মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা ও পুলিশের ওপর আক্রমণ

AI-classifiedconfidence 95%

Why this classification

This is classified as political violence because the DNCC administrator explicitly attributed the attack on police and city officials to political remnants and 'fascist' elements opposing the government's eviction drive.

Reported by:Ajker PatrikaProthom AloSamakalDhaka PostCorroborated · 4 sources
30/09/26•Mirpur-10 Hope Market

Killed

0

Injured

0

Summary

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে দুষ্কৃতকারীরা সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

AI analysis

Category

Political Violence

Confidence

95% · severity 4

Perpetrator side

Unknown

Victim side

Law Enforcement

Other actors

Shafiqul Islam Khan Milton (DNCC Administrator)

Affected infrastructure

City Corporation transport

Tags

Party Clash

Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.

হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান

জেলা কোনটি?

আপনার মত দিন

নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

আহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

অপরাধী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ভুক্তভোগী কি সঠিক?

AI: Law Enforcement

Be the first to vote

ঘটনার তারিখ কি সঠিক?

AI: 30/09/26

Be the first to vote

ঘটনার ধরন কোনটি?

আপনার মত দিন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

Original news text (4 sources)

Source 1: Samakal · 03/10/26open original ↗

মিরপুর থেকে সাবেক যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

রাড্ডায় ভাঙচুর, লুটপাট মিরপুর থেকে সাবেক যুবদল নেতা গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার ১৬ জনের ৪ জন ‘সমমনার’ সদস্য প্রতীকী ছবি সমকাল প্রতিবেদক প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:০৩ | প্রিন্ট সংস্করণ রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে মিরপুর ছোট দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে যুবদল নেতা নূর আলমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৬ জনের মধ্যে চারজন ‘সমমনা দোকান মালিক সমিতির’ সদস্য। অন্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় নূর আলমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তিনি শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গতকাল শুক্রবার ভোরে তাঁকে মিরপুরের ছোট দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শাহ আলী থানার ওসি মো. রাজীব সমকালকে বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে শাহ আলী থানায় মামলা করেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারোর কারোর বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনও করে রাখা হয়েছে। সবাইকে একসঙ্গে রিমান্ডে আনা হবে বলে জানায় পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থল, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজসহ স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাসহ সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি, তদন্ত-সংশ্লিষ্টসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম খোকন শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য এবং মো. আলম শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি। এই দুজন সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত। ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া এক্সক্যাভেটর (ভেকু) বহনকারী বড় গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুরে ব্যবহৃত ভেকুটি হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এক্সক্যাভেটর কারা ভাড়া করেছিলেন, তাদের নাম-পরিচয় জানতে পারেননি তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আছেন সমিতির সম্পাদক শাহ আলম ও অফিস সহকারী শাহাদাত। বাকি দুজন সমিতির সদস্য আতিকুর ও কামরুল। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টাকার বিনিময়ে তারা ভাঙচুরে অংশ নেন। অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত ১৪ জনের মধ্যে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দারুস সালাম থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব শান্ত রহমান, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সদস্য হুজাইফা এবং দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তবে তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনায় জড়িত হানিফ মিয়াসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছিল, ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলসহ আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাড্ডা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে। গত বৃহস্পতিবার স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। এর পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসীকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কঠোর ওই বার্তা পাওয়ার পরদিন পদত্যাগ করেন মিষ্টি। দীর্ঘদিন সমমনা দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে রাড্ডার জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাঁচ দশকের বেশি সময় ১০ কাঠা ওই জমির ওপর শিশু ও মাতৃসেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা। সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। হামলা-লুটপাটে জড়িতদের অনেকে তিনিসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার অনুসারী। যদিও মিষ্টি শুরু থেকে এ ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

Source 2: Ajker Patrika · 30/09/26open original ↗

আমার লাশের ওপর দিয়ে হলেও উচ্ছেদ কর্মসূচি চলমান থাকবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান যে কোনো মূল্যে চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, ‘নগরবাসীকে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত উদ্ধারের যে উচ্ছেদ কর্মসূচি চলছে, প্রয়োজনে আমার লাশের ওপর দিয়ে হলেও তা চলমান থাকবে, অরাজকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।’ আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকালে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা পরিদর্শনকালে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। ডিএনসিসি জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে যেসব অরাজকতা সৃষ্টিকারী, দুষ্কৃতকারী ও অবৈধ ফ্যাসিজম দখলদার সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তাদের আইনে আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, মিরপুর-১০ পরিচালিত আজকের উচ্ছেদ অভিযানে ফ্যাসিজমের আমল থেকে ফুটপাত দখলকারীরা ও তাদের দোসরদের ইন্ধনে এই হামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে মিরপুরের সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আজ পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিজমের দোসরা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে।

Source 3: Dhaka Post · 01/10/26open original ↗

মিরপুরে উচ্ছেদে ভাঙচুর-আগুন : চার মামলায় আসামি ১০০০

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি ও কাফরুল থানায় পৃথক একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার জনকে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর থানায় সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা রুজু করেছে। তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জন। এ দিকে এ বিষয়ে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সেখানে ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বরের সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। এরপর দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এমএসি/জেডএস

Source 4: Prothom Alo · 03/10/26open original ↗

নেই হোপ মার্কেট, মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটপাত এখন ফাঁকা

হকার উচ্ছেদের পর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করছেন পথচারীরা। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের কাছে বিআরটিএ কার্যালয়ে যাওয়ার ফুটপাতেছবি: তানভীর আহাম্মেদ রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। আরোহী ছিলেন দুই নারী। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে। সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও। চারপাশ এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও যেন খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তাঁরা। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন। গত বুধবার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে—এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল না। হোপ মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে ফুটপাত ও সড়কের সুন্দর ফাঁকা অবস্থা দেখে ভালো লাগছে বলেও তাঁরা জানান। এলাকাটিতে হোপ প্লাজা নামের একটি ভবন আছে। এর আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে এত দিন ভ্রাম্যমাণ যে বাজার বসত, তা হোপ মার্কেট নামে পরিচিতি পায়। গতকাল কেনাকাটা করতে আসা দুই নারীই ছিলেন শিক্ষার্থী। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি ছাত্রীনিবাসে থাকেন। তাঁদের একজন সুরাইয়া মিম, অন্যজন নওশীন জাহান। হোপ মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে ফুটপাত ও সড়কের সুন্দর ফাঁকা অবস্থা দেখে ভালো লাগছে বলেও তাঁরা জানান। সুরাইয়া মিম বলেন, এত দিন এই সড়ক যে এতটা প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত আছে, তা বোঝারই উপায় ছিল না। নওশীন জাহান বলেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দোকানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যে কী পরিমাণ ভোগান্তি হতো, তা এখন ফাঁকা জায়গাটি দেখে বোঝা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন। ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধেছবি: প্রথম আলো গতকাল বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও নেই। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। হোপ মার্কেটসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের দোকানপাট সরে গেছে। আরও পড়ুন মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জন আটক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তাঁর উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও। গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত এখন ফাঁকা অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখলে ছিল হকারদের। ফুটপাতের সীমানাদেয়ালের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে পলিথিন ও ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে দোকান বসানো হয়েছিল। মূল সড়কের ভেতরেও দুই থেকে তিন সারিতে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও। সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। গতকাল সরেজমিন সেখানে কোনো দোকান দেখা যায়নি। বুধবার ভেঙে দেওয়া দোকানের বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে। ফরিদা বেগম চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন ফরিদা বেগম। ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকেন তিনি। ফরিদা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে।’ হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কী যে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম! আর এখন কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি লাগছে।’ এই ফুটপাত-সড়ক এমনই দখলমুক্ত থাকুক—এমন প্রত্যাশা করে রফিকুল বলেন, সিটি করপোরেশন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে। আবারও অবৈধ কোনো দখলদারের কবলে না পড়ে ফুটপাত-সড়ক। আরও পড়ুন এভাবে কি হকার উচ্ছেদ করা যায় ০১ অক্টোবর ২০২৬ প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন রাজধানী থেকে আরও পড়ুন রাজধানী ঢাকাউচ্ছেদমিরপুরফুটপাত