নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে যা বলছে ছাত্রদল
Why this classification
The article reports a specific recent attack on NCP leader Nasiruddin Patowari in Kushtia with eggs, bricks and car vandalism, causing injuries. This meets the criteria for a concrete violent incident within the 14‑day window.
Killed
0
Injured
2
Summary
কুষ্টিয়া জেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর ডিম, ইট নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে হামলা ঘটেছে। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
92% · severity 4
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 2
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: NCP
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 04/10/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (5 sources)
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত আহত সাহাজুল ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। ছবি- সমকাল দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৪ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৮ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিএসএফের গুলিতে সাহাজুল ইসলাম (৩২) নামের এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামালপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহত সাহাজুল ইসলাম উপজেলার জামালপুর গ্রামের সাহাবাজের ছেলে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে সাহাজুল মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় সীমান্ত এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ সদস্যরা সাহাজুলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে তাঁর পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সীমান্তবর্তী মাঠে কাজ করা বাংলাদেশি কৃষকেরা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন। বিএসএফের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলকভাবে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান, নদীতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালান। এতে সাহাজুল আহত হলে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। গুলিবর্ষণ ও আটক ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সীমান্ত প্রটোকল ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে যা বলছে ছাত্রদল
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত থাকলে ব্যক্তিগতভাবে তাঁকেই এর দায় নিতে হবে। আজ রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের দাবি, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় ইট নিক্ষেপ করে তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাসীরুদ্দীনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সফরে রোববার কুষ্টিয়ায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি পরিদর্শনের পর সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ার লালন শাহের আখড়াবাড়িতে যান তিনি। মাজার পরিদর্শন শেষে স্থানীয় শিল্পীদের গান শোনেন ও ফেসবুকে লাইভ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় দুজন নারী তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর ২০ থেকে ২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে তাঁকে গালাগাল ও মারধরের জন্য তেড়ে আসেন বলে দাবি করেন সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা। তাঁকে রক্ষায় নেতাকর্মীরা ঘিরে ধরেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন বলেও দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে রাখা তাঁর গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।’ তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। ছাত্রদল মব কালচারের রাজনীতি বিশ্বাস করে না। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে ছাত্রদলের কোনো নেতা বা কর্মী জড়িত থাকলে এর দায় তাঁকেই নিতে হবে।’ ভয়ভীতি দেখিয়ে পাটওয়ারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না: নাহিদ এদিকে হামলার পর এনসিপির একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁদের পোস্টে এ অভিযোগ করেন।
কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশ ইন আতঙ্ক, বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি ৪৭) ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে, এই ঘটনার পর থেকে রাত জেগে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় অংশ নিয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রাজনীতি পরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। বিজিবি সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিজিবি। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও পুশ ইনের সাথে জড়িত কিছু দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করা হয়েছে। ৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে ও নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত লোকবল মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আজ সকালে মেহেরপুরের গাংনীর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের শূন্য রেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গত ৪-৫দিন আগে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। কিছু দালাল চক্র এর সাথে জড়িত আছে। তাদের কিছুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শুনতে পেয়েছি বা প্রমাণ পেয়েছি, সে কয়জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। অধিনায়ক বলেন, সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। রবিউল আলম ইভান/এসএইচএ
কুষ্টিয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আইসিইউতে
কুষ্টিয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আইসিইউতে পরিচালক গ্রেফতার Advertisement রাজশাহী ব্যুরো প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থী। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটিকে যৌন এবং শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় শিশুটির মা লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রামেক হাসপাতালে শিশুটির সঙ্গে রয়েছেন তার মা। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। মা জানান, তার মেয়েশিশুকে সাত-আট মাস আগে ভেড়ামারার একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। ওই মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক তার পরিবার নিয়ে থাকেন। আর দোতলায় মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীদের রাখা হয়। খাওয়াদাওয়ার জন্য তাদের নিচে আনা হয়। শিশুটির মায়ের ভাষ্য, মেয়েকে ভর্তির পরই তিনি খবর পেয়েছিলেন মাদ্রাসাটিতে শিশুদের নির্যাতন করা হয়। তাই দুই মাস আগে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, মেয়ে মাদ্রাসায় ভালো থাকবে। আশ্বাস পেয়ে তিনি মেয়েকে রেখে আসেন। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। মেয়ে জানিয়েছিল, ঈদের ছুটিতে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে। মা রোববার মেয়েকে আনতে মাদ্রাসায় যান। গিয়ে দেখেন মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন, পেট ফুলে গেছে। আঘাতে বাম পা ফুলে গেছে। মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী বলেন, ‘আপনার মেয়ের কিছুই হয়নি, বাড়িতে নিয়ে যান।’ পরে সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে আলট্রাসনোগ্রাম করান। তখন জানতে পারেন মেয়ের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। পরে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি মেয়েকে নিয়ে এসে রামেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেয়েকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, মেয়েটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো রয়েছে। শ্বাসকষ্টের কারণে সে কথা বলতে পারছে না। চকিৎসক জানান, শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল। অক্সিজেন দেওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকছে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা শিশুটিকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেছেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বাচ্চাটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিজে থেকে কিছু বলছে না। তবে প্রাথমিক অবস্থায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। শংকর বিশ্বাস বলেন, যোনিপথ ছিঁড়ে যাওয়া ধর্ষণের কারণে হতে পারে, আবার অন্যভাবেও হতে পারে। গাইনি বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি-না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে হামলায় পুলিশের দুই এএসআই আহত, আটক ১
কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তাঁদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহিদ হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারুইপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় মিরপুর থানা–পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত উপজেলার মশান গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন তাঁর ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশ তাঁর গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির চেষ্টা করে। এ সময় জাহিদ ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিরা পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে আটক করতে গেলে তিনি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শামসুল ইসলাম ও এএসআই ফারুক হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁরা আহত হন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও জাহিদকে আটক করে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, জাহিদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মাদক আইনে আটটি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা রয়েছে। অভিযানে তাঁর ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া গাড়ি থেকে ৮০টি নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
