মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীর পর না ফেরার দেশে মেজো বোনও
Why this classification
ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। তাই এটিকে রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, বরং অপরাধমূলক সহিংসতা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
Killed
5
Injured
1
Summary
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা ও তিন মেয়েসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিলে সেও নিহত হয়।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
95% · severity 10
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 5
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 25/06/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ
আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব— মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে সিফাতের আর্তনাদ নিহত শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। ডানে- ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। ছবি: সংগৃহীত লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ১৫:৪৫ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ | ১৬:১৪ আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব- মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার শুধু এই কথাটিই বলছেন জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তার পৃথিবী। যে ঘরে ছিল মায়ের স্নেহ, তিন বোনের হাসি আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সেই ঘরে এখন একা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় ঘরে ঢুকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) এবং শিফা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হন প্রধান সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার (২৫)। একদিনে পাঁচ প্রাণহানির এই ঘটনা শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো রায়পুরকে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহিনুর বেগমের (৩৮) স্বামী কামাল ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তারপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সন্তানদের মানুষ করাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই শাহিনুর, সায়মা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার। ঘটনার সময় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসে একসঙ্গে মা ও তিন বোনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিফাত। শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঁচজনের ময়নাতদন্ত হয়। পরে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রায়পুরে তাদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের মরদেহ নেওয়ার কথা তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার স্বজনের খবর দেওয়া হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে বলছেন, একই সময়ে চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা একজন মানুষের পক্ষে কঠিন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। রায়পুর বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, 'এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ধারণা, একজনের পক্ষে একই সঙ্গে চারজনকে হত্যা করা কঠিন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।' ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামানও ঘটনাস্থল ঘুরে তদন্তে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একটি বিশেষ তদন্ত দলও ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। নিহতদের স্বজন রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছেন। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন মিয়া বলেন, 'ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।' - বিষয় : - লক্ষ্মীপুর - কুপিয়ে হত্যা
রায়পুরে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যায় ‘ঘাতকের’ পরিচয় নিয়ে যা জানা গেল
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদার নিজেকে কল ও পাইপলাইনের মিস্ত্রি পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আফরোজা বেগম নামে পরিবারটির প্রতিবেশী এক নারী। তবে তাঁর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আফরোজা বেগমের তৎপরতায় পালাতে পারেননি অন্তর। পরে জানা যায়, নিহত অন্তর নিজেকে ‘জহির’ নামে মুসলিম পরিচয় দিয়ে এক নারীকে নিয়ে ওই ভবনে এক বছর ধরে বসবাস করেছিলেন। আফরোজা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার সময় তিনি অন্তরের হাতে প্যান্ট নিয়ে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। জানালা দিয়ে তাকে ওই বাসায় অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে অন্তর নিজেকে কল ও পাইপলাইন মেরামতের মিস্ত্রি বলে পরিচয় দেন। এ প্রসঙ্গে আফরোজার ভাষ্য, ‘তাঁর (অন্তর) হাতে প্যান্ট ছিল। বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। আমি ভাবলাম, হয়তো শাহিনুর বাসায় নেই। কলের মিস্ত্রি পরিচয়ে এসে মেয়েদের সঙ্গে খারাপ কিছু করেছে। তখনই আমার সন্দেহ হয়।’ এর কিছুক্ষণ আগে ওই ঘরের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে জানালার পাশে দৌড়ে গিয়েছিলেন বলে জানান আফরোজা। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শাহিনুর বেগমকেও ডাকেন তিনি, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি বলে উল্লেখ করেন। প্রতিবেশী আফরোজা বলেন, ‘প্রথমে চিৎকার শুনছিলাম। পরে হঠাৎ সব চুপ হয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর জানালা দিয়ে দেখি একজন রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম, ওটা হয়তো শাহিনুরের ছেলে সিফাত। আমি সিফাত বলে ডাকলাম, কিন্তু তারও কোনো উত্তর পাইনি। কিছুক্ষণ পর আড়াল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানালা বন্ধ করার শব্দ শুনি। তখন আমার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।’ পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় আফরোজা বাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা একসঙ্গে ঘরে ঢুকে মেঝে জুড়ে রক্ত এবং মা ও তিন মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার পালানোর জন্য ভবনের ছাদে উঠে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন বেলা আড়াইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের স্কুলশিক্ষকের ভাড়া বাসায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতেরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গণপিটুনিতে নিহতের নাম অন্তর মজুমদার (৩৫)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। পরিবারটির বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা প্রায় ২৫-২৬ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দাসেরহাট বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর রায়পুরে ভাসমান ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার পরদিন শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অন্তর মজুমদারের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে স্বজনেরা তাঁর মরদেহ নিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে বাধ্য করে দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারের কাছে তাঁর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব। এসআই আরও জানান, শুক্রবার দুপুরে সদর হাসপাতালে মা ও তিন মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুর গোডাউন রোডে জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনায় নিজ গ্রামে রাত সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দুই স্থানেই পরিবারটির বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত তার মা ও বোনদের হত্যাকাণ্ডে বিচার চেয়েছেন। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। জিহাদুল ইসলাম শিফাত হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ছাড়াও ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে রায়পুর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করেন। দুটি হত্যা মামলাই তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান। এ ছাড়াও চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি সিআইডি র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তদন্ত করছে। রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হত্যার মূল কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’ এ দিকে আজ শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনি শনাক্তের নির্দেশ দেন।
সদর হাসপাতাল থেকে বের হতেই ৪ খুনে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদার (২৮) গণপিটুনিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর পাড় এলাকার একটি বাসায় ঢুকে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহজনকভাবে থাকা অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, গণপিটুনি দেওয়ায় অন্তরের মাথায় গভীর আঘাত ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। কিন্তু পথে তাকে মৃত অবস্থায় ফেরত আনা হয়। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ঘাতক একই ভবনে ভাড়া ছিল। পূর্ব পরিচয় থেকেই হয়তো সে এ বাসায় আসে। এরপর সে একই পরিবারের ৪জনকে কুপিয়ে হত্যা করে। একপর্যায়ে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। রানী নামে এক নারী তাকে দেখতে পেয়ে, এখানে আসার কারণ জানতে চায়। এতে সে বলে পানির লাইন ঠিক করতে এসেছে। ঘটনাটি রানীর সন্দেহ হয়। এতে তিনি গেইট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে মানুষজন জড়ো হয়ে বাসা তল্লাশি করে ৪ জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দেন তারা। পরে সেও মারা যায়। তবে কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। ঘটনাটি তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে তিনি। হাসান মাহমুদ শাকিল/এসএইচএ
মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীর পর না ফেরার দেশে মেজো বোনও
মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীর পর না ফেরার দেশে মেজো বোনও Advertisement লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জখম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মেজো বোন কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারও মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকাল পর্যন্ত একে একে তারা মারা যান। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- মা শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এছাড়া গণপিটুনিতে ঘাতক অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে থাকা রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘাতক যুবক অন্তরকে গণপিটুনি দেয়। অন্যদিকে আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকালে মারা যান। শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে তিনি কাজে আসায় বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। ঘটনাটি জানার পর থেকে তিনিও আতঙ্কগ্রস্ত। তিনি কারো সঙ্গে কথা বলার অবস্থাতে নেই। বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর তিনি ঘটনাটি ঘটান। এসপি আরও বলেন, রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চান, তখন অন্তর বলেন- তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তিনি পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে তিনিও মারা গেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।
