বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁকের পর মৃত্যু, বাবা আটক
Why this classification
প্রবন্ধে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার সময় ১৮ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে একটি হিংসাত্মক হত্যাকাণ্ড এবং ১৪ দিনের সময়সীমার মধ্যে ঘটেছে, তাই এটি বৈধ হিংসা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
Killed
1
Injured
0
Summary
মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় কর্ণফুলীর জুলধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ডাঙ্গারচর ওয়ার্ডে ১৮ বছর বয়সী সাঈদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার সময় মারা যান। তার বাবা নুর মোহাম্মদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
94% · severity 8
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 06/10/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
চমেক হাসপাতালে আসার আগে ৮৪% মানসিক রোগী অপচিকিৎসার শিকার
চমেক হাসপাতালে আসার আগে ৮৪% মানসিক রোগী অপচিকিৎসার শিকার শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে আসার আগে ৮৪ শতাংশের বেশি মানসিক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, কুসংস্কার ও অপচিকিৎসার কারণে অনেক রোগীর চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, জটিলতা বাড়ে। কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটতে পারে। গত ৯ মাসে হাসপাতালে ২২ হাজার মানসিক রোগী চিকিৎসা নেন। এ সময় প্রত্যেক রোগীর আগের কথিত চিকিৎসার বিস্তারিত রেজিস্ট্রারে লিখে রাখেন চিকিৎসকরা। এরপর পর্যালোচনায় মানসিক রোগীদের অপচিকিৎসার চিত্রটি উঠে আসে। গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে কথিত চিকিৎসার নামে নির্যাতনে ১৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে সুস্থ করার আশায় বাবা নুর মোহাম্মদ কবিরাজের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কবিরাজের পরামর্শে প্রথমে ছেলেটিকে ঝাড়ফুঁক করা হয়। একপর্যায়ে ছেলেটির হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং মুখে লাঠিসদৃশ বস্তু ঢোকানো হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা নির্যাতনের পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কবিরাজ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমন প্রেক্ষাপটে আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দিনে চট্টগ্রামের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উদ্বেগজনক চিত্রটি সামনে এসেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, মানসিক রোগের চিকিৎসায় কুসংস্কার ও অপচিকিৎসা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক রোগী প্রথমে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কবিরাজ, ওঝা, বৈদ্য কিংবা অন্য কথিত চিকিৎসকদের কাছে যান। তারা রোগীকে তাবিজ, ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া দেন। এসব কথিত চিকিৎসায় শারীরিক বা মানসিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চমেক হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার রোগী বিভাগটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার রোগী আগে অপচিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৮৪ শতাংশ রোগী অপচিকিৎসার শিকার। হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. পঞ্চানন আচার্য্য সমকালকে বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, মানসিক রোগ বলতে কিছু নেই, এটি জিন-ভূতের বিষয়। এ জন্য ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না তারা। ফলে চিকিৎসার চেয়ে নানা অপচিকিৎসায় বেশি বিশ্বাস তাদের। ডাক্তার না দেখিয়ে স্থানীয় বৈদ্য, ওঝা, জ্যোতিষী ও কবিরাজের কাছে ছোটেন। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হয়।’ ডা. পঞ্চানন আচার্য্য আরও বলেন, ‘মানসিক রোগীদের সুস্থ করে তুলতে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপচিকিৎসা। বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।’ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। আক্রান্ত মানুষের তুলনায় দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র সাড়ে তিনশর মতো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপের ভিত্তিতে বেসরকারি সংস্থা লাইট হাউসের তথ্য বলছে, মানসিক সমস্যায় ভোগা দেশের ৯১ শতাংশ মানুষ চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসাসেবার সীমিত প্রাপ্যতা এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম রোগীর চাপ বাড়লেও চট্টগ্রামে সরকারি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা সে অনুপাতে বাড়েনি। বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য চমেক হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। বিভাগটিতে সরকার অনুমোদিত শয্যা ২৩টি। রোগীর চাপ সামলাতে সেখানে ৬০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপরও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। বিভাগটিতে অধ্যাপকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল অফিসারের তিনটি পদও শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকট রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নেই। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর ঘাটতি মানসিক রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা। কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ বলেন, ‘কবিরাজের পরামর্শে কথিত চিকিৎসার নামে ছেলে আবদুল্লাহকে নির্মমভাবে অত্যাচার করেন বাবা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা নির্যাতনের কারণে ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।’ চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন সমকালকে বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা। সে হারে বাড়ছে না চিকিৎসার সহজলভ্যতা। পুরো চট্টগ্রামের মানুষের ভরসা কেবল চমেকের মনোরোগ বিভাগটি। তবে বিভাগটিতে চিকিৎসক, নার্সসহ পর্যাপ্ত জনবলের সংকট প্রকট। তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে মানসিক রোগের চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় এ অঞ্চলের ফেনী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ অনেক প্রত্যন্ত এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। যে কারণে বহির্বিভাগ ও অন্তবিভাগে সবসময় রোগীর বাড়তি চাপ থাকে। জনবল সংকটসহ যাবতীয় বিষয় জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।’ - বিষয় : - দিবস আজ
চট্টগ্রামে চিকিৎসার নামে ‘ঝাড়ফুঁক’, বাবার হাতে প্রতিবন্ধী ছেলের মৃত্যু
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে কবিরাজের পরামর্শে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে ঝাড়ফুঁক ও কথিত চিকিৎসা দেওয়ার সময় বাবার হাতে সাঈদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চৌকিদার নুর মোহাম্মদকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এবাদুল্লাহর বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাঈদ জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তার চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। নিহতের বাবা নুর মোহাম্মদ নিজেও কবিরাজি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে কবিরাজের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেকে কথিত চিকিৎসা দিচ্ছিলেন নুর মোহাম্মদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ সময় ঝাড়ফুঁকের পাশাপাশি সাঈদকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসার নামে তার মুখের ভেতর লাঠিসদৃশ কোনো বস্তু ঢোকানো হয়। এতে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে বিকেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বদি বলেন, নুর মোহাম্মদ আমার ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার। কোনো এক ভণ্ড পীরের পরামর্শ অনুযায়ী মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নুর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। দুই-তিন দিন ধরে চৌকিদার নুর মোহাম্মদকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেছে। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ছেলেটি মানসিক প্রতিবন্ধী। পরিবার তাকে কবিরাজের পরামর্শে কথিত চিকিৎসা দিয়েছে। এ কারণে ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এনামুল হক নাবিদ/এএমকে
আবারও আলোচনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা
চসিক নগরভবনে পুলিশের অভিযান আবারও আলোচনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা অভিযোগের পরই খুলশী থানার ওসি বদলি * বগা জুলাই-আগস্টের যোদ্ধা : মেয়র শাহাদাত Advertisement চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং লিডার ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগাকে ঘিরে আবারও নগরে চলছে আলোচনা। তার বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সম্প্রতি একটি হত্যাকাণ্ডেও তার নাম এসেছে। তাকে গ্রেফতার করতে মঙ্গলবার রাতে টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নগরভবনে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে বগাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করেন। তবে মেয়র এ অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, ওই রাতে বগা নগরভবনে যাননি। তার দুই ভাই খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযানকে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে তিনি সিসিটিভি ফুটেজে বগার উপস্থিতি দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগা নগরভবনে অবস্থান করছেন-এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানা পুলিশের একাধিক টিম সেখানে যায়। অভিযানে সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপনও ছিলেন। তিনি নগরভবনে প্রবেশ করলে মেয়র পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চলে যেতে বলেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ৯টার দিকে বগাকে গ্রেফতার না করেই পুলিশ নগরভবন ত্যাগ করে। এরপর মেয়রও কার্যালয় থেকে বের হন। সাংবাদিকরা এ সময় ভিডিও ধারণ করলে মেয়রের অনুসারীরা কয়েকজন সাংবাদিককে ধাক্কা দেন এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। বুধবার নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে মেয়র বলেন, ‘চসিক কার্যালয়ে যে কেউ কমপ্লেইন নিয়ে আসতে পারে। আর সে যদি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়, তাকে গ্রেফতার করা পুলিশের দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াকিল কোনো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নয়। সে ১৭-১৮ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। জুলাই-আগস্টের যোদ্ধাও সে। তার বিরুদ্ধে তখনই ৬০-৭০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল।’ খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মেয়র। তার দাবি, আবদুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন এবং খুলশীতে যোগ দেওয়ার পর কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেননি। তবে মঙ্গলবার রাতে অভিযানের সময় ওসি আবদুর রহিম সেখানে ছিলেন না। তিনি দুই দিনের ছুটিতে ছিলেন। বগার বিরুদ্ধে ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় করা ওই মামলায় বগাকে এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি করা হয়। এর পরদিন তাকে গ্রেফতার করতে ওয়্যারলেস এলাকায় অভিযান চালালে তার অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ওসির সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় বগা ও তার ভাই রকি হোসেন ওরফে পিচ্চিসহ ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। ২৭ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস তালতলা এলাকায় হৃদয় নামে এক কিশোর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। পরে পুলিশ আট কিশোরকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, দুই কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ৫-জি ও ৭-জি নামের ওই দুই গ্রুপের একটির নেতৃত্বে বিজয়, কামরান ও শান্ত এবং অন্যটির নেতৃত্বে বগা ও তার ভাই রকি হোসেন পিচ্চি রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পারে। এ ঘটনায় গ্রেফতার তিন কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে বগাকে প্রধান আসামি করে খুলশী থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে। জালালাবাদ এলাকায় শেখ মুহাম্মদ আরিফের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। পরে বগার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, পাহাড় কাটা, জমি দখল-পালটা দখলসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে। তবে সিএমপির সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে টাইগারপাস এলাকায় বগার ঘোরাফেরার তথ্য পেয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে। নগরভবনে পুলিশ গিয়ে হট্টগোল করেছে-এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ ও উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সরকারি নম্বরে কল ও এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। ওসি বদলি : নগরভবনে অভিযানের পর বুধবার খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে সিটি এসবির পরিদর্শক হিসাবে বদলি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, মেয়র তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ‘পারপাস সার্ভ’ করার অভিযোগ তোলার পরই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আবদুর রহিম বলেন, নগরভবনে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ মামাকে দেখতে যাওয়ায় তিনি ছুটিতে ছিলেন।
বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁকের পর মৃত্যু, বাবা আটক
হাতকড়াপ্রতীকী ছবি চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁক করার সময় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ডাঙ্গারচর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (১৮) ওই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ নুর মোহাম্মদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঈদ বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন নুর মোহাম্মদ। এক ব্যক্তির পরামর্শে আজ বিকেলে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। একপর্যায়ে সাঈদ মারা যান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাঈদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা নুর মোহাম্মদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। নুর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কার পরামর্শে তিনি ছেলেকে বেত দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে গেলেন, তা জানতে চেষ্টা করছি।’ প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন কর্ণফুলীপ্রতিবন্ধীমৃত্যুচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বিভাগ
