ময়মনসিংহে চেম্বারে ঢুকে পশু চিকিৎসককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
Why this classification
The incident is classified as political violence because the primary perpetrator is a named leader of the BNP's student wing, Chhatra Dal, who used his political influence to demand extortion money and physically assault a doctor. The organization officially acknowledged the incident by expelling the involved members for violating organizational discipline.
Killed
0
Injured
1
Summary
ময়মনসিংহে চাঁদার দাবিতে মহানগর ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানের নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে হামলা, মারধর ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
95% · severity 5
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: BNP
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 21/08/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার ছবি: সংগৃহীত নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০২:১০ ময়মনসিংহ নগরের জিলা স্কুলের সামনে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে চাঁদা না পেয়ে হামলা, চিকিৎসককে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক মো. আশিকুর রহমান শনিবার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য প্রকাশ্যে এলে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে আশিকুর রহমানকে চাপ দেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকী ও কর্মীর স্ত্রী তাওহিয়া আক্তারকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আফরিন রশিদ সেঁজুতি নামে এক নারী চেম্বারে ঢুকে জুতা খুলে চিকিৎসককে মারধর করছেন। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করছেন। একপর্যায়ে তাঁকেও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারতে দেখা যায়। শনিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে আশিকুর রহমান দাবি করেন, হামলার সময় ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে। চিকিৎসকের দাবি, চাঁদা দাবির পাশাপাশি ঘটনার পেছনে এক বছর আগে সেঁজুতি নামের ওই নারীর একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চা প্রসবের ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধও থাকতে পারে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় তালহাজুর রহমানকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। - বিষয় : - ময়মনসিংহ - ছাত্রদল নেতা - বহিষ্কার
চাঁদা না দেওয়ায় চেম্বারে ঢুকে পশু চিকিৎসককে মারধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
ময়মনসিংহ নগরের একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে এক চিকিৎসককে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী চিকিৎসক মো. আশিকুর রহমান নগরের জিলা স্কুলের পাশের একটি গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে একটি চেম্বারে বিড়ালের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি আনুষঙ্গিক উপকরণ বিক্রি করেন। এ ঘটনার ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী চেম্বারে ঢুকে জুতা খুলে চিকিৎসককে মারধর করছেন। এ সময় পাশে থাকা নগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। একপর্যায়ে তিনিও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারেন। হামলাকারী ওই নারী সম্পর্কে ছাত্রদল নেতার বন্ধুর বান্ধবী বলে জানা গেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আশিকুর রহমান। অভিযোগে ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আশিকুর রহমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা চেম্বারে ঢুকে চাঁদার জন্য চাপ দেন। এ সময় প্রতিবাদ জানালে সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, আশিকুরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয়। হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেম্বারের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলার পেছনে চাঁদা দাবির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ এবং এক বছর আগের একটি ঘটনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক আশিকুর রহমান। তিনি জানান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি নামের ওই নারী একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চা প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এছাড়া ফেসবুকে অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে লেখালেখি করেছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি সেগুলো করছেন, এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে (প্রতীক) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর শাখার সভাপতি গোবিন্দ রায়। তিনি বলেন, এক চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে হাতাহাতি ও মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক ঘটনার জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়। কেন্দ্রীয় সংসদ ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সাখাওয়াত সুমন/আরকে
ছাত্রদল থেকে দুজনকে অব্যাহতি
মমেকে সংঘর্ষ, ১২ জনের নামে মামলা ছাত্রদল থেকে দুজনকে অব্যাহতি Advertisement ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) বাঘমারা ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মমেক ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম- আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আটক মেডিকেল শিক্ষার্থী নাফিউল ও মীর হামিদুরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজের বড় ভাই ডা. আহমদ শফি। মমেক ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুয়াজ বর্তমানে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন। হামলায় আহত ৬১ ব্যাচের অপর শিক্ষার্থী মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। অপর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। উভয় বিবৃতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই অনুমোদন ও নির্দেশনা প্রদান করেন। মমেক বাঘমারা ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আটক মেডিকেল শিক্ষার্থী নাফিউল ও মীর হামিদুরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের নামে শনিবার রাতে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজের বড় ভাই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আহমদ শফি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। মামলায় অপর আসামিরা হলেন এমবিবিএস ৬১ ব্যাচের তিহান, নয়ন, অমিত, সাব্বির, ৬০ ব্যাচের নূরে জাওয়াত রুতাপ ও মাইনুল হাসান, ৫৭ ব্যাচের রাহি, বিডিএস-১৪ ব্যাচের ফুয়াদ হাসান বনি ও আহনাফ আবিদ, বিডিএস-১৩ ব্যাচের কাউসার আহম্মেদ সৌরভ। জুনিয়র অনুসারীদের দিয়ে মোটরসাইকেলের তেল আনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাস ক্যানটিনে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রদলের দুই কর্মী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মীর হামিদুর তার কক্ষে মুয়াজকে ডেকে নিয়ে জুনিয়রদের সামনে চড়থাপ্পড় মারেন। এ নিয়ে মুয়াজ ক্ষুব্ধ হয়ে রড দিয়ে মীর হামিদুরের মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষের অনুসারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় মীর হামিদুরের এক অনুসারী নাফিউল পুলিশের উপস্থিতিতেই মুয়াজকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাফিউলকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পর ভোরে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা করে সাত দিনের জন্য কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৬১ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী ও মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের সদস্য।
ময়মনসিংহে চেম্বারে ঢুকে পশু চিকিৎসককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
তালহাজুর রহমানছবি: সংগৃহীত ময়মনসিংহে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ওই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসকের নাম আশিকুর রহমান। এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে সদ্য বহিষ্কৃত মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিব নামের তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিকুর রহমান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তাঁর চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাঁকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। তাঁর স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। আশিকুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তাঁকে, তাঁর কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। শনিবার মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে তালহাজুর চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন। সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে আশিকুর রহমান চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাঁকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি (আশিকুর) সেগুলো করছেন—এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়। এদিকে ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পৃথক ঘটনায় দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের দুই নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তাঁরা হলেন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান ও সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রহমান। শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় বলেন, বহিষ্কৃত আবু তাহেরের বিরুদ্ধে শুক্রবার আওয়ামী লীগের মিছিল চলাকালে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকার কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়ায়, যা নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে তালহাজুর রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন, এক চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে হাতাহাতি ও মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক ঘটনার জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়। কেন্দ্রীয় সংসদ ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন বহিষ্কারছাত্রদলময়মনসিংহময়মনসিংহ সদরমারধরময়মনসিংহ বিভাগ
