নাটোরে ইউএনও কার্যালয়ে হামলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের পর ডিসি ও দুই ইউএনও প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন

AI-classifiedconfidence 96%

Why this classification

This incident was classified as political violence in Natore. Parties reported: BNP. Reported by 5 sources.

Reported by:Prothom AloAjker PatrikaSamakalJugantorDhaka PostCorroborated · 5 sources
12/08/26•লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়

Killed

0

Injured

0

Summary

গত ১২ আগস্ট নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সাংবাদিকদের মারধর করা হয়।

AI analysis

Category

Political Violence

Confidence

96% · severity 5

Parties involved

BNP

Tags

Party ClashRally ViolenceVandalism

Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.

হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান

জেলা কোনটি?

আপনার মত দিন

নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

আহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

অপরাধী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ভুক্তভোগী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ঘটনার তারিখ কি সঠিক?

AI: 12/08/26

Be the first to vote

ঘটনার ধরন কোনটি?

আপনার মত দিন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

Original news text (5 sources)

Source 1: Samakal · 13/08/26open original ↗

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি / নাটোরে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর

সারাদেশ ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নাটোরে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর × নাটোর সংবাদদাতা ও লালপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ - অ + ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গতকাল বুধবার নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া লালপুরে বিক্ষোভ হয়েছে এবং ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। দুই উপজেলায় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে। অভিযোগ করা হয়, নিয়োগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলেছে, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। তবে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিক্ষোভের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হন সাংবাদিকরা। বাগাতিপাড়া উপজেলায় কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তারা ফল বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবার ইউএনও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কক্ষের দরজা ও জানালায় লাথি দেন এবং ফুলের টব ভেঙে ফেলেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসে লাঞ্ছনার শিকার স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান বলেন, বিক্ষোভের লাইভ সম্প্রচারের সময় তাঁকে ধাক্কা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লাঞ্ছিত করা হয়। ছাত্রদলের নেতা সোহেল রানা বলেন, ‘পরীক্ষা না দিয়েও টাকার বিনিময়ে কেউ কেউ নিয়োগ পেয়েছে। বিএনপি সরকারকে বিতর্কিত করতে এমন নিয়োগ দিয়েছেন ইউএনও। কোথাও হামলা বা কাউকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি।’ তবে ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, নিয়োগ স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলা ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, সকাল থেকেই অফিসের ভেতরে থাকায় বাইরের কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। পরিস্থিতি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লালপুরে ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, ‘বর্তমান ইউএনও ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। তাদের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছেন ইউএনও।’ লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনর রশিদ পাপ্পু বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। আজকের (গতকাল) মধ্যেই প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করতে হবে। কর্মী নিয়োগে অনিয়মের জন্য ইউএনওকে প্রত্যাহার করতে হবে।’ তবে ইউএনও বরকত উল্লাহ বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, অনিয়ম হয়েছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাটোর জেলার পুলিশ সুপার শরীফুল হক জানান, উপজেলাগুলোতে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এর আগে মঙ্গলবার ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। একই অভিযোগে সুন্দরগঞ্জে ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিষয় : ফ্যামিলি কার্ড আরও পড়ুন পদ্মফুলে ছেয়ে গেছে উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা পুঁতে রাখা বিস্ফোরক নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে— ধোঁয়াশা সীতাকুণ্ডে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে ৪ জনের মৃত্যু ম্যারাথনে দৌড়ানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দৌড়বিদের মৃত্যু সর্বশেষ ৭ এএসপি ও ৪৯ পরিদর্শককে অবসরে পাঠালো সরকার রোনালদো-জর্জিনার বিয়েতে গোপন শর্ত, বিচ্ছেদে লাভ কার! চাভারিয়ার চেলসি-যাত্রার আগেই ভাইরাল প্রেমিকা পাওগলি পদ্মফুলে ছেয়ে গেছে উল্লাপাড়ার সোনাকান্ত বিল, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা ছত্রাকের সংক্রমণে পিছিয়ে গেল লা লিগার ম্যাচ পুঁতে রাখা বিস্ফোরক নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে— ধোঁয়াশা এশিয়া কাপ হকির দল ঘোষণা বাংলাদেশের, যারা আছেন স্কোয়াডে সীতাকুণ্ডে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে ৪ জনের মৃত্যু আরও পড়ুন ×

Source 2: Ajker Patrika · 18/08/26open original ↗

নাটোরে দুই ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর, বিএনপির ২৫ নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পৃথক দুটি এজাহার করেছেন দুই উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৫ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাতে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ও বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে লালপুর ইউএনওর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা ও বাগাতিপাড়া ইউএনওর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় লিখিত এজাহার দেন। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জানিয়ে দুই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।নাটোরের দুই ইউএনও কার্যালয়ে হামলা। ছবি: আজকের পত্রিকালালপুর থানায় দেওয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করেন। এজাহারে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব লাথি মেরে এলোমেলো করা হয়। ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।লালপুরের এজাহারে আরও বলা হয়, কয়েক ব্যক্তি ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন।লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন।এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে।বাগাতিপাড়ার এজাহার অনুযায়ী, উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে সেখানে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও রয়েছে।বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।’

Source 3: Dhaka Post · 19/08/26open original ↗

বিএনপি নেতাদের নামে এজাহারের পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এই আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই এই কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় দুটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহার দুটিতে সরকারদলীয় ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। লালপুরে দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত ১৮ জন হলেন- গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল বারী কাজল, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান, আরবাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক/সদস্য সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রবি, পৌর বিএনপির মোহাম্মদ আলী আজম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং পৌর যুবদলের মো. সুমন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাগাতিপাড়ায় দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত সাতজন হলেন- উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না। দায়েরকৃত এজাহারে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা পোস্টে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলাজুড়ে জানাজানি হয় এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটোরের ডিসি আসমা শাহীনর পত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহর বদলির আদেশ আসে। এই ঘটনায় জেলার সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় যদি কর্মকর্তাদেরই বদলির শিকার হতে হয়, তবে মাঠ প্রশাসনে সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তাদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে ঢালাওভাবে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি বলেন, দলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মামলায় আসামিদের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা না উল্লেখ করে দলীয় পদ-পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট বা সরকারি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বিএনপি। তবে কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি বা দলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরেই নাটোর জেলার ডিসি ও ইউএনও প্রত্যাহার। যে দেশে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ক্ষমতার কাছে মাথা নত না করার জন্য প্রত্যাহারের শিকার হন, সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই ইউএনও ও ডিসিকে বদলি করা হয়েছে। এমনটি হয়ে থাকলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ও প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং দেশের জন্যও কল্যাণকর নয়। এ ধরনের ঘটনা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেবে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মকে উৎসাহিত করবে। মানুষের কাছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের যে অঙ্গীকার, এ ঘটনা তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আশিকুর রহমান/আরকে

Source 4: Jugantor · 20/08/26open original ↗

পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার ইউএনও বদলি

বিএনপি নেতাদের নামে এজাহার পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার ইউএনও বদলি Advertisement নাটোর প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দেওয়া হয়েছে। এর পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার ও লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একই দিন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকারি চাকরির একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দুই বছর ধরে নাটোরে দায়িত্বে আছি। চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বাইরে অন্য কিছু নয়। গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় সাত সাংবাদিককেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সমালোচনার জেরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদল তাদের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। সোমবার এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং পরের দিন মঙ্গলবার বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় দুটি এজাহার দেন। এতে সরকারদলীয় ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। লালপুরেরর এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান। অন্যদিকে বাগাতিপাড়ার এজাহারে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না। এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ যুগান্তরকে বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে এখানে ঢালাওভাবে বিএনপির উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করে এজাহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সরকারি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বিএনপি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, এখনো বলার মতো কিছু নেই।

Source 5: Prothom Alo · 20/08/26open original ↗

নাটোরে ইউএনও কার্যালয়ে হামলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের পর ডিসি ও দুই ইউএনও প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন

ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের সময় ১২ আগস্ট বাগাতিপাড়া ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের মারধর করা হয়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর নাটোরের জেলা প্রশাসক ও দুজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রত্যাহারের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে এবং পরদিন বুধবার বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গত সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় উপজেলা প্রশাসন। এরপর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। আরও পড়ুন নাটোরে দুই ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রদল-যুবদলের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ১২ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে রাজশাহী কমিশনারের কার্যালয়ে এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পরদিন বুধবার বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি বা প্রত্যাহারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটা নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ঘটনাটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। তবে বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, ইউএনও কার্যালয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার সঙ্গে বদলি বা প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক নেই। সদ্য বিদায়ী লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহ ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাক বদলি বা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি করি। বদলির আদেশ আমাদের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক দেখি না।’ বাগাতিপাড়ার ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। ১২ আগস্ট দুপুরে উপজেলা পরিষদে ইউএনও কার্যালয়ের সামনেছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে লালপুর ও বাগাতিপাড়ার ইউএনও কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর জেরে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই উপজেলার ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় (সোমবার) সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে বাগাতিপাড়ায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লালপুরে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহকে রাজশাহী কমিশনারের কার্যালয়ে এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পরদিন বুধবার বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাককে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশীদকেও প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। আরও পড়ুন নাটোরে ছাত্রদল-যুবদলের আন্দোলনে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফল স্থগিত ১৪ আগস্ট ২০২৬ সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নাটোরের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন,একটি দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করে ফলাফল বাতিলের দাবি জানান। অভিযোগ আছে, তাঁরা ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু অভিযোগ করার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়া স্বাভাবিক নয়। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আর সাহস না-ও পেতে পারেন। আমরা সরকারি চাকরি করি। বদলির আদেশ আমাদের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক দেখি না। আসমা শাহীন, বিদায়ী জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যেতেই পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে দলীয় পদপদবি উল্লেখ করে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে বলে তাঁরা মনে করেন। এর সঙ্গে কর্মকর্তাদের বদলির কোনো সম্পর্ক নেই বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। তিন দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে লালপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও বাগাতিপাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী বাদী হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় দুই থানায় পৃথক অভিযোগ জমা দেন। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবিতে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল ও যুবদলের বিক্ষোভছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত লালপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা থানায় অভিযোগ দিয়ে আসছি। এখন যা করার পুলিশ করবে। আমরা অপেক্ষা করছি।’ একই কথা বলেন বাগাতিপাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা শুকুর আলী। আরও পড়ুন ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ নিয়ে ইউএনও ও ছাত্রদল নেতার উত্তপ্ত কথোপকথন ০৯ আগস্ট ২০২৬ লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বাগাতিপাড়া থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে অফিশিয়ালি তাঁকে কেউ জানাননি। তিনিও এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেননি। নতুন কোনো তথ্য জানতে পারলে তিনি জানাবেন বলে জানান। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন হামলাবদলিনাটোরবিএনপিবাগাতিপাড়ালালপুরভাঙচুররাজশাহী বিভাগ