পেনশন পেয়েছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, এমন তথ্যে বাড়িতে ডাকাতি
Why this classification
The article describes a recent (15 Oct 2026) armed robbery and assault at a house in Mirsharai, Bangladesh, involving a gang of perpetrators and a law‑enforcement victim, which meets the violence criteria and falls within the 14‑day window.
Killed
0
Injured
0
Summary
১৫ অক্টোবর বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে ১৫-১৬ জনের একটি গোষ্ঠী প্রবেশ করে তাকে মারধর করে, পরিবারকে জিম্মি করে এবং নগদ, স্বর্ণ, মোবাইল ইত্যাদি প্রায় ১৬.৪ লাখ টাকার মূল্যমানের সামগ্রী লুট করে। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পাঁচজন গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার করে অস্ত্র, গুলি, ট্রাক এবং লুণ্ঠিত সামগ্রী উদ্ধার করে।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
94% · severity 5
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Law Enforcement
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 15/10/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ আতঙ্কে বিক্ষোভ, লাঠিপেটা
সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য উচ্ছেদ করা হতে পারে– এমন আশঙ্কায় চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবির বাগ্বিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হয়। লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ফটিকছড়িতে চা-বাগান কর্মকর্তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, আটক ২
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের মির্জারহাট এলাকায় পঞ্চবটি চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক নেপাল কান্তি দাশ ও পল্লিচিকিৎসক বাবুল দাসকে কুপিয়ে জখম করে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগানের প্রবেশমুখে একটি মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে ভূজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পুলিশ ও বাগান কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নেপাল কান্তি দাশ ও বাবুল দাস নারায়ণহাট কৃষি ব্যাংক থেকে চা-বাগানের ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। বাগানের প্রবেশমুখে তিনজনের একটি ছিনতাইকারী দল তাঁদের গতি রোধ করে বলে অভিযোগ। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এতে বাধা দিলে নেপাল কান্তি দাশ ও বাবুল দাসকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পঞ্চবটি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক অর্জুন কুমার নাথ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর চা-বাগানের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে আবু (২৩) নামের একজনকে আটক করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিহান (২৫) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ভূজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করা ও ছিনিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পেনশন পেয়েছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, এমন তথ্যে বাড়িতে ডাকাতি
অবসরে যাওয়ার পর পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা পেয়েছেন— এমন তথ্য জেনে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও একটি ট্রাকসহ লুণ্ঠিত বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মো. রহিম (৪০), বরুড়ার মো. জামাল প্রকাশ কুদ্দুস (৪২), দাউদকান্দির মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব (২৭), লাকসামের মো. আনোয়ার হোসেন মিলন (৫০) ও মো. হানিফ (৫৮)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিলন ও হানিফ চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৫ থেকে ১৬ জনের একদল ডাকাত বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা বাড়ির মালিক মো. মতিন উল্লাহকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাখে এবং তার স্ত্রী ও মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক ঘরে আটকে রাখে। আরও পড়ুন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকাত দল বিভিন্ন কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) ও সিপিইউসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা। ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে। খবর পেয়ে মিরসরাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মিরসরাই থানা-পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি এলজি, চারটি কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা, একটি ট্রাক, সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তার রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, খুন ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। জামালের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ৪টি, সাইফুলের বিরুদ্ধে ২টি ডাকাতির মামলা এবং হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, অবসরপ্রাপ্ত এএসপি পেনশন বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন—এমন খবরের ভিত্তিতেই মূলত ডাকাত দলটি এই বাড়িতে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। আরএফ
বন কর্মকর্তার ওপর হামলা ‘লোকজন হঠাৎ কিলঘুষি দেওয়া শুরু করে, কোনোরকমে প্রাণে বেঁচেছি’
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দখল হয়ে যাওয়া সরকারি বনভূমি উদ্ধারে গেলে হামলার শিকার হন বন কর্মকর্তাছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দখল হয়ে যাওয়া সরকারি বনভূমি উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্ক–সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীনসহ বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় দখলকারীরা বাধা দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের নেতৃত্বে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। অভিযানে তিনটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় পাঁচ একর সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ কোদালা বিটের অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের গাড়ি রাখার জায়গার পাশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেখানে সরকারি বনভূমিতে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ঘর ও ঘেরাবেড়া উচ্ছেদ করেন বনকর্মীরা। এরপর পার্কের বনভোজনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদে যান তাঁরা। সেখানে একটি ঘর ভেঙে দেওয়ার পর দখলকারীরা বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাময়িকভাবে অভিযান বন্ধ রাখা হয়। রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধার করতে আজ অভিযানে যাই। খবর পেয়ে দুই থেকে আড়াই শ লোক জড়ো হন। তাঁরা কোনো কথা শুনতে রাজি হননি। মারধর শুরু করেছেন। লোকজন এসে কিলঘুষি দেওয়া শুরু করেন। পরে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে এসেছি।’ মেহরাজ উদ্দীনের অভিযোগ, হামলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছেন তাঁরা। মামলা করার প্রস্তুতিও চলছে। চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও গাছ কাটাসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তবে ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তিনি যতটুকু শুনেছেন, অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্ক সম্প্রতি ১৩ জন ব্যক্তি ইজারা নিয়েছেন। ইজারাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্কের আওতাধীন কিছু জায়গায় স্থানীয় লোকজন ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। আজ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইজারাদারেরা সেখানে গিয়ে কয়েকটি ঘর ভেঙেছেন। এ সময় এক নারীকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। পরে এলাকার লোকজন তাঁদের ধাওয়া দেন এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। ওসি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের আগে তাঁদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। অভিযানের বিষয়ে পুলিশকেও অবহিত করা হয়নি। ঘরবাড়ি থেকে লোকজনকে বের করে দেওয়ার সময় এক নারীর মাথায় আঘাত লাগার এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে এসব বিষয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। ওসি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে আসতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। কোনো এজাহারও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসির বক্তব্যের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযান পরিচালনা করা ভূমিতে নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণত নতুন ঘরে অভিযান চালানোর কাজ বন বিভাগের কর্মীরাই করেন। অভিযানে গিয়ে কাউকে মারধর করা হয়নি। কাউকে আঘাত করা হয়নি। উল্টো বন বিভাগের কর্মকর্তাকে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ বারবার হামলার শিকার বনকর্মীরা রাঙ্গুনিয়ায় বনভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বনভূমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি বনকর্মীদের কার্যালয়ে আটকে রেখে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বন বিভাগের হিসাবে উপজেলায় এখনো প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি বেদখলে রয়েছে। কোদালা, নারিশ্চা, চিরিঙ্গা, পোমরা ও নিশ্চিন্তপুর বন বিটের বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল করে বসতি স্থাপন এবং পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৭ মার্চ রাতে ৪০ থেকে ৪৫ জন অস্ত্রধারী কোদালা বিটের কর্মকর্তা খোন্দকার মাহাবুবুর রহমান ও তাঁর সহকর্মীদের কার্যালয়ে আটকে রাখেন বলে থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী বাইরে থেকে তালা দিয়ে তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ওই সময় চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ জঙ্গল নিশ্চিন্তপুর এলাকার সেগুনবাগান থেকে ২৪টি সেগুনগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। বন বিভাগ সূত্র জানায়, দখলকারীদের প্রতিরোধ করতে গত দেড় বছরে বিভিন্ন অভিযানে বনকর্মীদের প্রায় ৩০টি গুলি ছুড়তে হয়েছে। দখলকারীদের পক্ষ থেকেও পাল্টা গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে হুমকি ও হামলার চেষ্টার ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় অন্তত ১০টি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব ঘটনায় বনভূমি থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ কিংবা গাছ কাটা বন্ধ করতে গেলে দলবদ্ধভাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাঙ্গুনিয়ায় বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। দখলমুক্ত করার পরও একই জায়গায় নতুন করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চলে। অভিযানে গেলে লোকজন জড়ো করে বাধা দেওয়া হয়। ফলে অল্পসংখ্যক বনকর্মীর পক্ষে বনভূমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন হামলাঅপরাধবনচট্টগ্রাম বিভাগরাঙ্গুনিয়া
