চোর সন্দেহে নির্মম নির্যাতন, পরে জানা গেল তিনি নির্দোষ
Why this classification
This is a specific, recent incident in which police officers beat a caretaker, gave him electric shocks and burned his genitals with candle wax while questioning him over missing money. The incident took place on 13 April 2026 in Pirojpur, and the article reports it directly rather than only commenting on it, so it qualifies as violence.
Killed
0
Injured
1
Summary
গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার) পিরোজপুর পুলিশ লাইনসের মেসে চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধর, বৈদ্যুতিক শক ও পুরুষাঙ্গে মোমবাতি গলিয়ে নির্যাতন করে। পরে আসল চোর ধরা পড়লেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং ইউনুসকে বাধ্য করে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
90% · severity 7
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Law Enforcement
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 13/04/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (3 sources)
পুলিশ মেসের তত্ত্বাবধায়ককে ভয়াবহ নির্যাতন ডিবির
পুলিশ মেসের তত্ত্বাবধায়ককে ভয়াবহ নির্যাতন ডিবির পিরোজপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তার টাকা চুরিতে জড়িত সন্দেহে পিরোজপুরে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে পুলিশ মেসের তত্ত্বাবধায়ককে। অন্য কর্মীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের পরও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নির্যাতনের শিকার মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদরের খানাখুনিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সাল থেকে শহরতলির ঝাটকাঠি এলাকায় অবস্থিত পুলিশ কর্মকতাদের মেসের চারতলা ভবনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি। ইউনুসের ভাষ্য, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা ডিবির ওসি আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁর (আরিফুল) কক্ষ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এ জন্য ইউনুসকে দায়ী করেন। টাকা চুরির কথা অস্বীকার করায় তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ওসি আরিফুল ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান। সেখানে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। পরবর্তী সময় ডিবির আরও সাত-আট সদস্য এসে ইউনুসকে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর দুই পায়ের পাতায় উপর্যুপরি পেটানো হয়। তীব্র যন্ত্রণায় ইউনুস চিৎকার করলে তাঁর মুখে লাঠি ঠেসে দেন ডিবির সদস্যরা। এক পর্যায়ের ডিবির কনস্টেবল কাওসারের নেতৃত্বে তিন-চারজন ইউনুসকে টেনেহিঁচড়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর পুরুষাঙ্গে আগুনে মোমবাতি গলিয়ে তপ্ত মোম ফেলা হয়। পাশবিক এই নির্যাতনে তার পুরুষাঙ্গ ঝলসে যায়। স্বজন জানান, একই দিন সন্ধ্যার পর ডিবি পুলিশের লোকজন টাকার আদায়ের জন্য ইউনুসকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের ভয়ে সুদে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে আরিফুল ইসলামকে দেন। এ ঘটনার পর ইউনুসকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের কাছে নিয়ে যান ডিবির ওসি আরিফুল ইসলাম। পুলিশ সুপার ইউনুসের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। তিনি একই মেসের ঝাড়ুদার শাকিল খানকে ডেকে পাঠান। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে। পরে ইউনুসের দেওয়া টাকা ফেরত দেন ওসি আরিফুল। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, ‘একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না, যেভাবে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।’ তাই তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। নির্যাতনের পর গোপনে পিরোজপুরের এক চিকিৎসক ও খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ইউনুস। পরে শুক্রবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ইউনুস ফকিরের ওপর যে দৈহিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস। শুক্রবার রাতে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন চিকিৎসাধীন ইউনুস ফকিরকে দেখতে যান। এ সময় তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জেলা ডিবির ওসি আরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও মো. কায়সারকে ১৪ এপ্রিল পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, ‘একটা কাজের জন্য বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনেছিলাম। তার মধ্য থেকে ২০ হাজার টাকা একজনকে দিয়েছি। বাকি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা রুম থেকে চুরি হয়ে যায়। তবে আমি মেসের কর্মচারী ইউনুসকে কোনো মারধর করিনি। বর্তমানে আমি ছুটিতে বাড়িতে আছি, কর্মস্থলে এসে ঊর্ধ্বতন স্যারদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে কথা বলব।’ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আউয়াল বলেন, ঘটনাটি পুলিশের সুনাম নষ্ট করেছে। তদন্তের পর বিচার করা হবে। পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মজনুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তিনি বলেন, ছুটি থেকে ফিরে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন। তবে ঘটনাটি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল আহসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। - বিষয় : - নির্যাতন
চোর সন্দেহে নির্মম নির্যাতন, পরে জানা গেল তিনি নির্দোষ
পিরোজপুর ডিবি পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের মেসে অস্থায়ীভাবে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করা মো. ইউনুস ফকির (৪০) নামে এক যুবক। পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের টাকা চুরির অভিযোগে নির্মাম এ নির্যাতন করা হয়। তবে পরবর্তীতে অন্য আরেক কর্মীর কাছ থেকে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়। গত (১৩ এপ্রিল) সোমবার দুপুরে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। নির্মম এই নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশ মহলে মারাত্মক সমালোচনার জন্ম দিলেও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এমনকি এ বিষয়ে পুলিশের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্যাতনের শিকার মো. ইউনুস ফকির পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি জানান, পিরোজপুর পুলিশ লাইনসের রাস্তায় প্রবেশমুখে পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জন্য নির্মিত মেসে সে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করছে। ২০০৮ সালে ভবনটি নির্মানের সময় সে ওখানে যুক্ত হন। পরবর্তীতে মেসে অবস্থানকারীরা প্রতিমাসে তাকে কিছু টাকা দেন। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে থাকেন পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম। তার কক্ষের দুটি চাবির মধ্যে একটি ইউনুসের কাছে ছিল। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আরিফুল ইসলাম হঠাৎ করেই ইউনুসের কাছে থাকা চাবিটি ফেরত চান। তবে সেটি দিতে ব্যর্থ হন ইউনুস। এরপরই আরিফ তাকে জানান, তার কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে এবং ইউনুসই সেই টাকা নিয়েছে। তাই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে। ইউনুস টাকা চুরির কথা অস্বীকার করার পর তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান এবং তাকে মারধর শুরু করেন। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের আরও ৭-৮ জন সদস্য সেখানে গিয়ে ইউনুসকে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে। এমনকি বৈদ্যুতিক শক দেয়। এ ছাড়া, তিনি চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি দিয়ে শব্দ বন্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে ইউনুস জানান, যেহেতু তার কাছে একটি চাবি ছিল সে ওই টাকা পরিশোধ করবে। এরপর ডিবি পুলিশের লোকজন তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। তখন পরিবারের সদস্যরা টাকাগুলো দেওয়ার জন্য রাত পর্যন্ত সময় দাবি করে। পরবর্তীতে মেসে নিয়ে আবারও ইউনুসকে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে আরিফের ঘনিষ্ঠ ডিবি পুলিশ সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে তিন-চারজন তাকে জোর করে রান্না ঘরে নিয়ে যান। এরপর তার পুরুষাঙ্গে মোমবাতি গলিয়ে আধাঘণ্টা ফেলতে থাকে। এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আরিফকে টাকাগুলো পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে ইউনুসকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর কাছে নিয়ে যান। এরপর তিনি ইউনুসের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর ওই মেসে কাজ করা ঝাড়ুদার শাকিলকে ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করে এবং পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে। এরপর ইউনুস প্রথমে যে টাকা দিয়েছিল সেগুলো তাকে ফেরত দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে সে চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে যেতে চাইলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তাকে পিরোজপুর শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেন। বিষয়টি জানাজানি হবে, এই আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে ইউনুসের সমস্যার বিষয়ে কিছুই বলতে দেননি হুমায়ুন। পরে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে পরের দিন ডিবি পুলিশ ইউনুসকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সেখানেও ইউনুসকে বলতে বাধ্য করান যে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে সে নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ পুড়িয়েছে। এ ছাড়া, সে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে। তবে এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইউনুস। এ ছাড়া, পুলিশের সঙ্গে পেরে উঠবেন না, এই আশঙ্কায় তারা কোথাও কোনো অভিযোগ দেননি। তবে বিষয়টির সুষ্ঠ বিচারের জন্য পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ইউনুস। এ ছাড়া, তাকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান নয়, নির্মম এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছে ইউনুস ও তার পরিবার। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না যেভাবে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। তাই তিনিও এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ইউনুসের সঙ্গে যা হয়েছে তা তিনি করেননি, করেছে অন্যকেউ। যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি বলেও জানান তিনি। তারা ইউনুসের চিকিৎসাও করিয়েছেন। এ বিষয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মজনুর আহম্মেদ সিদ্দিকিকে একাধিকবার কল দিলেও, তিনি রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এএমকে
ডিবির ওসি আরিফের বর্বরতা
ডিবির ওসি আরিফের বর্বরতা Advertisement পিরোজপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ পিএম অভিযুক্ত ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম। ফাইল ছবি। পিরোজপুরে পুলিশ অফিসার্স মেসের এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্বীকারোক্তিতে বাধ্য করতে বৈদ্যুতিক শক ও মোম গলিয়ে পুরুষাঙ্গে ঢেলে ঝলসে দেন ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম। ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি পুলিশ অফিসার্স মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ১৩ এপ্রিল ঘটলেও ঘটনাটি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, পিরোজপুর পুলিশ লাইনসসংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার মেসে থাকেন ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম। তার কক্ষের দুটি চাবির একটি ইউনুসের কাছে ছিল। ওসি আরিফ সোমবার দুপুরে ইউনুসের কাছে থাকা চাবিটি ফেরত চায়। চাবি দিতে ইউনুস ব্যর্থ হলে আরিফের কক্ষ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানিয়ে ইউনুসকেই সেই টাকা চুরির জন্য দোষারোপ করা হয়। টাকা চুরির কথা অস্বীকার করায় তাকে হাতকড়া পরিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। নির্যাতনের সময় ইউনুস চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। রান্নাঘরে নিয়ে গরম মোম গলিয়ে পুরুষাঙ্গে ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে ডিবি পুলিশের লোকজন তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। তখন পরিবারের সদস্যরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ওই রাত পর্যন্ত সময় চান। এরপর মেসে নিয়ে আবারও ইউনুসের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আরিফকে টাকাগুলো পৌঁছে দেন। টাকা পাওয়ার পর ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর কাছে নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার ইউনুসের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর ওই মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে ডেকে পাঠান। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করে এবং চুরি যাওয়া টাকা ফেরত দেয়। পরে ইউনুসের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ইউনুসকে চিকিৎসার জন্য তার পরিবার জেলা হাসপাতালে নিতে চাইলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তাকে শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা করান। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হবে- এই ভেবে চিকিৎসকের কাছে ইউনুসের সমস্যার বিষয়ে কিছুই বলতে দেওয়া হয়নি। পরদিন ডিবি পুলিশ ইউনুসকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সেখানে ইউনুসকে বলতে বাধ্য করা হয় যে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে সে নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ পুড়িয়ে দিয়েছে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাই আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনার পর তার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে পেরে উঠবেন না ভেবে তারা কোথাও কোনো অভিযোগ দেননি। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে বলে পুলিশ সুপার ইউনুসের পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ডিবির পক্ষ থেকে ইউনুসকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে ‘নিউজ না করার’ জন্য বারবার অনুরোধ জানান এবং প্রয়োজনে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবির ওসি আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে, সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
