অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

AI-classifiedconfidence 89%

Why this classification

This incident was classified as criminal violence in Chattogram. Parties reported: অজ্ঞান পার্টি, সাধারণ নাগরিক. Reported casualties: 0 killed and 1 injured. Reported by 2 sources.

Reported by:Ajker PatrikaProthom AloSamakalCorroborated · 3 sources
27/07/26•Shahid Wasim Flyover, Muradpur

Killed

0

Injured

1

Summary

চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নাজিয়াত শওকত তারিম নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। দুর্বৃত্তরা তার নাক-মুখে রুমাল চেপে অচেতন করে মোবাইল, টাকা ও পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছিনিয়ে নিয়ে কালুরঘাট এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

AI analysis

Category

Criminal Violence

Confidence

89% · severity 4

Parties involved

অজ্ঞান পার্টিসাধারণ নাগরিক

Tags

Robbery

Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.

হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান

জেলা কোনটি?

আপনার মত দিন

নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

আহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 1

Be the first to vote

অপরাধী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ভুক্তভোগী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ঘটনার তারিখ কি সঠিক?

AI: 27/07/26

Be the first to vote

ঘটনার ধরন কোনটি?

আপনার মত দিন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

Original news text (3 sources)

Source 1: Samakal · 25/07/26open original ↗

চবি ছাত্রীকে বাসে হেনস্তা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

চবি ছাত্রীকে বাসে হেনস্তা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০০:২৩ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে লোকাল বাসে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। প্রথমে বাসে অসম্মানজনকভাবে স্পর্শ এবং পরবর্তীতে এর প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত ব্যক্তি গায়ে হাত তুলে চুল ধরে টান দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বাসের যাত্রী, চালক ও হেলপারের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে ফটিকছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর নাম মো. জসিম (৩৫)। তিনি ফটিকছড়ির ভোজপুর এলাকার বাসিন্দা। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে চবি দুই নম্বর গেট থেকে খাগড়াছড়িগামী একটি লোকাল বাসে ওঠেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বাসে সিটের পেছন থেকে জসিম নামের ওই ব্যক্তি সিগারেটের ছাই ফেলার বাহানায় বারবার তাঁকে স্পর্শ করেন। শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত জসিম তাঁকে হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে হাটহাজারী এলাকায় তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাসটি ফটিকছড়ির একটি বাসস্ট্যান্ডে থামলে অভিযুক্ত জসিম সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এসে পুনরায় বাসে উঠে পড়েন। বাসে উঠে তিনি চবি ছাত্রীর চুল ধরে টান দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় বাসের অন্য যাত্রী ও স্টাফরা মিলে জসিমকে ধরে ফটিকছড়ি থানায় সোপর্দ করেন। চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা জানান, ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থী একাই বাড়ি ফিরছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা ফটিকছড়ি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি সহায়তার বিষয়ে কথা বলেছেন। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। - বিষয় : - চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Source 2: Ajker Patrika · 28/07/26open original ↗

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

চট্টগ্রাম নগরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নাজিয়াত শওকত তারিম (২০) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি। দুর্বৃত্তরা তার মোবাইল ফোন, টাকাপয়সার পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ায় তার পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে নগরের শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারের মুরাদপুর অংশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই তাহমিম শওকত তাহিম পাঁচলাইশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে বলা হয়, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে সোমবার সকালে শুলকবহর এলাকা থেকে এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ কেন্দ্রের উদ্দেশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা হন নাজিয়াত। শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারের মুরাদপুর অংশে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটিকে থামিয়ে নিজেদের ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলেন। তাদের কথা শুনে চালক তাদের গাড়িতে তুলে নেন। কিছুক্ষণ পর ওই দুই ব্যক্তি নাজিয়াতের নাক-মুখে একটি রুমাল চেপে ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দুর্বৃত্তরা তার সঙ্গে থাকা এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা ৫০০ টাকা নিয়ে যায়। এরপর অচেতন অবস্থায় তাকে কালুরঘাট সেতু এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। জ্ঞান ফেরার পর নাজিয়াত কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার একটি পুলিশ বক্সে গিয়ে ঘটনাটি দায়িত্বরত এক কনস্টেবলকে জানান। খবর পেয়ে তার বড় ভাই তাহমিম শওকত তাহিম বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন।ভুক্তভোগীর বড় ভাই তাহমিম শওকত তাহিম সোমবার সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু তার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড খোয়া যাওয়ায় আমরা এখন তার পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সে এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

Source 3: Prothom Alo · 31/07/26open original ↗

চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ওরফে ইমনছবি: পুলিশের সৌজন্যে ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে। পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন। চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের। তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে। তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে। ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’ ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’ কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’ এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন। ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি। পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’ প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন সন্ত্রাসচাঁদাবাজিচট্টগ্রামঅপরাধচট্টগ্রাম বিভাগ