ঢাকায় কোচিং করতে আসা শিক্ষার্থী রাকিবকে হত্যার পর কার্টনে ভরে লাশ নেওয়া হয় নীলফামারীতে
Why this classification
এটি একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, যেখানে ভুক্তভোগীকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি সাম্প্রতিক (১৪ দিনের মধ্যে) এবং বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে, তাই এটি সহিংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Killed
1
Injured
0
Summary
ঢাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম (১৭) কে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিবুলকে হত্যার পর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয় এবং ৬ অক্টোবর নীলফামারীর ডিমলায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
95% · severity 9
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 16/09/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
মোটরসাইকেল আরোহীকে ইট দিয়ে আঘাত করা দুজন গ্রেপ্তার, শত্রুতার জেরে হামলা: পুলিশ
মোটরসাইকেল আরোহীকে ইট দিয়ে আঘাত করা দুজন গ্রেপ্তার, শত্রুতার জেরে হামলা: পুলিশ ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া সমকাল প্রতিবেদক প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২০:০৬ রাজধানীর কাফরুলে মোটরসাইকেল আরোহীকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঢাকা ও ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. পারভেজ ও আনোয়ার হোসেন বাবু। শত্রুতার জের ধরে তারা এ ঘটনা ঘটান বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ১০০ গজ পূর্বে ইব্রাহিমপুরের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী মো. রাফি। তখন দুষ্কৃতিকারীরা তার মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে দুষ্কৃতিকারীরাই ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশায় তাকে তুলে নিয়ে যান। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। উপকমিশনার জানান, ভুক্তভোগীর চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তদন্তে নেমে কাফরুল থানা পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত চারজনকে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তাররা ছাড়া অভিযুক্ত দুজন হলেন– মো. ফয়সাল ওরফে কালু ও মো. আমিন। বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। অপর একটি দল ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থলের কাছের একটি স্থান থেকে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাফির বাসায় আগে ভাড়া থাকতেন পারভেজ। তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত। এ নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ৯ জুন সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে তারা রাফিকে ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেন। পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন গতিরোধের চেষ্টা করেন। মোটরসাইকেল না থামালে পারভেজ ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে তারা বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তিনি আরও বলেন, তারা আশপাশের লোকজনকে জানান, ওপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। শেষে তারা রাফিকে অটোরিকশায় করে নিয়ে ইব্রাহিমপুর এলাকায় ফেলে রেখে চলে যান। গ্রেপ্তার পারভেজ ও কালুর বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এর আগে কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪ এর সদস্যরা। পুলিশ ও র্যাবের গ্রেপ্তার করা চারজনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার এসআই হাসিবুর রহমান তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তিন আসামির মধ্যে পারভেজ ও বাবুর পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। আর কালুর পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না। এদিকে রাফির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার স্বজনরা। তারা বলেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রাফি। সবাই আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করলেও তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ কেউ নেননি। রাফি যেন যথাযথ চিকিৎসা পেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তারা।
রামিসা হত্যা: ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে আজ, রোববারের মধ্যেই চার্জশিট
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) টেস্ট শেষ হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামীকালের (২৪ মে) মধ্যে এ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান শনিবার (২৩ মে) ঢাকা পোস্টকে জানান, ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টটি আজ হাতে পেলে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আশা করছি, আগামীকালই (রোববার) চার্জশিট দাখিল করতে পারবো। এদিকে এ মামলায় গত বুধবার (২০ মে) গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানান এই ঘাতক। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না। মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার। অপর আবেদনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আর্জি জানানো হয়। আবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (০৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়। এরপর রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন। এনআর/এসএম
রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে যেসব তথ্য জানা গেল
রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে যেসব তথ্য জানা গেল Advertisement যুগান্তর প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১১:৪৭ এএম ফাইল ছবি। রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল। ফরেনসিক ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাই রামিসাকে ধর্ষণ করেছিল। ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। শনিবার শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। রোববার আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি। রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ : রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় কোচিং করতে আসা শিক্ষার্থী রাকিবকে হত্যার পর কার্টনে ভরে লাশ নেওয়া হয় নীলফামারীতে
সংবাদ সম্মেলনে রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারেছবি: পুলিশের সৌজন্যে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসে রাকিবুল ইসলাম (১৭)। ওঠে শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের একজন ফোন করে ডেকে নেওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি এই কিশোর। পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করতে কার্টনে ভরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারীতে। সেখানে একটি সুপারিবাগানের ভেতরে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকাও দেন। তারপরও রাকিবুলকে খুঁজে না পেয়ে দুদিন পর ঢাকায় এসে তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বড় ভাই জহুরুল ইসলাম। সেই জিডির সূত্র ধরেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা মহিদুল বলেন, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন আসে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয় তাকে। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কাফরুল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করে যে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দেওয়া হয়, সেগুলোর ব্যবহারকারী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় একটি সুপারিবাগান থেকে কার্টনে ভরা অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে মহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। এর মধ্যে পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মামুন। টাকা না দিলে রাকিবকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। মুক্তিপণ আদায় করতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান। তারপরও তাকে ফিরে না পেয়ে তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় রাকিবের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করেন। রাকিব খুন হয়েছে জানার পর তিনি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় আসা রাকিবুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশছবি: পুলিশের সৌজন্যে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঢাকায় আসার পর একাধিকবার রাকিব তাঁর বাসায় যায়। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তাঁর বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। মামুন তাকে মুক্তিপণের টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিব মারা যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবকে হত্যা করার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে মামুন নিজেই তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। টাকা পাওয়ার পর নম্বর বন্ধ করে পালিয়ে যান মামুন। কার্টনে ভরে নেওয়া হয় নীলফামারীতে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব মারা গেলে তার মরদেহ গুম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মামুন। মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে ফেলেন তিনি। এরপর তাঁর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় তুলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। কার্টনটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে সেটা দেখে মরদেহ আছে বোঝার উপায় ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে নেওয়া হলেও কারও সন্দেহ হয়নি। পুলিশ আরও জানায়, গাবতলী থেকে বাস ও অন্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় যান মামুন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করেন। পরে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ সেখানে মাটিচাপা দেন। মহিদুল ইসলাম জানান, মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মামুন যে চার লাখ টাকা নিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন অপরাধ থেকে আরও পড়ুন নীলফামারীশিক্ষার্থীলাশরংপুর বিভাগহত্যাকাণ্ডঅপরাধহত্যা
