নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
Why this classification
This incident is classified as criminal violence because a journalist was shot and killed by unidentified assailants in Netrokona on October 15, 2026.
Killed
1
Injured
0
Summary
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার উতরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
95% · severity 7
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 15/10/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (4 sources)
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনা প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৪ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৮ নেত্রকোনার কলমাকান্দায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে উতরাইল বাজারের একটি দোকানের সামনে ছিলেন লুৎফুজ্জামান। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানি রবিন রাংছা জানান, লুৎফুজ্জামান তার দোকানে চা পান করে বাসার উদ্দেশে বের হচ্ছিলেন। তখন তিনি দোকানে কাপ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে প্রথমে সিগারেট চান। এরপর হঠাৎ লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন তারা। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান বলেন, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। সে সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়েছিল। - বিষয় : - নেত্রকোনা - গুলি করে হত্যা - সাংবাদিক খুন
সাংবাদিক আলিফ ফকিরের ওপর আগেও হামলা হয়েছিল
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাবেক সেনাসদস্য ও বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির (৩৬) হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার বিরিশিরি উৎরাইল তেলুজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি দোকানের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কয়েক মাস আগেও তার ওপর একই ধরনের হামলা হয়েছিল, সেবার তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুদি দোকানের মালিক রবিন রাংসা জানান, ঘটনার সময় আলিফ মুঠোফোনে কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে দোকানে আসেন এবং ছয়টি বেনসন সিগারেট কেনেন। যাওয়ার সময় ফোনটি দোকানে ফেলে যান এবং তা নিতে আবার ফিরে আসেন। ঠিক তখন ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দুই যুবক দোকানে এসে ২০ টাকা দিয়ে দুটি সিগারেট চান। তাদের একজনের পরনে ছিল লুঙ্গি, অন্যজনের থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। আলিফ ফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হতে পা বাড়াতেই যুবকদের একজন পেছনে সরে যান। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ হয়। আতঙ্কে তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েন। নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। প্রায় তিন বছর আগে বিরিশিরি এলাকার আনন্দিতাকে বিয়ে করে তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন। তার তিন বছরের মেয়ে প্রান্তি সাংমা ও দেড় বছরের ছেলে সাফুয়ান রয়েছে। নিহতের ভায়রা ভাই জেনুইন চাম্বুগং জানান, সাংবাদিকতা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না আলিফ ফকির। সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারি বা অবৈধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে তার কাছে সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে এলেও তিনি তা সরাসরি নাকচ করে দিতেন। কয়েক মাস আগেও তার ওপর একই ধরনের হামলা হয়েছিল, সেবার তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। এদিকে ঘটনার রাতে আশপাশের প্রায় সবাই কয়েকশ মিটার দূরের একটি বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলেন, ফলে এলাকাটি অনেকটাই ফাঁকা ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর পুরো বিরিশিরি এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী কোনো প্রতিবেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন একযোগে কাজ করছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরএআর
‘গুলির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি স্বামীর লাশ পড়ে আছে’
‘গুলির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি স্বামীর লাশ পড়ে আছে’. নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বাড়ির পাশে দোকানে বসে থাকা এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলনজি
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আহ্বান আইএফজের
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত এবং বিশদ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ব্রাসেলসভিত্তিক সংগঠনটি। শুক্রবার আইএফজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সঙ্গে মিলে লুৎফুজ্জামান ফকির হত্যার নিন্দা ও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে আইএফজে। আইএফজের মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঙ্গার বলেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ এক আঘাত। দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ চলছে। এরপরও সাংবাদিকদের ওপর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি রয়ে গেছে। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বাংলাদেশ এখনো বিপজ্জনক একটি জায়গা। আইএফজের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। ১৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে তাঁকে গুলি করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই বন্দুকধারী। হামলার পর মোটরসাইকেলে করে বন্দুকধারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আলিফকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বন্দুকধারীদের হামলায় আলিফের ঘাড়, মাথা ও বুকে গুলির অন্তত তিনটি ক্ষত হয়েছে। বন্দুকধারীদের শনাক্ত করতে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে। আইপিটিভিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আলিফ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধ–সংক্রান্ত সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। আলিফ যে সপ্তাহে হত্যার শিকার হন, সেই সপ্তাহেও তিনি মাদক পাচার ও স্থানীয় চোরাচালান চক্র নিয়ে কিছু অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরও একটি হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এই সাংবাদিক। সেদিন দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরীবাজার ঘাটের কাছে তাঁকে ছুরিকাঘাতে জখম করা হয়। ওই হামলাকারীরাও এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি।
