রৌমারীতে বিএসএফের পুশইনে ৫ যুবক শূন্যরেখায় আটক
Why this classification
ঘটনাটি ১৪ জুন ২০২৬-এ সংঘটিত হয়েছে, যা রেফারেন্স তারিখের ১৪ দিনের মধ্যে, তাই সাম্প্রতিক হিসেবে গণ্য। বিএসএফের পুশইন এবং বিজিবির বাধা প্রদান একটি সীমান্ত সংঘাত, যা রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত। কোনো হতাহত বা আঘাতের খবর না থাকলেও, এটি একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাতের ঘটনা।
Killed
0
Injured
0
Summary
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের পুশইনের শিকার ৫ যুবক ৯ দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে আছেন। বিজিবি ও বিএসএফের পাহারায় তাদের চরম মানবেতর অবস্থা চলছে।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
85% · severity 4
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Law Enforcement
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 14/06/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (3 sources)
সন্তানরা রোদে পুড়ছে বৃষ্টিতে ভিজছে, কী হবে জানি না
শূন্যরেখায় অসহায় মা সন্তানরা রোদে পুড়ছে বৃষ্টিতে ভিজছে, কী হবে জানি না কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখা ছবি : সমকাল সমকাল ডেস্ক প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৪:৩৬ একপাশে কাঁটাতারের বেড়া, আরেক পাশে সশস্ত্র প্রহরা। কোনো দিকে যাওয়ার উপায় নেই। মাথার ওপরও নেই স্থায়ী কোনো ছাদ। গা কখনও তপ্ত রোদে পুড়ে যায়, আবার কখনও ভিজে যায় বৃষ্টিতে। এই অবস্থায় দুই শিশুসন্তানকে বুকে জড়িয়ে তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে আছেন সুমি আক্তার। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সীমান্তের গয়টাপাড়া এলাকার সীমান্তে গত রোববার ভোর থেকে স্বামী-সন্তানসহ অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর। সুমির সঙ্গে রয়েছেন স্বামী বিল্লাল হোসেন, চার বছরের মেয়ে ফাতেমা এবং মাত্র পাঁচ মাসের সুমাইয়া। গতকাল মঙ্গলবার নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, বাচ্চাগুলোর জন্যই বেশি কষ্ট হয়। রোদে পুড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজছে। কখন কী হবে, জানি না। সুমি জানান, অপুষ্টি আর খাদ্য সংকটে ভুগছে তাঁর দুই সন্তান। খিদার জ্বালা সইতে না পেরে ছটফট করছে। তিনি আরও বলেন, ‘কী রইদ (রোদ) কী বৃষ্টি! আল্লাহ মাফ করুক। মাইয়্যাটা রুটি-কলা খায়া কোনোমতে বেঁচে আছে। ছোট বাচ্চাটা পাঁচ মাস হইলো দুধ ছাড়া কিছু খায় না।’ পরিবারটির দাবি, তাদের জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। শুধু সুমির পরিবারই নয়, একইভাবে আরও কয়েকজনকে সীমান্তে এনে রেখে গেছে বিএসএফ। জানা গেছে, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পরও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন দিন ধরে ছোট দুটি শিশুকে নিয়ে সুমির এই দুর্বিষহ অবস্থান তাদের নাড়া দিয়েছে। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ পানি। মানবিক বিবেচনায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন সীমান্ত এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাচ্চাগুলো যেভাবে আছে, সেটা খুব কষ্টের। দ্রুত একটা সমাধান হওয়া দরকার। আরেক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু ও নারীদের এভাবে সীমান্তে ফেলে রাখা মানবিকতার পরিপন্থি। আমরা চাই দ্রুত তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা হোক। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী এক বিজিবি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের খাবার, পানি ও একটি ছাতা দেওয়া হয়েছে। শিশুগুলোর কষ্ট দেখে খারাপ লাগে। বিজিবি সূত্র জানায়, গত রোববার ভোরে গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি সেই চেষ্টা প্রতিহত করে। এর পর থেকেই তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিএসএফকে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুশইনে সহায়তা করায় সাত বাংলাদেশি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এদিকে বিএসএফের পুশইন কার্যক্রমে সহায়তা করার অভিযোগে সাত বাংলাদেশিকে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কয়েকজন মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি টহল দলের বাধায় ওই নারীকে নিয়ে ফিরে যায় বিএসএফ। এর আগে ১৩ জুন একই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তখনও তাদের সে চেষ্টা পণ্ড করে দেয় বিজিবি। পরে বিএসএফ ওই ১৫ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পুশইনে সহায়তা করার অভিযোগে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিজিবি। পরে তাদের গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটককৃতরা হলেন– গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের বাবুল আক্তার, এমদাদুল হক, রয়েল, আজম, আলম, আসমাউল ও মেজবাউল। গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম জানান, বিএসএফের পুশইন কার্যক্রমে সহায়তা করার অভিযোগে সাত বাংলাদেশিকে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। সোমবার রাতেই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। জামালপুরে বাংলাদেশে ঠিকানা না থাকা যুবককে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মধ্যেরচর সীমান্তে গত সোমবার রাতে এক যুবককে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই যুবক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই যুবক বাংলাদেশের কোনো ঠিকানা দিতে পারেননি। এ দেশের কোন জেলায় বা কোন এলাকায় তার বাড়ি তা–ও জানাতে পারেননি। তবু বিএসএফ তাকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মধ্যেরচর এলাকায় আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা অতিক্রম করে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে আটকে দেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি বলে দাবি করলেও নিজের নাম-ঠিকানা বা পরিচয় দিতে পারেননি। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা তাকে পুনরায় শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেয়। জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ এখন কৌশল বদলে দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে ওই এলাকায় একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কড়া নজরদারি ও বাধার মুখে তা সফল হয়নি। উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর আবার পুশইনের চেষ্টা শুরু করে বিএসএফ। বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতের নারী, পুরুষ ও শিশুকে এ দেশে ঠেলে দিতে চায় ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনি। তবে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে তাদের ভারতে ফেরত পাঠায় বিজিবি। এ নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কোথাও কোথাও মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উত্তেজনা ছড়ায় সীমান্ত সংলগ্ন দুই পারের মানুষের মধ্যেও। অবৈধ পুশইন বন্ধে বরাবরই সোচ্চার বিজিবি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও সমালোচনা করে এই প্রবণতার। তবু থেমে নেই বিএসএফের পুশইন চেষ্টা। প্রায় প্রতি দিনই সীমান্তের কোনো না কোনো স্থানে পুশইনের চেষ্টা করে তারা। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী সদাসতর্ক থাকায় তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। এদিকে পুশইনের জন্য সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের শূন্যরেখায় রেখে কড়া পাহারায় থাকে বিএসএফ। মানুষগুলো রোদ–বৃষ্টিতে ভিজে মানবতের জীবন কাটালেও ভারত সরকার তাদের ফেরত নেওয়ার তাগিদ অনুভব করে না। বিভিন্ন স্থানে বিজিবি–বিএসএফ পতাকা বৈঠকের পরও ভুক্তভোগীদের অভুক্ত অবস্থায় দেখা গেছে শুন্যরেখায়। ২০২৬ সালে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জামালপুর, সিলেট ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে এ বছর কোনো সীমান্ত দিয়েই পুশইনে সফল হতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনি। এর আগে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে ২০২৫ সালে ২ হাজার ৩৫৬ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পুশইন করা হয়। (প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)
পুশইনের শিকার পরিবারগুলোর আর্তনাদ ‘আমাগো বাঁচান’
মাথার ওপর নেই ছাদ, নেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। প্রচণ্ড গরম আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন দুই শিশুসহ ৯ জন। তাদের দাবি, ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের পর বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু এখন কোনো পক্ষই দায়িত্ব নিচ্ছে না। গত রোববার (১৪ জুন) ভোর রাত ৪টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ রৌমারী গয়টাপাড়া ও ভুন্দুর সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। পুশইনের সময় বিজিবি ও স্থানীয়রাদের বাধা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশু ও নারীরা। একবার কাঁটাতারের দিকে আরেকবার শূন্যরেখায় ঠেলাঠেলিতে চরম আতঙ্কে ছিল পুশইনের শিকার অসহায় মানুষগুলো। গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইনের শিকার ছয়জনের মধ্যে ২ জন শিশু ১ জন নারী ও ২ জন পুরুষ রয়েছেন। পুশইনের শিকার সুমি আক্তার বলেন, ‘গত তিনদিন ধইরা আমরা এই গরমের মধ্যে এই জায়গাটায় আছি। কোলে ৬ মাসের একজন ও ৪ বছরের বাচ্ছা রইছে। খাবার নাই, পানি নাই, মাথার উপর ছাদ নাই। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কিছুই খাবার দিতে পারতেছি না। অনেকে বিস্কুট রুটি দিতাছে তাই দিয়ে ক্ষুধা মিটাইতাছি।’ সুমি আক্তার আরও বলেন, ‘২৭ দিন আগে সিলেট দিয়া বাবা-মাসহ কাজের সন্ধানে অবৈধপথে ভারত যাই। ইন্ডিয়ান পুলিশ টের পাইয়া আমাগো বিএসএফর হাতে তুইলা দেয়। এখন আমাগো কেউ লইতাছে না’ সুমির স্বামী বেলাল জানান, ‘ছোট পোলাপান লইয়া খুব দুর্ভোগে পইরা আছি। পানি নাই, বউ ছাওয়াল নিয়া খুব অসুবিধায় আছি। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরমে বাচ্চা দুইডা অসুস্থ হয়া রইছে। জীবনে অনেক বড় ভুল করছি, বাঁচি থাইকলে এই কাজ আর করুম না। আমাগো বাঁচান।’ গয়টা পাড়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেন, তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে রোববার (১৪ জুন) সকালে বিজিবি ও বিএসএফের পক্ষ থেকে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের ঘটনাটি অস্বীকার করায় বৈঠকটি সমাধান ছাড়াই ব্যর্থ হয়। বিজিবি অবৈধ পুশইন বন্ধ করে শূন্য রেখায় অবস্থানরত ৯ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনদিন গড়িয়ে গেলেও সেই ৯ নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়নি বিএসএফ। গয়টা পাড়ার বাসিন্দা ছক্কু মিয়া বলেন, তিনদিন হয়ে গেল দুই দেশের কোনো সরকারই তাদেরকে নিচ্ছে না। এরা চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন পার করছে। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করে অসহায় বাচ্চা দুইটির মুখের দিকে তাকিয়ে দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। রৌমারী শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া বলেন, ‘কোলের বাচ্চাসহ লোকগুলা খুব কষ্টে খোলা আকাশে দিনরাত পার করছে। গরমে ঘামে বাচ্চা দুটো কাঁনতেছে। ঠিক মতো খাবার নাই, পানি নাই, টয়লেটের ব্যবস্থা নাই, অন্ধকার রাতে সাপ বিচ্ছুর ভয়, মশার কামড়ে তাদের যায় যায় অবস্থা। বিএসএফও ফিরিয়ে নিচ্ছে না, সমাধান না হওয়ায় এই বাচ্চাগুলোর বড় একটা বিপদ হয়ে যেতে পারে।’ এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলমান রয়েছে।’ মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ
শূন্যরেখায় ৯ দিন অনিশ্চয়তায় পাঁচ যুবক
রৌমারীতে বিএসএফের পুশইন শূন্যরেখায় ৯ দিন অনিশ্চয়তায় পাঁচ যুবক Advertisement রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার ৫ যুবক ৯দিন আটকে আছেন। তাদের মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন। এদিকে বিজিবি-বিএসএফের পাহারায় দিন কাটছে এ যুবকদের। অপরদিকে তীব্র রোদ, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা। সেখানে নেই খাবারের ব্যবস্থা, গোসল কিংবা স্যানিটেশন সুবিধাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। এদিকে এই পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফ। ১৪ জুন ভোর সাড়ে ছয়টায় গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ২ শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনসহ মোট ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয় বিজিবি ও এলাকাবাসী। পরে তাদের আশ্রয় হয় দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে। ঘটনার ৪দিন পর ১৮ জুন রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২ শিশু ও তাদের মা-বাবাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে বিজিবি।
