সাভারে প্রেশারকুকারে থাকা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ, বিকট শব্দে উঠল ধোঁয়া
Why this classification
This incident was classified as terrorism / extremist attacks in Dhaka. Parties reported: Unidentified Persons. Reported by 4 sources.
Killed
0
Injured
0
Summary
ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় মসজিদের মাঠে প্লাস্টিকের ড্রামে রেখে যাওয়া একটি প্রেশারকুকার বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে রেখে যায়।
AI analysis
Category
Terrorism / Extremist Attacks
Confidence
98% · severity 4
Parties involved
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 12/08/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (5 sources)
কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল সাভারের বোমা ছিল ‘টাইমারযুক্ত’
বাংলাদেশ কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল সাভারের বোমা ছিল ‘টাইমারযুক্ত’ × সমকাল প্রতিবেদক, ঢাকা ও বরিশাল ব্যুরো প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫৭ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০১ | প্রিন্ট সংস্করণ - অ + দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে সম্প্রতি জব্দ করা বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে মতিঝিল, আশুলিয়া, সাভার ও কেরানীগঞ্জ থেকে পাওয়া বোমায় ‘টাইমার’ যুক্ত ছিল। সবকটি বোমা ছিল ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সাভারের শ্যামপুরে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনকে আসামি করে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি নব্য জেএমবির মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও বোমা তৈরিতে যুক্ত নন। তিনি শুধু সেগুলো বহন করতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া মামলাটি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে (এটিইউ) হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে সাভারের সাধাপুর এলাকায় প্রেশার কুকার বোমা জব্দের ঘটনায় গতকাল মামলা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি দেখেন, অপরিচিত ৬-৭ জন ঘোরাঘুরি করছেন। আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে সেখানে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর প্রেশার কুকার বোমাটি পাওয়া যায়। পরদিন সেটি নিষ্ক্রিয় করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সূত্রে জানা যায়, সরকার বর্তমানে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে ‘সফট পদ্ধতি’ অনুসরণের চেষ্টা করছে। ডির্যাডিক্যালাইজেশন বা উগ্রবাদ থেকে বের করে আনার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসনমূলক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের দাবি, নব্য জেএমবির সদস্যরা অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করতেন। ‘প্রটেক্টেড টেক্সট’ ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে তারা অর্থ লেনদেন করতেন বলে তদন্তে জানা গেছে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আরেকটি অ্যাপ ব্যবহারের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেকেই ব্যাগ বহন করতেন এবং এতে ছোট আকারের ককটেল রাখতেন। পাশাপাশি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বোমা তৈরির রাসায়নিক দ্রব্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সংরক্ষণ করার তথ্যও পাওয়া গেছে। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ এবং সাভারে বোমা বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (টিএটিপি) পাওয়া যায়। এটি বিপজ্জনক ও শক্তিশালী জৈব পারঅক্সাইড বিস্ফোরক। এ ছাড়া হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক এসিডসহ প্রায় ১০ কেজি গুঁড়া পাউডার ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গত ৩০ জুলাই ঢাকার আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারসদৃশ একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এতে আইইডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রেশার কুকারকে সন্দেহজনক মনে না হওয়ায় এই সুযোগ নিয়ে এটিকে বোমা তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রেশার কুকারের ওপরের বাষ্প বা গ্যাস বের হওয়ার অংশটিও বোমার কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর বোমাগুলোতে বল, বিয়ারিং ও অ্যান্টেনার মতো বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বোমাগুলো দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বিস্ফোরণের উপযোগী করে তৈরি করা হতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের বোমা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বোমা তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও রাসায়নিক ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, বোমাসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে সেগুলো বিস্ফোরণের আগেও দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বিস্ফোরিত করার আশঙ্কা থাকে। তাই উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার পুরো প্রক্রিয়াটিই ঝুঁকিপূর্ণ। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কারণে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাভারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর পর তদন্তকারীরা ধারণা পেয়েছেন, এসব বোমা কতটা শক্তিশালী হতে পারে। সিটিটিসির তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল, আশুলিয়া ও সাভারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কেরানীগঞ্জের আল-আমিন, মামুন, রাব্বি এবং যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিব একই মতাদর্শে বিশ্বাসী বলে তদন্তে জানা গেছে। এদিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতপাড়ায় বুধবার বিস্ফোরণ ঘটানো বিস্ফোরকটি সেখানে আগে পুঁতে রাখা হয়েছিল নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে–তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও এ বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। এমনকি বিস্ফোরকের ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে পুলিশ এ পর্যন্ত সুস্পষ্ট ধারণা পায়নি। এসব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হলে পুলিশের দায়িত্বশীলরা উত্তর দিচ্ছেন–‘তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া কিছু বলা যাবে না’। জানা গেছে, বুধবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে কয়েক ঘণ্টা রুদ্ধ সভা হয়। সকল বিচারক ও মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সকল ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিস্ফোরকটি আগেই পুঁতে রাখা হয়েছিল। গত কয়েকদিনে আদালত এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকে না। ধারণা করা হচ্ছে, লোডশেডিং চলাকালে বোমাসদৃশ বস্তু পুঁতে রাখা হতে পারে। পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ক্রাইম সিন ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিকের টুকরা ও বারুদের উপকরণ সংগ্রহ করছেন। সিআইডির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাপক বিধ্বংসী কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত উপাদান পরীক্ষার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাবে না। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম সমকালকে জানান, আদালত চত্বরে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মো. কামরুল হায়দার রুবেল বাদী হয়ে বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এতে নাম উল্লেখ করে কাউকে আসামি করা হয়নি। বিস্ফোরকটি ঘটনাস্থলে আগেই পুঁতে রাখা হয়েছিল, নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে–এ প্রশ্নে ওসি বললেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ বলেন, সিসিটিভি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে থেকে বিস্ফোরক দ্রব্যটি কেউ ছুড়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। পুলিশ কমিশনারের দাবি, বিস্ফোরকটি পটকা জাতীয় কিছু হবে। ভীতি সৃষ্টির জন্য কে বা কারা আদালতপাড়ায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বিষয় : বোমা উদ্ধার আরও পড়ুন বেশির ভাগ ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ রাজপথ থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল গ্যাস সরবরাহ আরও কমেছে, ঢাকায়ও লোডশেডিং বাদামি-ডানা মাছরাঙার গল্প সর্বশেষ জিকো-ফাহিমদের নিয়ে ট্রেবলে চোখ মোহামেডানের ডারউইনে হাসানের ‘বিবর্তন’ ম্যারাথনে দৌড়ানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দৌড়বিদের মৃত্যু মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তানজিদের ব্যাটে নতুন গল্পের শুরু যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব চরবাসী, অস্থায়ী প্রতিরোধে মিলছে না সমাধান অ্যাপলের ফোল্ডেবলের আগেই শাওমি আনছে মিক্স ফোল্ড ৫, আসতে পারে সেপ্টেম্বরে বেশির ভাগ ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ আরও পড়ুন ×
ঢাকায় একসঙ্গে এসেছিলেন রাজমিস্ত্রির কাজে, কামরুলকে খুন করে পালান আল-আমিন
খুলনার তেরখাদা থেকে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন কামরুল ও আল-আমিন। কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন সবজি কাটার ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হদিসবিহীন এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।আজ বুধবার পিবিআই দাবি করেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা।নিহত মো. কামরুল খান (৪৪) খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার মৃত করিম খানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল–আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের বরাতে সংস্থাটি জানিয়েছে, কামরুল ও আল-আমিন খুলনার তেরখাদার বাসিন্দা। একই এলাকার হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তাঁরা ঘনিষ্ঠ। কাজের সন্ধানে ৮ আগস্ট তাঁরা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেন।পিবিআইয়ের দাবি, ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান আল-আমিন। এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীন। একই দিনে খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে আসামি মো. আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আল-আমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআই জানায়, ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ কক্ষটির তালা ভেঙে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির পচন ধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি বাথরুমের প্যানের ভেতর রেখে খুলনায় পালিয়ে যায় আল-আমিন। তাঁর কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।
পরিচয় মিলল ঢামেকে ফেলে যাওয়া সেই কিশোরীর, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। নিহত কিশোরীর নাম মিম আক্তার (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭), মো. ফয়সল আহমেদ (৩৫) ও রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯)। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১২ আগস্ট ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এক কিশোরীর মরদেহ ফেলে চলে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। পরে শাহবাগ থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে আসামিরা মিম আক্তারের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বাসা ছেড়ে রাতারাতি সপরিবারে অন্যত্র আত্মগোপন করে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসএএ/এসএইচএ
সাভারে মসজিদের মাঠে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার ঘিরে আতঙ্ক
সাভারে মসজিদের মাঠে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার ঘিরে আতঙ্ক Advertisement যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম ছবি: যুগান্তর সাভারের আশুলিয়ায় প্রেশারকুকারসদৃশ বোমা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ধরনের বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার একটি মসজিদের মাঠে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর এটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, বস্তুটি বোমা কি না, বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পরপর এমন ঘটনার কারণে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া প্রেশারকুকারসদৃশ বোমার সূত্র ধরে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি আস্তানা শনাক্ত ও সেখান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন উদ্ধার হওয়া বস্তুটির সঙ্গে ওই আস্তানার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গভীর রাতে ড্রাম, ভেতরে প্রেশারকুকার ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের মধ্যে কাপড়চোপড়, কুরআন শরিফসহ অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকারটি ছিল। পরে স্থানীয়রা ড্রাম থেকে প্রেশারকুকারটি বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে রেখে চলে যান। বুধবার সকাল ৮টার দিকে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পুরো মাঠ ঘিরে রাখা হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের একই দৃশ্য সাভার-আশুলিয়া এলাকায় এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় একটি দোকানের সামনে পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে প্রেশারকুকারসদৃশ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে। ওই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয় এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পরে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে জেএমবির একটি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন করে সাধাপুরে প্রেশারকুকার পাওয়ার পর দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো যোগসূত্রের নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সন্দেহজনক বস্তুটির প্রকৃতি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই এটিকে সরিয়ে নেওয়া বা পরীক্ষা করার দায়িত্ব প্রশিক্ষিত সদস্যদের ওপরই রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে একটি ড্রাম ফেলে যাওয়ার বিষয়টি তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। পরে ড্রামের ভেতর টেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কারা রাখছে এসব বস্তু? আশুলিয়ায় একই ধরনের বস্তু উদ্ধারের পর এবার সাভারের সাধাপুরে প্রায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুটি ঘটনার মধ্যে সময়ের ব্যবধানও খুব বেশি নয়। এর সঙ্গে দক্ষিণ শ্যামপুরে জেএমবির আস্তানা শনাক্তের ঘটনাটি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে কোনো ঘটনাকে সরাসরি জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত করার আগে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন উদ্ধার হওয়া বস্তুটির উৎস, সেটি সেখানে কারা রেখে গেছে এবং আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে সাভার-আশুলিয়ায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু স্থানীয় আতঙ্কই বাড়াচ্ছে না, এর পেছনে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড—সেটিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সাভারে প্রেশারকুকারে থাকা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ, বিকট শব্দে উঠল ধোঁয়া
ঢাকার সাভারে বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে ধোঁয়া ওঠে। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সাধাপুর এলাকায় মসজিদের মাঠেছবি : প্রথম আলো ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় মসজিদের মাঠে প্রেশারকুকারে রাখা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় দূর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং আকাশের দিকে সাদা ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এ সম্পর্কে সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্ব উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা পৌনে দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে আসে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বেলা ৩টা ২৮ মিনিটের দিকে তারা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে স্থানীয় লোকজন একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের ভেতরে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশারকুকার ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন ড্রাম থেকে প্রেশারকুকারটি বের করে মসজিদের মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন। এসআই ইমরান হোসেন জানান, আজ সকাল আটটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকারটি দেখতে পায়। এরপর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। আরও পড়ুন সাভারে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার, বোমা সন্দেহে ঘিরে রেখেছে পুলিশ ১২ ঘণ্টা আগে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রাতে প্লাস্টিকের ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে গেছেন। তবে তাঁরা কারা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। আজ বেলা পৌনে ২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এরপর তারা বোমা নিষ্ক্রিয় করে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক আগেই আমাদের ওই জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনি। আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখি।’ প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন সাভারঢাকাপুলিশঢাকা বিভাগবিস্ফোরণডিএমপি
