরকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং মাইনাস টু যে ফর্মূলা নিয়ে এসেছিল। বিশেষ করে পরবর্তীতে একটা পক্ষের সঙ্গে আপস করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়া এবং তাদেরকে মেরে ফেলার যে প্লান ছিল, সেই প্লানের নীল নকশার প্রধান ছিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু দেশের মানুষ এ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করার ফলে একসময় তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতায় বসায়। এর পুরস্কারস্বরূপ তাকে অষ্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত করে। পরবর্তীতে সে বাংলাদেশে আসে। চব্বিশের আমি-ডামির নির্বাচনে গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলে ভোট চুরি করে তাকে ফেনী-৩ আসনে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞাপন তিনি বলেন, সে প্রথম থেকেই অসৎ এবং সেই অসৎ চিন্তাভাবনা থেকেই সে কাজ চালিয়ে গেছে। টোটাল পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয় সে যাকে টর্চার করে হত্যা করতে চেয়েছে আজকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হোতা। ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়েন। ব্যবসার নামে তাদের এই অপকর্মের কারণেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। একজন আসামির স্বীকারোক্তিতে তার নাম এসেছে। এ চক্রের হোতাদের বের করাসহ মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা আবশ্যক। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন রিমান্ড বাতিলসহ জামিন চান। তিনি বলেন, এই মামলা একবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) হয়েছে। এরপর পুনঃতদন্ত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সাজানো। তার বয়স ৮০ বছর। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। আমরা রিমান্ড বাতিলসহ জামিন চাচ্ছি। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিকে শুনানি শেষে আদালতের এজলাস থেকে তাকে পুলিশ প্রহরায় হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার গায়ে ময়লা পানি ও পঁচা ডিম নিক্ষেপ করা হয়। মাসুদ উদ্দিনকে লক্ষ্য করে ছোড়া ময়লা পানি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের গায়েও লাগে। এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.), আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়। বাদী আলতাব খান অভিযোগ করেন, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিরা মাফিয়া সিন্ডিকেট চক্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে সংবিধানের মূলনীতি পরিপন্থি জঘন্য অপরাধ করেছে। মালার আসামি সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সরকারি চাকুরিরত অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছেলেকে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার পরিবারের সদস্য অর্থাৎ তাহার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবর্হিভূতভাবে একটি প্রবাসী নামক অ্যাপস চালু করার অনুমোদন দিয়ে চক্রকে সহযোগিতা করেছে। বাদী আরও উল্লেখ করেন, পরস্পর যোগসাজশে তার সরলতার সুযোগে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে প্রত্যেকের দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছে। এছাড়া তারা সংঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে আত্মসাৎ করেছে। এনআর/এসএইচএ
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গায়ে ময়লা পানি নিক্ষেপ
এক-এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচারের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আদালত প্রাঙ্গণে এক ব্যক্তি তাঁর গায়ে পেছন থেকে ময়লা পানি নিক্ষেপ করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তিকে থামাতে ব্যর্থ হয়। মাসুদ চৌধুরীর বুলেট প্রুফ জ্যাকেটসহ হাত-গায়ে ময়লা পানি লাগে।
