থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ বরখাস্ত
Why this classification
This is classified as a violence incident because police officers physically assaulted a political party leader inside a police station after he protested the unlawful harassment and torture of a couple.
Killed
0
Injured
1
Summary
রংপুরে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণ-তরুণীকে থানায় এনে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
95% · severity 4
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Law Enforcement
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: BNP
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 03/06/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (2 sources)
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
রংপুর মহানগরীতে থানার ভেতরেই এক সেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোতয়ালি থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মারধরের শিকার ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব। মারধরের শিকার নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব দাবি করেছেন, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। ওই যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানায় আনা হয়। ওই যুগলের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। লাভলু নামে এক নেতার ডাকে থানায় যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব। অভিযোগ রয়েছে, থানায় গিয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতে একটি চোখ ফুলে থাকতে দেখা যায়। রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উদ্ধার করা প্রেমিক যুগলকে থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে পকেট থেকে তিনি ফোন বের করলে ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, এখানে ওসি, এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মারলো। বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী। আমার নামে ১৩টা মামলা, আমি ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার। তারপরেও তারা আমাকে মেরে চোখটা কি রকম করল, মাথায় দুই জায়গায় মারছে। বন্দুক দিয়ে মারছে। আমার ফোন দুইটা কেড়ে নিছে। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদীর মত রয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে শরীরে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে রক্তমাখা তুলা দেখান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন দেখান। খবর পেয়ে থানায় যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। পরে মারধরের শিকার ওই নেতাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাত ১১টার দিকে থানা থেকে ওই যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় থানার ভেতরে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, রাকিবকে পুলিশ ধরে মারলো, আমারও মাথায় ঘুষি তুলছিল। শুধু বাচ্চা দুইটাকে ধরে মারতেছে, এটা দেখে নিষেধ করায় অপরাধ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্যরা জানান, ওসি নিজেই স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা রাকিবকে পিটিয়েছে। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন সামসুজ্জামান সামু। বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের হেয় করে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, পোষাক চেঞ্জ হয়েছে কিন্তু পুলিশের চরিত্র চেঞ্জ হয়নি। তাদের রক্তে এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারী গন্ধ পাওয়া যায়। আমরা জানি পুলিশ মানবিক কিন্তু পুলিশের এই আচরণ আশা করিনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে থানা ঘেরাও করা হবে। এদিকে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে কোতয়ালি থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানে বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে তারা থামান। তবে আহত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও কাপড়ে রক্তের দাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, এরকম অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বুধবার দিবাগত রাতে (২টা ২২ মিনিট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে রিপোর্ট (ক্লোজড) করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন- ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা। একইসঙ্গে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি, ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতয়ালী সুকুমার রায়কে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ বরখাস্ত
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ বরখাস্ত Advertisement রংপুর ব্যুরো প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম রংপুরে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করায় তরুণ-তরুণীকে থানায় এনে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুজ্জামান রাকিবকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। সাময়িক বরখাস্তের আদেশপ্রাপ্তরা হলেন- এসআই মাসুদ রানা, আলম বাদশা, আক্তারুল ইসলাম, এএসআই মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মেহেরুন্নেসা এবং কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, মুখলেসুর রহমান, রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানী। এছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি আজাদ রহমানকে পুলিশের খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। এ বরখাস্তের আদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে পুলিশের খুলনা রেঞ্জে ডিআইজির কাছে পাঠানো হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় যুবদল নেতাকে মারধোরের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় গত ৩ জুন সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য পূর্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং কোতোয়ালি থানায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে যুবদল নেতা মো. রাকিবুজ্জামান রাকিব, প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণী এবং রুমন বাবুর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অদক্ষতা, অপেশাদার আচরণ ও অসদাচরণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত সদস্যদের আচরণের ফলে ভুক্তভোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগসমূহ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় পিআরবির ৮৮০ বিধি এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৯(১) উপধারার বিধান অনুযায়ী উপরোক্ত ১১ জন পুলিশ সদস্যকে ১১ জুন বিকাল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তারা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরপিএমপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৩ মে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় নগরীর সিও বাজার এলাকা থেকে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণ-তরুণীকে থানায় এনে মারপিট করলে তাতে বাধা দেন রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুজ্জামান রাকিব। এ ঘটনায় তৎকালীন ওসি আজাদ রহমানসহ ছয়জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। পরে তৎকালীন ওসি আজাদ রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এই ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
