বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবাদ-মব, গভর্নরের বিদায়
Why this classification
Officers at the Bangladesh Bank head office forcibly threw out the governor's aide, personal secretary and security director, and surrounded and blocked the governor as he left. This involved physical coercion and intimidation, though no injuries were reported.
Killed
0
Injured
0
Summary
২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের একদল কর্মকর্তা গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের খবরের পর তাঁর পিএস, উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা পরিচালককে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেন। গভর্নর বের হওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে গালাগাল করা হয় এবং গাড়িতে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
70% · severity 4
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 25/02/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবাদ-মব, গভর্নরের বিদায়
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবাদ-মব, গভর্নরের বিদায় একটি ‘কুচক্রী মহল’ সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তাকে ব্যবহার করেছে আহসান এইচ মনসুর বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২২ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:৩২ | প্রিন্ট সংস্করণ এক দল কর্মকর্তার বিক্ষোভের মুখে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হলেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে। আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের উপদেষ্টা, নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ও পিএসকে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে যে তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল, তাদের স্বপদে বহাল করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রগুলো জানায়, আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। শুরুতে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয়তাবাদীপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠন সবুজ দলে দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয়। তবে সরকারের একটি পক্ষের সংকেতে গতকাল আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সবাই যোগ দেন। এর পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে খবর ছড়িয়ে পড়ে– গভর্নর বদল হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার, কর্মসূচি ও নীতিগত চিন্তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিবেচনার তো কিছু নেই। একটি নতুন সরকার এসেছে, তাদের নিজস্ব প্রায়োরিটি আছে। পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং এটি চলমান। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’ এর আগে কোনো গভর্নরের এভাবে বিদায় নেওয়ার নজির নেই বলে জানিয়েছেন ব্যাংক খাতের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট চার বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান আহসান এইচ মনসুর। ওই সময় গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে দুই ডেপুটি গভর্নর ও নীতি উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করিয়ে ব্যাংক ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালে রিজার্ভ চুরির তথ্য লুকানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ওই সময়ও দুই ডেপুটি গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করেছিল সরকার। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে ১৪তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. মোস্তাকুর রহমান সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে নেতিবাচক মতামত দেন। অর্থনীতি-সংশ্লিষ্টরাও এই নিয়োগে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কারণে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ দেখা দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ১৮ মাসে প্রায় ১০ বিলিয়ন বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার হয়। দীর্ঘদিন দুই অঙ্কের ঘরে থাকা মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেড় বছর ধরে ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল। অবশ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর দাবি উঠলেও মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত কমানো হবে না নীতিতে অনড় ছিলেন তিনি। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আনায় অনেক ব্যাংক আগের মতো মুনাফা দেখাতে পারছে না। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে প্রায় ৩৬ শতাংশে উঠেছে। বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শূন্য পদে পদোন্নতি আটকে রাখা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে তাঁর বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব নিয়ে সবাই চুপ ছিলেন। কিন্তু সরকার বদলের পর কর্মকর্তাদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে। যেভাবে আহসান মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। চাকরিবিধি অমান্য করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করার পেছনে বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ইন্ধন ছিল বলে আলোচনা রয়েছে। ওই দিন বেলা আড়াইটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়। এই সভা থেকে বিকাশকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে– এমন অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তা স্থগিতের দাবি জানায় ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একের পর এক উপদেষ্টা নিয়োগ, দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। এভাবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে একজন আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে তিন কর্মকর্তাকে গত রোববার কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। তিন কর্মকর্তা হলেন– বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক এবং এসএমএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ এবং কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ। শোকজ নোটিশ ও বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল বেলা ১১টায় অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা করা হয়। কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আন্দোলন: আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সভার পর ড. আহসান এইচ মনসুর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সেখানে তিনি বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিস্বার্থের বিষয় নয়; বরং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি ‘কুচক্রী মহল’ সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। এ সময় দুই ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ কোনো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের বিষয় নয়; এটি সরকারি নীতির অংশ। প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় এখানে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে কিছু ব্যাংকের আমানতকারী নিয়মিত টাকা পাচ্ছিলেন না। ধাপে ধাপে অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ ও পরবর্তী সময়ে ঢাকার বাইরে বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে নিয়মতান্ত্রিক কার্যপ্রণালি মানতে হবে। শোকজের পর সামাজিক মাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ বেড়েছে– অভিযোগ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি প্রশমনে সাময়িক বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলন কর্মসূচি ও কলম বিরতির হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসারে সিদ্ধান্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পদত্যাগ করবেন কিনা– প্রশ্ন করা হলে বলেন, তিনি সেবা দিতে এসেছেন; পদত্যাগ তাঁর কাছে ইস্যু নয়। চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা নিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নতুন কিছু নয়; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ প্রচলিত। বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতে ছিল; এখনও সীমিত আকারে আছে। বেলা ২টার পর গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও তিনি ছিলেন নীরব। পদত্যাগ করেছেন কিনা– কয়েক দফা এমন প্রশ্নের এক পর্যায়ে গাড়িতে উঠে তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি। আমার নিয়োগও বাতিল করা হয়নি। তবে গণমাধ্যমে দেখেছি, আমার জায়গায় নতুন গভর্নর নিয়োগ হয়েছে। এ কারণে বাসায় যাচ্ছি।’ সকালে প্রতিবাদ সভা, দুপুরে মব সকালে শোকজ নোটিশ, বদলি আদেশ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রতিবাদ সভা করে কর্মকর্তাদের একটি অংশ। এই দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগ দাবিতে কলমবিরতি ঘোষণা করা হয়। অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সভার ব্যানারে লেখা ছিল– ‘গভর্নরের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সভা।’ ৩০ তলা ভবনের নিচ থেকে মিছিল শুরু হয়। তারা ব্যানার নিয়ে গভর্নর ভবন ঘুরে এসে সভা শেষ করেন। সভা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, বিগত সাত-আট মাস ধরে ন্যায্য দাবি উত্থাপন করেছি গভর্নরের কাছে। তিনি তা মানেননি। এ কারণে এই প্রতিবাদ সভা করতে হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। সভা থেকে কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, গভর্নর বিভিন্ন স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমাদের শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার আগে বদলি করা হয়েছে। সমাধানের জন্য তাঁর কাছে গেলেও দেখা করেননি। তাই আমরা আমাদের শোকজ নোটিশ, বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া বুধবারের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগ দাবিতে প্রতীকী কলমবিরতিতে যাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা চেয়েছি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন। পেয়েছি স্বৈরশাসন। এই স্বৈরশাসনে আমরা থাকতে চাই না। ন্যায্য দাবি নিয়ে বারবার গভর্নরের কাছে গেলেও তিনি সেগুলো আমলে নেননি। বরং তিনি দমন-নিপীড়নের আশ্রয় নিয়েছেন। গভর্নরের ইচ্ছামতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলবে না। সবকিছু নিয়ে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে।’ আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁর পিএস মো. কামরুল ইসলামকে জোর করে বের করে দেন। কামরুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক। এর পরই তারা যান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহর কক্ষে। সেখান থেকে তাঁকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চিৎকার করতে থাকেন। কয়েকজন কর্মকর্তার পাহারায় তিনি নিচে এসে গাড়িতে ওঠার সময় কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁকে ঘিরে গালাগাল করেন। তাঁকে গাড়িতে উঠতে বাধা সৃষ্টি করেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুইজন নির্বাহী পরিচালক ও নিরাপত্তা প্রহরীর সহায়তায় তিনি গাড়িতে উঠে চলে যান। কিছুক্ষণ পর নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ফারুক হাওলাদারকেও বের করে দেওয়া হয় অফিস থেকে। তিন কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহার নতুন গভর্নর নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে তিন কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে স্ব-স্ব বিভাগে বহাল করা হয়। গভর্নরের পিএস ও অতিরিক্ত পরিচালক মো. কামরুল ইসলামকে বদলি করে সদরঘাট অফিসে পাঠানো হয়। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চার বিভাগের পরিচালক পদে বদলি করা হয়। এদের মধ্যে মানবসম্পদ বিভাগ-১ এর পরিচালক মো. জবদুল ইসলামকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ; আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক মো. শহীদ রেজাকে মানবসম্পদ বিভাগ-১ এ বহাল করা হয়েছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মো. বায়োজীদ সরকারকে মতিঝিল অফিসে এবং মতিঝিল অফিসের পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলামকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে বহাল করা হয়েছে। - বিষয় : - আহসান এইচ মনসুর
