রাউজানে মুখোশধারী দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা খুন
Why this classification
This incident was classified as political violence in Chattogram. Parties reported: BNP. Reported casualties: 1 killed and 0 injured. Reported by 5 sources.
Killed
1
Injured
0
Summary
২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদলের নেতা জানে আলম সিকদারকে (৩৫) তার বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
98% · severity 8
Parties involved
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 05/01/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (5 sources)
রাউজানে যুবদল নেতা, যশোরে ব্যবসায়ী খুন
বাংলাদেশ রাউজানে যুবদল নেতা, যশোরে ব্যবসায়ী খুন রানা প্রতাপ বৈরাগী, জানে আলম সিকদার মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ও রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ - অ + যশোরের মনিরামপুরে ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কপালিয়া বাজারে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে ও ছুরি দিয়ে গলা কেটে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়। একই দিনে রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে মোটরসাইকেলে এসে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে (৫০) গুলি করে হত্যা করে। মনিরামপুরের ঘটনায় পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। কপালিয়া বাজারে তাঁর একটি বরফকল রয়েছে। সম্প্রতি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তিনি। রানা কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় নিজের বরফকলে বসে ছিলেন রানা। মাগরিবের আজানের কিছু সময় পর সেখানে মোটরসাইকেলে তিনজন আসে। তারা রানাকে ডেকে বাজারের ভেতরে গলিতে নিয়ে যায়। এর পর একজন তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রানা। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কেটে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে সন্ত্রাসীরা। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। মনিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। রাউজানে যুবদল নেতা খুন চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে (৫০) গতকাল রাত ৮টার দিকে সিকদারপাড়া গ্রামে হত্যা করা হয়। জানে আলম আজগর আলী সিকদার বাড়ির মরহুম হামজু মিয়ার ছেলে ও রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সূত্র জানায়, বাড়ির পাশের সড়কে হাঁটাহাঁটির সময় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি রাউজান বিএনপির নেতা ও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। গুলির পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মহিউদ্দিন নামে এক বিএনপি কর্মী ফেসবুক লাইভে জানান, জানে আলমকে কয়েক দুর্বৃত্ত গুলি করে পালিয়েছে। তাঁর বুকে দুটি গুলি লেগেছে। তাঁকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তার আগে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গিয়াস কাদের বলেন, ‘রাউজান যুবদলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত এবং আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা জানে আলম শিকদার। আওয়ামী লীগের বি টিমখ্যাত বিএনপি দাবিদার কয়েকজনের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী রাউজানে সংঘটিত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১ জনই আমার অনুসারী।’ বিষয় : খুন আরও পড়ুন ১% ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিলে বাদ ২২ স্বতন্ত্র ঊর্ধ্বগতি থামছে না এলপিজির দামে প্রশ্নবাণে জর্জরিত তদন্ত কর্মকর্তা প্রথমবার জকসু নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস সর্বশেষ মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিসিসিআইয়ের অন্দরেই বিস্ময় প্রার্থীশূন্য বিএনপি, দলে হতাশা পলাশে মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা স্বামী জাপার প্রার্থী, স্ত্রী বিএসপির মালদ্বীপে টুর্নামেন্ট খেলবেন হামজারা! ইসলামী বক্তার কাছে হাদিয়ার টাকা চাইল ডাকাতরা ১% ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিলে বাদ ২২ স্বতন্ত্র জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, ডিসিকে গালমন্দ আরও পড়ুন ×
রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম সিকদার (৪৮) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত জানে আলম সিকদার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজগর আলী সিকদার বাড়ির মৃত হামদু মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে জানা গেছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম শহরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
রাউজানে মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা খুন
জাতীয় চট্টগ্রাম রাউজানে মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা খুন নিজস্ব প্রতিবেদক ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪৪ অ+ অ- চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জানে আলম সিকদার (৩৫) নামের যুবদলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের খাবারের আগে জানে আলম বাড়ির গেটসংলগ্ন উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক সেখানে পৌঁছান। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। নিহত জানে আলম রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য ছিলেন। দলটির একাধিক নেতা জানান, স্থানীয় রাজনীতির কয়েকটি ঘটনার পর তিনি কিছুদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জানে আলমের সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল না। কী কারণে তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না। আরও পড়ুন উপলব্ধি'র কার্যক্রম দেখে ভূয়সী প্রশংসা করলেন ডিসি চট্টগ্রামে অস্ত্রের মুখে ৪২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই চট্টগ্রামে জাহাজ থেকে কর্ণফুলী নদীতে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি করে পালিয়ে যায়। তারা মুখোশ পরিহিত ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। এমআর/এসএসএইচ
এবার বুকে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম (৫০) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের শিকদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানে আলম উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের শিকদার ঘাটা এলাকার মৃত হামদু মিয়ার ছেলে। জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে জানে আলমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। স্থানীয় বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি একটি চাঁদাবাজি মামলায় আটক হয়ে কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। তবে তিনি রাউজানে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ মাসে রাউজানে ১৯ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল ১৩টি। এছাড়া গত ১৬ মাসে গুলি বিনিময়ের ৩২টি ঘটনায় অর্ধশত লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় জানে আলম দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। এর আগে ৫ নভেম্বর কোয়েপাড়া গ্রামে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। গত ২৫ অক্টোবর তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পৌরসভার ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের চারাবটতল এলাকায় যুবদল নেতা আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ৬ জুলাই কদলপুর ইউনিয়নে গুলিতে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো. সেলিম নিহত হন। এ সময় এক যুবদলকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। ২২ এপ্রিল সদর ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী মো. ইব্রাহীমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন কদলপুরে একজন অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন। গত ১৯ এপ্রিল রাউজানের বাগোয়ানে যুবদল নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মানিককে মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় নিহতের এক সহযোগীও গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় চাক্তাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাগনেও গুলিবিদ্ধ হন।
রাউজানে দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবার খুনোখুনি শুরু
গুলিতে নিহত যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রামের রাউজানে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও হামলা ও খুনোখুনির ঘটনা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে খুন করা হয় উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে। ২০২৪ বছরের ২৯ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত উপজেলাটিতে অন্তত ১৯ জন খুন হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে। গতকাল নিহত যুবদল নেতার নাম মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৮)। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি ওই ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গিয়াস উদ্দিন কাদের অভিযোগ করেছেন, দলের প্রতিপক্ষের লোকজন জানে আলম সিকদারকে হত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। উদ্ধার হয়েছে অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও মাটি-বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হানাহানির ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পুলিশের। জানে আলম সিকদার নিহত হওয়ার আগে রাউজানে সর্বশেষ খুনের ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫ অক্টোবর। ওই দিন মুহাম্মদ আলমগীর আলম (৪৫) নামের যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে খুন করা হয়। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকার—এই দুই নেতাকে কেন্দ্র করে রাউজানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভক্ত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দুজনকেই প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাউজানে ১৬ মাস ধরেই একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে আসছে। কখনো প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে, কখনো ছুরিকাঘাত বা পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৯ জন খুন হওয়া ছাড়াও শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিরা বেশির ভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী। খুনের ঘটনার দুটি উপজেলার নোয়াপাড়ায়, দুটি হলদিয়ায়, তিনটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, একটি রাউজান সদরে, দুটি বাগোয়ানে, দুটি উরকিরচরে, দুটি কদলপুরে, একটি চিকদাইরে, একটি পাহাড়তলীতে, দুটি পূর্ব গুজরায় এবং একটি মদুনাঘাট বাজারে সংঘটিত হয়েছে। জানে আলম আমার খুবই বিশ্বস্ত সহকর্মী। তাঁকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ মাঠ দখলে রাখতে চায়। এভাবে আমার কর্মীদের শূন্য করে তারা রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবে না। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত), বিএনপি। নিহত ১৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৩ জন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। গত ১৬ মাসে খুন হওয়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন জানে আলম সিকদার, আলমগীর আলম, মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, কমর উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মানিক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান। সর্বশেষ নিহত যুবদল নেতা জানে আলমের বিরুদ্ধে গত বছর দু্বাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে গুলি ছোড়া ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় করা মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন। গত ২৫ অক্টোবর যুবদলকর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম নিহত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় ও অস্ত্র উদ্ধার শুরু করলে রাউজানে হানাহানি কমে আসে। গত দুই মাস অনেকটাই শান্ত ছিল এলাকা। তবে সম্প্রতি আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে কদলপুর ইউনিয়নের লস্কর ওজির দিঘির পাড়ে মুহাম্মদ পারভেজ (৩৫) নামে এক যুবদলকর্মীকে পিটিয়ে আহত করার পর ফাঁকা গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এরপর গতকাল রাতে জানে আলম সিকদারকে খুন করা হয়। চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র–গুলি উদ্ধার করে পুলিশছবি: পুলিশের সৌজন্যে পুলিশ জানায়, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। উদ্ধার হয়েছে অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও মাটি-বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হানাহানির ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পুলিশের। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলাকায় যেতে পারতেন না বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এলাকায় ফিরতে শুরু করেন তাঁরা। এরপর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। বিবাদ-হানাহানিতে জড়িয়ে পড়েন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা। বিভিন্ন সংঘর্ষ-হানাহানির ঘটনায় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করে আসছে। গত বছরের অক্টোবরে হাটহাজারীর মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে গাড়িতে গুলি করে খুন করা হয় রাউজানের বিএনপিকর্মী আবদুল হাকিমকে। গাড়িতে ২২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গত বছরের অক্টোবরে তোলাছবি: সংগৃহীত গতকাল যুবদল নেতা খুনের ঘটনায়ও দলীয় প্রতিপক্ষের দিকে অভিযোগ তোলেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাউজানে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী বিএনপির এক নেতার প্রশ্রয়ে রয়েছেন। তাঁরাই আমার অনেক সভা-সমাবেশে হামলা করেছেন। গত এক বছরে আমার অনুসারী ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। যুবদল নেতা জানে আলমকেও তারা হত্যা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জানে আলম আমার খুবই বিশ্বস্ত সহকর্মী। তাঁকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষ মাঠ দখলে রাখতে চায়। এভাবে আমার কর্মীদের শূন্য করে তারা রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবে না।’ রাউজানে আমাকেও প্রকাশ্যে হামলা করা হয়েছিল। আমি চাই রাউজানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হোক। গোলাম আকবর খন্দকার, সাবেক আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। জানতে চাইলে গোলাম আকবর খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন। তাঁর কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তাঁর পক্ষের কোনো নেতা-কর্মী গোলাগুলিতে-হামলায় কখনো জড়ায়নি। এর পরও রাউজানে কিছু ঘটলে তাঁকে এবং তাঁর কর্মীদের দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘রাউজানে আমাকেও প্রকাশ্যে হামলা করা হয়েছিল। আমি চাই রাউজানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হোক।’ রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে রাউজানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল জানে আলমকে খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শিগগিরই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন বিএনপিচট্টগ্রামঅপরাধসংঘর্ষচট্টগ্রাম বিভাগরাউজানহত্যা
