রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন: আসাদুজ্জামান ফুয়াদ
Why this classification
প্রতিবেদনে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যা সহিংস ঘটনা। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় এটি রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
Killed
0
Injured
0
Summary
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও উল্লেখ করেন।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
75% · severity 6
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Awami League
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 27/09/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (7 sources)
‘চাঁদা না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ
‘চাঁদা না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ ভাঙচুর হওয়া নিজের স্টুডিওতে গিয়ে ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত সমকাল প্রতিবেদক প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫৫ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৭ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। সালমানের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্টুডিওটির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কর্মকর্তা দাবি, হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকায় আসেন। পরে স্টুডিওতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখে ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন। ভিডিওতে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’ সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ আ নরমাল সিটিজেন হিসেবে। ...আমাদের এখানকার যে ল্যান্ডওনার, উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে—চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং...। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’ সালমান জানান, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ নানা কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব মালামাল নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি তিনি। ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো। হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’ তবে সালমানের এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পরও কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন সালমান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর নিয়ে যা বললেন এনসিপির দুই নেতা
চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তারা এ প্রতিবাদ জানান। এর আগে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে ব্যাপক হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরাসহ সব স্টুডিওর সব যন্ত্রাংশ এবং রুমের যাবতীয় জিনিসপত্র লুটপাট ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে তছনছ করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘দেশে কি কোনও সরকার আছে? চাঁদা না দেওয়ায় ইসিবিতে জনাব সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা।’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। জুলাইয়ের কঠিন সময়ে যখন অনেকেই নীরব ছিলেন, সালমান মুক্তাদির তখন প্রকাশ্যে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে পরিবর্তনটা কোথায়? এক জালিমের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক জালিমের হাতে পড়ার জন্য মানুষ জুলাইয়ে দাঁড়ায়নি। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আল্লাহ আমাদের দেশকে সব চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও জালিমের হাত থেকে রক্ষা করুন’ এমএসআই/এমএন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, স্বস্তির বাংলাদেশ হারাতে বসেছি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে আমরা যে স্বস্তির ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নগুলো হারাতে বসেছি। সরকারকে এ বিষয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমইএ) নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দু’দিন আগে মিরপুরের রাড্ডা একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে এবং সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত রাতে আমরা দেখেছি, মিরপুরের ইসিবিতে একটি আবাসিক এলাকায় হামলা, গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের এই প্রোগ্রামের সঙ্গে যেহেতু এটা খুব প্রাসঙ্গিক নয়, তবুও এটা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই প্রমাণ। মিডিয়াতে যেভাবে আসছে, যারা সরকারি দলে থাকেন, শাসকদলে যারা থাকেন, এইসব ঘটনার সঙ্গে প্র্যাকটিক্যালি তারা যে জড়িত, এটা সব গণমাধ্যমে আসছে।’ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খুব দুঃখজনক স্বাস্থ্যের খাতে, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে, পুষ্টির সঙ্গে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান জড়িত, মানবসেবার সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত, সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক একটা ব্যাড ইনটেনশনে যে আক্রোশমূলক আচরণ করা হয়েছে, সব মহলে এটা নিন্দিত হয়েছে, ধিকৃত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মাত্র সরকারের কেবল ছয় মাস হলো, এক্ষুনি যদি ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন এইভাবে ডিটেরিয়েট করতে থাকে, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো খাতের ওপর কখন আক্রমণ হবে, জাতি তো উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে সরকারের খুব তড়িৎ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ ‘আমরা এটার তীব্র নিন্দা করেছি। সেখানে জনপ্রতিনিধি আছে, সরকার আছে, ল এনফোর্সিং এজেন্সি আছে, ইন্টেলিজেন্স আছে। এইভাবে একটা প্রতিষ্ঠানকে ভেঙেচুরে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো তো আমাদের পেছনের দিনের সেই সহিংসতার কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।’ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘২৪-এর অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে স্বস্তির এবং মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্নগুলো কিন্তু হারাতে বসেছি আমরা। এজন্য আমরা সবাই কিন্তু কনসার্ন। আমরা আজকে প্রশ্নের কারণে এ কথাটা বলছি যে, সরকারের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, যারা স্থানীয়ভাবে এই সমস্ত মব তৈরি করে, মাসলম্যান তৈরি করে আবার পুরোনো সেই দিন ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছেন, জনগণ কিন্তু তাদের প্রশ্রয় দেবে না। তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাদের আমরা বিরত হতে বলব।’ তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরের সঙ্গে প্র্যাকটিক্যালি, একেবারে সরাসরি এক্সচেঞ্জ অব ভিউস আজকেই কিন্তু প্রথম। অনেক নতুন নতুন তথ্য উনারা দিয়েছেন। বাংলাদেশে আরএমজি সেক্টরের সঙ্গে এটার যে কত ক্লোজ রিলেশন, উনারা কিছু আফসোস ব্যক্ত করেছেন সরকারের এবং নানানভাবে যে কো-অপারেশনটা পাওয়া দরকার, সেটা কিন্তু এখনো উনারা সেইভাবে পাচ্ছেন না।’ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমিরে জামায়াত কথা দিয়েছেন যে, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবার সুযোগ আছে। তিনি সে ভূমিকা আমাদের রাখবেন। গ্যাস-বিদ্যুতের যে সংকট, যে কারণে সব শিল্পের ওপর প্রভাব পড়েছে, একইভাবে সেই প্রসঙ্গটাও কিন্তু উনারা আজকে মতবিনিময় সভায় এনেছেন। এটাও আমাদের জাতীয় বড় সংকট।’ ‘আমরা শুধু ব্যবসা করতে চাই, রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না’ বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেছেন, ৫ আগস্টের পরে বর্তমান যে প্রধানমন্ত্রী আছেন, তার সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে দেখা হয়েছিল। তখন তিনিও আমাদের শিল্প, প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্প নিয়ে বিশদ জ্ঞান রাখেন। তিনিও বলেছেন, এই সেক্টর নিয়ে আপনারা কাজ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আমিরে জামায়াত, উনি বিরোধীদলের নেতা, আমাদের ডেকেছেন, শুনেছেন। আমরা বলেছি, আমরা চাই আমাদের সেক্টর নিয়ে যারা আছি, আমরা ব্যবসায়ী। আমরা শুধু ব্যবসা করতে চাই। রাজনীতি নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। কেননা রাজনীতির কথা বলার কাজ রাজনীতিবিদদের, কোনো ব্যবসায়ীর না।’ বিপিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সেখানেই থাকতে চাই। আমরা অতীতকে পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। আমরা ব্যবসায়িক সংগঠন, আমরা ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে চাই। বর্তমান যে সরকারি দল আছে, তাদের আমরা সবসময় সহযোগিতা করেছি। একটি দল মাত্র ছয় মাস হলো সরকার গঠন করেছে। তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমরা তাদের সময় দিচ্ছি এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দলও একই কথা বলেছে। আমরাও সরকারকে সহযোগিতা করছি। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে দেশ গঠন করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী সমাজ, আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই, দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই, কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যারা আছেন, তারাই রাজনীতি করা উচিত। ব্যবসার সঙ্গে রাজনীতি সংযুক্ত নয়।’ এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এমএসআই/বিআরইউ
নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা
দুদিনে চার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা নতুন আতঙ্ক মধ্যরাতে হামলা জনগণের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের কাছে জোর দাবি * সরকারি দলের নামে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে-নূর খান লিটন Advertisement রাতের ঢাকা হয়ে উঠেছে চরম ভয়ংকর। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ইসিবি চত্বরে পরপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের ঘটনায় নগরবাসীর মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে দলবদ্ধ হয়ে রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও কিংবা সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি কিছুই বাদ যাচ্ছে না। দুদিনে চার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এরই মধ্যে তার নির্দেশে শাহআলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসব ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসাবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাতে এ ধরনের সন্ত্রাস অব্যাহত থাকলে তা শুধু নাগরিক জীবনকেই বিপর্যস্ত করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরবারকে নতুন করে ভাবতে হবে। জনগণের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। রাতের টহল জোরদার করতে হবে। জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। টিআইবি রাড্ডা ও ইসিবি চত্বরে লুটপাট ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং সরকারের জন্য অশনিসংকেত। ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহরে মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ একদল হামলাকারী নিষ্ঠুরভাবে তাণ্ডব চালায়। রাতের অন্ধকারে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ভবনের গ্লাস, আসবাবপত্র এবং চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করতে থাকে। ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবরটি জানালেও তারা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। ফলে হামলাকারীরা তাণ্ডব শেষে নিরাপদে বেরিয়ে যায়। মিরপুরে রাড্ডার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে আসে মোহাম্মদপুরে জমি দখলের এক ভয়াবহ চিত্র। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে এই এলাকার ব্যস্ততম স্থানে রাতারাতি ৩৫ কাঠা আয়তনের মূল্যবান জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে একদল লাঠিয়াল ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দলবদ্ধ হয়ে জমিটির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে জমির মালিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। মোহাম্মদপুরের ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটন হতে না হতেই শনিবার (একই দিন) রাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজে (নিউগিনি হাউজিং প্রজেক্ট) সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। রাত ১০টার দিকে প্রায় ২৫০ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত চারটি মিনি ট্রাকে করে নিউগিনি প্রপার্টিজে জোর করে প্রবেশ করে। এ সময় তারা আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অস্ত্রধারীরা প্রজেক্টের মেইন গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরা ধ্বংস করে ফেলে। বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। ওই প্রজেক্টে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসীরা অফিসকক্ষ থেকে নগদ প্রায় এক কোটি টাকা, হার্ডডিস্ক, কোটি টাকার সরঞ্জামাদি ও মোবাইল ফোনসেট লুট করে নিয়ে যায়। দুপক্ষের জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা তার লোকজন দিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন বলে জানান পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রুহুল কবীর খান। এদিকে শনিবার ভোরে রাজধানীর আদাবর থানাধীন শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়ি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িটির সামনে এসে জড়ো হয়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও রামদা ছিল। একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির হাতে পিস্তল দেখা যায়, যিনি পুরো হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। হামলাকারীরা মূল ফটক খুলে বাড়ি থেকে সবাইকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। ভবনের বাসিন্দারা ভেতরে অবস্থান করায় এবং গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা আরও চড়াও হয়। তারা ‘টাকা দে, বাসায় থাকিস টাকা দিবি না কেন’-এই কথা বলতে বলতে চাপাতি ও রামদা দিয়ে মূল ফটকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। বাড়িটি দখলের সশস্ত্র চেষ্টা চালিয়ে তারা সাময়িকভাবে ফিরে যায়। এ হামলার বিষয়ে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে এসব লোমহর্ষক ঘটনার বিষয়ে রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় একটি বিতর্কিত জমি নিয়ে নিউগিনি প্রপার্টিজ নামক একটি বিল্ডার্স গোষ্ঠী এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতের আঁধারে একপক্ষ দখল করতে গেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিও ভাঙচুরের শিকার হয়। মন্ত্রী বলেন, মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় শাহআলী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন। রোববার সন্ধায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, নগরবাসীর মনে ভীতি দূর করতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে পুলিশি টহল ও চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে মালামাল উদ্ধারসহ জড়িতদের গ্রেফতার করেছে। আদাবরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনেক অপরাধ আমরা প্রতিরোধ করেছি। যেসব অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারিনি, সেগুলোর ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদমুখর দেশ : দিন-রাতে সমানে হামলা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি-এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তৎকালীন প্রেস সচিব ও বর্তমানে ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ সম্পাদক মারুফ কামাল খান শনিবার গভীর রাতে ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটতরাজ হয়েছে। মিরপুরের রাড্ডায় মুখোশ পরে একটি এনজিও অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে-যেটি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের টিকাদান কেন্দ্র ছিল। রাতের আঁধারের এসব কাণ্ড-কীর্তি দেখেশুনে আতঙ্কিত বোধ করছি। হায় ঈশ্বর, তুমি আমাদের ক্ষমা করো!’ প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলেন, ‘শুধু জমি দখলের লালসায় রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের শেষ ভরসার স্থল। আর এই বর্বরতার নেপথ্য ইন্ধনদাতা সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতা।’ সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মধ্যরাত ও মুখোশধারী সময়’। অপর এক পোস্টে লেখেন, ‘বিএনপির ঘোর ও সময়’, ‘রাড্ডা থেকে গাড্ডার শুরু’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান আবিদ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘সালমান মুক্তাদির জুলাইয়ের সহযোদ্ধা। আমরা লজ্জিত।’ ছোট পর্দার অনেক তারকা শিল্পী এ দেশে বসবাস করাই কঠিন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে সাড়া দেশে অন্তত ১৫৪টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র ঢাকায় মবের ঘটনা ঘটেছে ৫৭টি। যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯৮টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় ছিল ৮১টি ঘটনা। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, গত দুদিনে আমরা যেসব ঘটনা জানতে পেরেছি, এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরোক্ষভাবে গণতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এসব ঘটনা এখনই নিয়ন্ত্রণে এনে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া। শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে সরকারি দলের নাম ব্যবহার করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ যাতে কোনো ধরনের অপরাধে জড়াতে না পারে, সে ধরনের একটি পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকার কর্মী এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিষয়টি সামনে আসছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে এ ধরনের সহিংসতা অনেকটাই কমে আসবে।
কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সালমান মুক্তাদির
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির বলেছেন, তাঁকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। তিনি নিজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। কিন্তু দেশের প্রত্যেক মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সরকারকে দিতে হবে। তা না হলে দেশ বিরাটভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের জবাবে আজ রোববার বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সালমান বলেছেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পারলে কিছু করে দেখান। তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দরকার নেই। ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে সালমান মুক্তাদির বলেছেন, গতকাল রাতে তাঁর স্টুডিওতে হামলার পর তিনি থানায় মামলা করতে গিয়ে ভোর চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন; কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি। মামলা না হওয়ার কথা দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলছেন। তাঁরও প্রশ্ন, এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগপর্যন্ত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আসার আগপর্যন্ত মামলা কেন হলো না। তিনি লোকজন নিয়ে চারটা পর্যন্ত বসে থাকার পরও কেন মামলা করতে পারলেন না। পরে মামলা হলেও সেই তথ্য কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গেল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আপনার এত বড় রেসপনসিবিলিটি থেকে আপনি যখন স্টেটমেন্টে বললেন যে মামলা দায়ের কেন করা হয় না, সালমান মুক্তাদির মামলা দায়ের করেন নাই। এই জিনিসটা কেন হাস্যকর এবং আপনাদের পুরো ডিপার্টমেন্ট, আপনাদের পুরো সরকারকে কীজন্য এখানে এত ছোট করে ফেললেন। স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও দিয়েছেন সালমান মুক্তাদিরছবি: সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও থেকে নেওয়া ‘আমি যে গতকালকে চারটা পর্যন্ত এতগুলো মানুষ নিয়ে আপনার থানাতে বসে ছিলাম, ক্যান্টনমেন্ট থানায় গত রাত চারটা পর্যন্ত, আমি টায়ার্ড হয়ে বাসায় ফেরত আসলাম, যেখানে আমার মাথা ঠিক থাকার কথা না, তখনো এসে আজকে দুপুর পর্যন্ত মামলা করা হয় নাই। আনটিল থিংস গট ভাইরাল অ্যান্ড আপনার স্টেটমেন্ট আসে, এর আগপর্যন্ত মামলা আসলেও কেন দায়ের করা হয় নাই, এই প্রশ্নটা আমার আপনার কাছে থাকার কথা। দেশবাসীকে আপনারই অ্যানসার করতে হবে, কেন সালাহউদ্দিন আহমদের আন্ডারে মামলা দায়ের হয় নাই।’ এ ঘটনায় কখন মামলা হয়েছে জানতে চাইলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ রোববার সকাল সাড়ে আটটায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এরপর দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে মামলা না হওয়ার কথা উল্লেখ করা নিয়েও ভিডিও বার্তায় কথা বলেছেন সালমান মুক্তাদির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনার প্রত্যেকটা থানা, প্রত্যেকটা অথরিটি, প্রত্যেকটা অ্যাডমিন আপনার এক কল, এক বাটনের আন্ডারে। আপনি জানেনও না যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপনার কাছে আপডেটটা নাই। আপনি কতটুকু ডিটাচড (বিচ্ছিন্ন) আপনার দেশের নাগরিকদের সঙ্গে, আপনার যে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি প্রোটোকল, সেটার সঙ্গে আপনি পুরোপুরি ডিটাচড, আপনি জানেন না, মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও ও বিতর্কিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি বিএনপির কথা কেন বললাম, চাঁদাবাজির কথা কেন বললাম? আপনি মুচকি যে রকম হাসি দেন, এই মুচকি হাসি এখন আমার দিতে ইচ্ছা করতেছে। দেখেন, আমারও হাসি আসে, আপনারও হাসি আসে। আমরা এক রকম হেল্পলেস (অসহায়)। আপনিও কিছু করতে পারতেছেন না, আমিও কিন্তু কিছু করতে পারছি না। আপনি হেসে হেসে উড়ায় দিচ্ছেন, আমিও হেসে হেসে উড়ায় দিচ্ছি।’ আরও পড়ুন ‘এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে’, ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গতকাল রাতে ঘটনাস্থল থেকে যে তিনজনকে আটক করা হয়, তাঁরাই বিএনপির নাম বলেছে বলে দাবি করেছেন সালমান মুক্তাদির। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘তাদের বন্দুক থেকে ফায়ার করা হয়েছে। সে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের চাপাতি, কোদাল—সব সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের ফোনের ভিডিও আমি দেখলাম। তাদের চেহারা আমি দেখলাম। তারা স্বীকার করতেছে, মানুষের কাছ থেকে মাইরটাইর খাওয়ার পর, মানুষের মুখে শুনতেছি, তারা বিএনপির নাম নিয়ে নিছে।’ এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, ‘আমার স্যানিটি বজায় রাখতে হবে, কম্পোজার বজায় রাখতে হবে, এরপর আমার স্পিচ ঠিক রাখতে হবে। আমি বিএনপিকে কোনো কথা বলতে পারব না, আঙুল তুলতে পারব না। আমি খুবই কনফিউজড। আপনি কি বিএনপির পিয়ার ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসিসের দায়িত্ব নিয়েছেন, নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিছেন? এখানে আমি খুবই কনফিউজড। বিকজ প্রবলেম ওয়াজ সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, ‘আমরা এখানে ইনভেস্টিগেশনের জন্য আপনার কাছে আসিনি। আমরা আসছি অ্যাকশনের জন্য। আপনি নিজে বললেন যে আমি ঢালাওভাবে কথা বলছি। আপনি তো তাহলে নিজে বলে দিলেন যে কোনো একটা সামরিক বাহিনীর লোক এখানে ইনভলভড। ওকে, আপনার তো তার ইনভেস্টিগেশন হইছে। তারপর আপনি কী করলেন? আপনি এসে প্রেস ব্রিফিংয়ে কোনো অ্যানসার দিলেন না, কোনো অ্যাকশন নিলেন না, এমন কোনো কাজ করলেন না যেখানে বাংলাদেশের মানুষ সিকিউরিটিকে এনশিওর করতে পারে; বরং আপনি বলে দিলেন, সালমান মুক্তাদির বলেছেন, ভদ্রলোক হ্যান বলেছেন, ত্যান বলেছেন।’ সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘কিছু একটা করে দেখান। আপনাদের থেকে কিন্তু টাকা চাই না। আমার স্টুডিও বানায় দিতে হবে না। আমি সালমান মুক্তাদির যথেষ্ট স্ট্রং। আমি কারও থেকে ভিক্ষা চাবো না।...আমার কিছু লাগবে না। ইফ ইউ রিয়েলি ওয়ান্ট টু ডু সামথিং, ডু সামথিং ফর বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘আমার এটার থ্রুতে যদি আপনারা কোনো রকমের সেফটি, সিকিউরিটি মানুষের জন্য এনশিওর করতে না পারেন, আমার নাগরিকদের সিকিউরিটি এনশিওর করতে না পারেন, তাহলে মাই লস।’ আরও পড়ুন সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ ঢালাও: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৮ ঘণ্টা আগে প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন সন্ত্রাসস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসালাহউদ্দিন আহমেদসালমান মুক্তাদির
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন: আসাদুজ্জামান ফুয়াদ
ভাঙচুর হওয়া রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। পাশে দলের অন্য নেতারা। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে এর আগে রাতের আঁধারে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আজ সোমবার দুপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ও ইসিবি চত্বরে ভাঙচুরের শিকার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, চাঁদাবাজি, জমি ও বাড়ি দখলের ঘটনা ঘটলেও একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে জনস্বাস্থ্যকে আঘাত করা হয়েছে।’ এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দরিদ্র মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা পেয়ে আসছেন। বিদেশি দাতা সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলা শুধু একটি স্থাপনার ওপর হামলা নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টিও জড়িত। আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘ সফরে ছিলেন, তখন রাজধানীতে এমন একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও একজন নারী সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে আগাম রায় দেওয়া উচিত নয়। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সময় পুলিশ কাছাকাছি অবস্থান করলেও লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—এমন অভিযোগের কথাও বলেন ফুয়াদ। তাঁর মতে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার দুই দিনের মধ্যে ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আদাবরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, মুগদায় জমি দখলের অভিযোগ এবং আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় চাঁদার দাবিতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। রাষ্ট্র নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যর্থ হলে এই নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তিনি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে সেখানে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনের সময় এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া ও আলতাফ হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন এবি পার্টিমিরপুর
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার সঙ্গে শাসক দলের লোকজন জড়িত: পরওয়ার
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারছবি: প্রথম আলো রাতের আঁধারে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে শাসক দলের লোকজন জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ। শাসক দলের লোকজন যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সেটি সব গণমাধ্যমে এসেছে। সরকারের উচিত এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। এর আগে সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) প্রেসিডেন্টসহ বোর্ড নেতারা সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তখন তাঁর কাছে রাতের আঁধারে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং আবাসিক এলাকায় গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকেরা। জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক খারাপ উদ্দেশ্যে আক্রোশমূলক আচরণ করা হয়েছে, সেটি সব মহলে নিন্দিত ও ধিক্কৃত হয়েছে। সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়েছে যে,শিল্প, ব্যবসা–বাণিজ্য কোন খাতের ওপর কখন আক্রমণ হবে, তা নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে সরকারের খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মিরপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সেখানে জনপ্রতিনিধি আছে, সরকার আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো পেছনের দিনের সহিংসতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বস্তির ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সে স্বপ্নগুলো এখন হারাতে বসেছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘যাঁরা স্থানীয়ভাবে এসব মব তৈরি করে, মাসলম্যান তৈরি করে আবার পুরোনো সেই দিন ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছেন, জনগণ কিন্তু তাঁদেরকে এটা প্রশ্রয় দেবে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাঁদেরকে আমরা বিরত হতে বলব।’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘স্পেসিফিক জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণটা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় এবং অপমানজনক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এটার খুব তীব্র নিন্দা করি।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিপিএএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, মাত্র ছয় মাস হলো সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে তাঁরা সময় দিতে চান, সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করছেন। বিরোধী দলও বলেছে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ব্যবসায়ের জন্য হুমকি উল্লেখ করে মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই, দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই, কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যাঁরা আছেন, তাঁদেরই রাজনীতিটা করা উচিত।’ আরও পড়ুন মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার ২২ ঘণ্টা আগে কী বিষয়ে আলোচনা বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা জানিয়ে বিপিএএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের কাছ থেকে শুনতে চেয়েছেন, আমাদের সেক্টরের সমস্যা। আমরা সমস্যাগুলো তাঁকে উদ্ধৃত করেছি এবং এই সেক্টরের শুধু উনি সমস্যাই শুনেননি, আমার কাছে ভালো লেগেছে, এ সেক্টরের সম্ভাবনা যেটা হবে, সে সম্ভাবনা নিয়ে উনি জানতে চেয়েছেন। আমরা সম্ভাবনা নিয়ে উনার সঙ্গে কথা বলেছি।’ মো. শাহরিয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আশ্বস্ত করেছেন, তাঁদের খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং জাতীয় সংসদে কথা বলবেন। একই সঙ্গে সম্ভাবনাটুকু কাজে লাগিয়ে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, এ ব্যাপারেও তিনি কথা বলবেন। তিনি সমস্যাগুলো লিখিত আকারে চেয়েছেন, যাতে জাতীয় সংসদ বা অন্যান্য জায়গায় সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা যায়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা'ছুম, রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম প্রমুখ। আরও পড়ুন মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীহামলারাজনীতিস্বাস্থ্যসেবাজামায়াত
