ছেলেকে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় বাবাকেও গুলি করে হত্যা
Why this classification
The article reports a shooting killing two individuals in Rupsha, Khulna on 2026-10-05, which is a concrete violent act within the 14‑day window, thus classified as violence.
Killed
1
Injured
0
Summary
সন্ধ্যা ৭টায় খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে জয় ঢালী (২৭) এবং তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
94% · severity 8
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 05/10/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (5 sources)
ছেলেকে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় বাবাকেও গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলার জয় ঢালীকে (২৭) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ৫০তম দিনে বাবা আক্তার ঢালীকেও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তিন দিনেও আক্তার ঢালী হত্যায় মামলা হয়নি
রূপসায় আক্তার ঢালী হত্যাকাণ্ডের পর আতঙ্ক কাটেনি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এ ঘটনায় তিন দিনেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কেউ মামলা করতে যায়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যার পর দুর্বৃত্তের গুলিতে আক্তার ঢালীর মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের তিন দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, বাড়ির সামনে একটা মানুষকে গুলি করে হত্যা করল আর পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা আরও জানান, একই আসামিরা পিতা এবং পুত্রকে হত্যা করেছে। তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ঢালী পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, আতিয়ার ঢালী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। মামলা দেওয়ার জন্য পরিবারকে অনুরোধ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।উল্লেখ্য, খুলনার রূপসায় ছেলে জয় ঢালীকে গলা কেটে হত্যার ৫১ দিনের মাথায় তাঁর বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের ঢালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ছেলের হত্যার ৫১ দিনের মাথায় এবার বাবাকে গুলি করে হত্যা খুলনায় ৯ মাসে ৩৫ হত্যাকাণ্ড, চার উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু
খুলনায় বিএনপিকর্মীকে গুলি করে হত্যা
খুলনায় রফিক গাজী নামে বিএনপির এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মহানগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা কাজী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিক গাজী ওই এলাকার রতন গাজীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রফিক গাজী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ এলাকার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে এসে হেলমেট পরিহিত সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলি তার পেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমীর এজাজ খান বলেন, বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী ছিলেন রফিক গাজী। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, রফিক গাজী বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। খুলনার লবণচরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে চাইছে না। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যারা এ হত্যাকণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ
খুলনায় চরমপন্থি নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনায় চরমপন্থি নেতাকে গুলি করে হত্যা Advertisement খুলনা ব্যুরো প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ খুলনার দিঘলিয়ায় নিষিদ্ধ চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই নেতার মো. নাসিম। একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ফরমাইজখানা এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নাসিম ফরমাইজখানা এলাকার আব্দুর গফুরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। দিঘলিয়া থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা, তিনটি তাজা গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগজিন ও একটি চশমা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা যায়, দোকানে চা পান করে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলে দুই ব্যক্তি তার পথরোধ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জামাইয়ের গুলিতে সাবেক শ্বশুর আহত : খুলনায় পারিবারিক কলহের জেরে জামাই আবিরের গুলিতে সাবেক শ্বশুর ইকবাল শেখ আহত হয়েছেন। রোববার সকালে নগরীর লবণচরা থানাধীন ইসলামপাড়া প্রথম গলিতে এ ঘটনা ঘটে। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ইকবাল ৩১নং ওয়ার্ড বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক। লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। জানা যায়, ইকবালের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে আবিরের প্রায় চার মাস আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে ইকবালকে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছেলের পর বাবাকেও হত্যা ‘যা পারে এবার পুলিশ করবে, আমরা মামলা করব না’
ছেলে জয় ঢালী (ডানে) হত্যার দেড় মাসের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে আক্তার ঢালীকে।ছবি: সংগৃহীত খুলনার রূপসায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাসের মাথায় বাবা হত্যার ঘটনায় ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটছে একটি পরিবারের। হত্যার ঘটনায় এবার আর মামলা করতে চাচ্ছেন না স্বজনেরা। পুরো বিষয়টি তাঁরা ছেড়ে দিচ্ছেন পুলিশের ওপর। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেড় মাস আগে তাঁর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তবে এবার আর মামলা করতে চাইছেন না আক্তার ঢালীর স্বজনেরা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কারও বিরুদ্ধে কথা বলতেও নারাজ। আক্তার ঢালীর পাঁচজন স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের ধারণা, জয় ঢালী হত্যার সঙ্গে আক্তার ঢালী হত্যার যোগসূত্র রয়েছে। তাঁদের দাবি, খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামের পরিচিত একটি গোষ্ঠীর লোকজন আক্তার ঢালী হত্যায় জড়িত থাকতে পারেন। কিন্তু ঝামেলা এড়াতে এবার কোনো মামলা করতে চান না স্বজনেরা। আক্তার ঢালীর ভাতিজা লিটু ঢালী বলেন, ‘আমরা এবার আর মামলা করতে চাই না। ভাইয়ের (জয় ঢালী) হত্যা মামলায় আসামি ধরা পড়ে আবার কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আসে। আমরা আর ঝামেলায় যেতে চাই না। যা পারে এবার পুলিশ করবে, আমরা মামলা করব না।’ আরও পড়ুন খুলনায় ছেলেকে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা ০৫ অক্টোবর ২০২৬ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আগের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে আমরা মনে করছি। তবে এর সঙ্গে আরও কোনো বিষয় আছে কি–না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বি কোম্পানির সদস্যরা জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরকার ওমর ফারুক, পুলিশ সুপার, খুলনা আক্তার ঢালীকে যেখানে গুলি করা হয়, সেখান থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে তাঁর ছেলে জয় ঢালীর বাড়ি। গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় নিহত জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা জামিনে বের হয়ে এসেছেন। খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক প্রথম আলোকে জানান, জয় ঢালীর হত্যা মামলার আসামি, জামিনে থাকা ব্যক্তিরা এবং জামিনের পর হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে কারা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে, কতজন ছিল সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আগের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে আমরা মনে করছি। তবে এর সঙ্গে আরও কোনো বিষয় আছে কি–না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বি কোম্পানির সদস্যরা জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’ বাড়ির পাশে কাঠের এই বেঞ্চে গতকাল সোমবার বসেছিলেন আক্তার ঢালীছবি: প্রথম আলো ‘আল্লাহ আমারে কী দৃশ্য দেখাল’ আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আক্তার ঢালীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তাঁর শোকার্ত স্ত্রী নাসিমা বেগম কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘আমি কী করব, কী করার আছে আমার। আল্লাহ আমারে আর কী কী সহ্য করার জন্য রাখছে। আল্লাহ আমারে কী দৃশ্য দেখাল। (হত্যায়) কোনো সময় লাগছে না। এক-দুই মিনিটের মধ্যে সব ক্লিয়ার করে দিচ্ছে। ছেলে গেল, এবার ওর বাবা গেল…।’ কিছুক্ষণ পর কয়েকজন প্রতিবেশী ও স্বজন তাঁকে ঘর থেকে উঠানে এনে একটি চেয়ারে বসান। উঠানেও তখন অনেক মানুষ। তবে সবাই নারী। সাংবাদিক পরিচয় শুনে তাঁরা যেন হঠাৎ চুপ হয়ে গেলেন। একে অপরের কানে ফিসফিস করে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর নাসিমা বেগমের এক পুত্রবধূ বলেন, ‘আসলে দেখেন, আমাদের কিছু বলার নেই। কয়েক দিনের মধ্যে দুটো মার্ডার। বাচ্চারাও রাতে ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছে। সবার মধ্যে আতঙ্ক। কখন কী হয়, কে জানে।’ এর মধ্যে এক বয়স্ক প্রতিবেশী পুরুষ নাসিমাদের উঠানে আসেন। তিনি আক্তার ঢালী হত্যার মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘তখন মাগরিবের নামাজ পড়ে কেউ বের হয়েছে, কেউ হয়নি। নামাজ শেষে আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলাম। এমন সময় দেখি, চার-পাঁচটা মোটরসাইকেল, প্রতিটায় দু-তিনজন করে মানুষ। কারও হেলমেট পরা, কারও হেলমেট নেই। একটু পরেই গুলির শব্দ শুনতে পাই। এরপর চিৎকার-চেঁচামেচি। আসলে এখন যা হচ্ছে, এসব মানা যায় না।’ আমরা কিচ্ছু জানি না, কারা মেরেছে। আমি কিছু বলব না। মাসখানেক আগে ছেলেটা চলে গেল। এবার ওর বাবাও গেল। তোমরাও যারা আছ, তারা এখন কিছুতে কারও নামে কিছু বলবা না। না জানি কী বিপদ হবে। নাসিমা বেগম, আক্তার ঢালীর স্ত্রী অন্যদের সঙ্গে কথা বলার মধ্যে কিছুটা ধাতস্থ হন নাসিমা বেগম। জানান, তাঁর স্বামী আক্তার ঢালী সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সেনের বাজার বাসস্ট্যান্ডে কাজ করতেন তিনি। বেলা আড়াইটার দিকে বাড়িতে ফেরেন। প্রতিদিন বিকেলের মতো গতকালও বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে রাখা কাঠের বেঞ্চে তাঁর স্বামী বসে ছিলেন। অন্য দিন তাঁর স্বামীর সঙ্গে নিহত ছেলে জয়ের আট মাস বয়সী মেয়ে ও প্রতিবেশীরা থাকলেও গতকাল কেউ ছিল না। নাসিমা বেগম বলেন, গতকাল বেঞ্চের জায়গাটিতে মশার উৎপাত ছিল। তাঁকে (নাসিমা বেগম) ডেকে সেখানে মশার কয়েল জ্বালিয়ে দিতে বলেন স্বামী আক্তার ঢালী। এ জন্য তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলেন। এর মধ্যেই গুলির ঘটনা ঘটে। নাসিমা বলেন, ‘তারা (দুর্বৃত্তরা) গুলি করেই চলে যায়নি, একটু সময় ছিল। এ সময় বাড়ির দিকেও গুলি ছোড়ে।’ ছেলে জয় ঢালী হত্যামামলা নিয়ে আক্তার ঢালী চাপে ছিলেন বলে জানান নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘উনি (আক্তার ঢালী) মাঝে মাঝে আমাকে বলতেন, “জয়ের মামলা নিয়ে এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছি, চাপ আসছে। কখন কী হয়, ভয়ে থাকি।” আমি বলতাম, ছেলে তো আর ফিরে আসবে না, আমরা না হয় সব বাদ দিই।’ স্বজনেরা জানান, নাসিমা বেগমের প্রথম স্বামী সোবহান ঢালীকেও ৩০-৩২ বছর আগে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর সোবহান ঢালীর চাচাতো ভাই আক্তার ঢালীর সঙ্গে নাসিমার বিয়ে হয়। কথাগুলো বলতে বলতে আবার যেন ভয় চেপে বসে নাসিমার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা কিচ্ছু জানি না, কারা মেরেছে। আমি কিছু বলব না। মাসখানেক আগে ছেলেটা চলে গেল। এবার ওর বাবাও গেল। তোমরাও যারা আছ, তারা এখন কিছুতে কারও নামে কিছু বলবা না। না জানি কী বিপদ হবে।’ শ্বশুর হত্যার বিষয়ে জয়ের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাড়ির ভেতরে ছিলাম। শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে দেখি, বাবা বেঞ্চের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে আছেন।’ হুমকি পেয়ে জিডি করেছিলেন আক্তার ঢালী ছেলে হত্যার মামলা নিয়ে চাপে ছিলেন আক্তার ঢালী। মামলা তুলে নিতে বলা হয়, পান প্রাণনাশের হুমকি। এসব ঘটনার পর ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন আক্তার। জিডি থেকে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে সেনের বাজার এলাকায় কয়েকজন আক্তার ঢালীকে ডেকে সড়কের এক পাশে নিয়ে যান। এরপর তাঁর ছেলে হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি–ধমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। জিডিতে আক্তার ঢালী অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে জয় ঢালী হত্যা মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন খুলনারূপসামামলাখুনখুলনা বিভাগহত্যা
