কুষ্টিয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪
Why this classification
This incident was classified as criminal violence in Kushtia. Parties reported: Yarul Group, Rashu Member Group. Reported casualties: 0 killed and 10 injured. Reported by 3 sources.
Killed
0
Injured
10
Summary
২০২৬ সালের ২২ মার্চ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইয়ারুল ও রাশু মেম্বার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
99% · severity 7
Parties involved
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 10
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 22/03/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারায় হামলা, গুলিবিদ্ধ ৭
কুষ্টিয়া বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারায় হামলা, গুলিবিদ্ধ ৭ কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ২০:৪৫ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয় বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন - কয়া ইউনিয়নের রাধাগ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। তাদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। অন্যান্যরা গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে গ্রামের রতন শেখ কোমল পানি পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারেন। এ সময় ক্যাপটি গিয়ে গ্রামের কাসেম নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। তখন ক্যাসেট বকাবকি করলে রতন তাকে মারধর করে। বিষয়টি ক্যাসেট বাড়ি গিয়ে তার ছেলে মামুনকে জানায়। মামুন এসে তার বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে রতন তাকেও মারধর করে। সেসময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের কৃষক ছেলে আলম শেখ রতনকে একটা চর মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন এসে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখের অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ এসেছে সমকালের হাতে। সেখানে দেখা যায়, ‘কৃষিজমিতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করছেন। তাদের অনেকের মাথায় হেলমেট পরা। অনেকের হাতে ঢাল, সরকি লাঠিসোঁটা, আগ্নেয়াস্ত্র।’ সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের হাতে, বুকে, পায়ে ছড়রা গুলি লেগে রক্তাক্ত হয়েছে। তাদের দেহে রক্তাক্ত ক্ষত। আহত জনি শেখ বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার তারা ১০ থেকে ১২ জন মসজিদ আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখন জেলেপাড়ার সরদার সন্ত্রাসী ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েক শ’ সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমিসহ অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছি। আহত মো. রাব্বি বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসী ইয়ারুল তার বাহিনী দিয়ে গুলি করেছে। আমার শরীরে অন্তত ২২টি গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। তার ভাষ্য, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে গুলি করছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। জানতে চাইলে মুঠোফোনে আলম শেখ বলেন, সকালে প্রতিপক্ষের রতন একজনের মাথায় আরসির (কোমল পানীয়) বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে হালকা পাতলা মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকেলে ইয়ারুল, রতন, নাসির, সোহেলসহ তাদের লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। এতে আমরা সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছি। থানায় মামলা করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কী ধরনের, গুলি তা বলা যাবে। এ বিষয়ে জানতে জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। - বিষয় : - কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।আজ রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধরা হলেন বেড় কালোয়া গ্রামের আমজাদ শেখের ছেলে আজম শেখ (৫৪), একই এলাকার বাবু শেখের ছেলে রাব্বি (২২), মুক্তার শেখের ছেলে সারুখ (২০) এবং লিটন শেখের ছেলে জনি (২১)। তাঁরা সবাই স্থানীয় রাশু মেম্বার গ্রুপের সমর্থক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া গ্রামের পুলিশ হত্যা মামলার আসামি ইয়ারুল ও রাশু মেম্বার গ্রুপের। এরই জেরে আজ বিকেলে একটি চায়ের দোকানে কোমলপানীয় খাওয়াকে কেন্দ্র সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রুপের লোকজন। একপর্যায়ে শুরু হয় গোলাগুলি। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আহতদের প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, গুলিবিদ্ধ চারজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে রাব্বি নামে একজন বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হবে। বাকিরা শঙ্কামুক্ত। রাত সোয়া ১০টার দিকে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে জানতে পেরেছি। এতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ ছোড়া নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা, ৭ জন গুলিবিদ্ধ
সারাদেশ কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ ছোড়া নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা, ৭ জন গুলিবিদ্ধ জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ২২ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৯ অ+ অ- কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয় বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞাপন আহতরা হলেন- কয়া ইউনিয়নের রাধাগ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫), বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। আহতদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। অন্যান্যরা গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে আসা আহতদের স্বজনরা। পুলিশ ও স্থানীয় তথ্য মতে, আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে গ্রামের রতন শেখ কোমল পানি পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারেন। এ সময় ক্যাপটি গিয়ে গ্রামের কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। তখন কাসেট বকাবকি করলে রতন তাকে মারধর করে। বিষয়টি কাসেট বাড়ি গিয়ে তার ছেলে মামুনকে জানায়। তখন মামুন এসে তার বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে রতন ছেলেকেও মারধর করে। সেসময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের কৃষক ছেলে আলম শেখ রতনকে একটা চর মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞাপন বিষয়টি স্থানীয়রা সে সময়ই মিটমাট করে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন এসে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখের অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এঘটনায় কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কৃষিজমিতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করছেন। তাদের অনেকের মাথায় হেলমেট পড়া। অনেকের হাতে ঢাল, সড়কি, লাঠিসোঁটা, আগ্নেয়াস্ত্র। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত রাব্বি বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসী ইয়ারুল তার বাহিনী দিয়ে গুলি করেছে। আমার শরীরে অন্তত ২২টি গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। তার ভাষ্য, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে গুলি করছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। বিজ্ঞাপন আলম শেখের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সকালে প্রতিপক্ষের রতন একজনের মাথায় আরসির (কোমল পানীয়) বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে হালকা পাতলা মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকেলে ইয়ারুল, রতন, নাসির, সোহেলসহ তাদের লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। এতে আমার সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিচারের আশায় থানায় মামলা করা হবে। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমমিকভাবে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিউল আলম ইভান/এসএইচএ
বোতলের ছিপি ছোড়ায় তুমুল কাণ্ড, গুলিবিদ্ধ সাতজন, বসতঘরে আগুন
হামলার সময় কয়েকজনকে ছড়রা গুলি ছুড়তেও দেখা যায়। রোববার বিকেলে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায়ছবি: ভিডিও কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে কোমল পানীয় বোতলের ছিপি ছোড়াকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত সাতজন। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুঠোফোনে ধারণ করা গুলি ছোড়ার একাধিক ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন রাধাগ্রামের মো. রাব্বি (২২), আজম শেখ (৫৪), মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের শারুফ শেখ (২০), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও মো. শফিউদ্দিন (৬৫)। তাঁদের মধ্যে রাব্বি, জনি, আজম ও শারুফ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের সবাই কয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলামের সমর্থক। হামলার পর গতকাল রাত দেড়টার দিকে রতন শেখ (৫০) নামে একজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর বসতঘর ও আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রতন ওই এলাকার রেজন শেখের ছেলে ও জেলেপাড়ার সরদার আওয়ামী লীগ কর্মী ইয়ারুল শেখের সমর্থক। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে মাছ ধরা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদা তোলা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলামদের সঙ্গে বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার আওয়ামী লীগ কর্মী ইয়ারুল শেখ পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। রোববার সকালে ইয়ারুলের সমর্থক রতন শেখ কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ছিপি ছোড়েন। ছিপিটি গিয়ে গ্রামের ‘ক্যাসেট’ নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। এ সময় ক্যাসেট বকাবকি করলে রতন তাঁকে মারধর করেন। বিষয়টি ক্যাসেট বাড়ি গিয়ে তাঁর ছেলে মামুনকে জানান। মামুন গিয়ে তাঁর বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে রতন তাঁকেও মারধর করেন। সে সময় বিএনপি নেতা রাশিদুলের সমর্থক আলম শেখ এসে রতনকে একটা চর মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিকেলে রতন, ইয়ারুল শেখ, নাসের উদ্দিনসহ তাঁদের লোকজন গিয়ে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিএনপি নেতা রাশিদুলের অন্তত সাতজন অনুসারী গুলিবিদ্ধ হন। এদিন রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ ইয়ারুলের সমর্থক রতন শেখের বাড়িতে আগুন দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণ করলেও পুড়ে গেছে রতনের বসতঘর ও আসবাব। তবে আগুনের সূত্রপাত জানা যায়নি। সে সময় ওই বাড়িতে কেউ ছিল না। আহত কয়েকজনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়ছবি: প্রথম আলো হামলার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ রোববার রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কৃষিজমিতে অর্ধশতাধিক মানুষ ছোটাছুটি করছেন। তাঁদের অনেকের মাথায় হেলমেট। অনেকের হাতে ঢাল, সরকি, লাঠিসোঁটা, আগ্নেয়াস্ত্র। আহত জনি, রাব্বি ও শারুফকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের হাতে, বুকে, পায়ে ছড়রা গুলি লেগেছে। আহত মো. রাব্বি বলেন, ‘রোববার সকালে বোতলের ছিপি ছোড়া নিয়ে প্রতিপক্ষের রতনের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছিল। আর বিকেলে রতন সন্ত্রাসী ইয়ারুলসহ তাঁর বাহিনী দিয়ে গুলি করেছে। আমার বুক, হাত, পা-সহ সবখানে অসংখ্য গুলি লেগেছে।’ জনি শেখ বলেন, ‘আমরা ১০-১২ জন মসজিদের পাশের মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন জেলেপাড়ার সরদার সন্ত্রাসী ইয়ারুল শেখ, নাসের উদ্দিন, সোহেলসহ কয়েক শ সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শটগান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।’ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চারজন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাব্বি নামের একজনের বুকে গুলি লাগায় তাঁকে ঢাকা রেফার্ড করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বেড় কালোয়া, রাধাগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। রতন শেখের টিনশেডের মেঝে পাকা বসতঘর ও আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সে সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। উৎসুক কয়েকজন ব্যক্তি দেখতে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রতনের এক আত্মীয় জানান, ‘মারামারির পর থেকেই রতনরা কেউ বাড়িতে নাই। রাতে কীভাবে আগুন লেগেছে, তা জানা নেই। তবে আগুনে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।’ বিএনপি নেতা রাশিদুলের পক্ষের আলম শেখের ভাষ্য, সামান্য ঘটনা নিয়ে রতন অন্য গ্রামের সন্ত্রাসীদের এনে হামলা চালিয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ রাব্বির অবস্থা আশঙ্কাজন এই খবর শুনে নিজেরা ঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়েছে। রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্মী ও পদ্মায় নদীতে পুলিশ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়ারুল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরের ভাই সোহেল রানা, সন্ত্রাসী নাসের উদ্দিনরা আমার লোকদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছেন। এতে সাতজন গুলিবিদ্ধ। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ সরেজমিন দেখা যায়, জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল, সোহেল রানা, নাসের উদ্দিনসহ তাঁদের পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। তাঁদের ঘরবাড়িতে তালা ঝুলছে। সে জন্য তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নাসের উদ্দিনের মা রশিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে নদীতে মাছ ধরে। বিভিন্ন সময়ে মারামারির কারণে সে ছয় মাস বাড়িতে থাকে না। প্রতিপক্ষরা মিথ্যা দোষ দিচ্ছে।’ কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বোতলের ছিপি ছোড়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন
