ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর

AI-classifiedconfidence 60%

Why this classification

The article is mainly a Jamaat candidate's announcement that he is withdrawing from the Sherpur-3 election over alleged rigging, but it also reports a concrete attack: Jamaat youth wing president Amir Hamza was beaten after protesting and is hospitalised with serious injuries. The attacker is not named in the text, and the claims are the candidate's allegations, so the confidence is moderate.

Reported by:SamakalJugantorCorroborated · 2 sources
09/04/26•শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী (শেরপুর-৩ আসন)

Killed

0

Injured

1

Summary

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ জাল ভোট ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবাদ করায় জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি আমির হামজাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে এবং তিনি জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

AI analysis

Category

Political Violence

Confidence

60% · severity 6

Perpetrator side

Unknown

Victim side

Jamaat

Other actors

Masudur Rahman Masud (Jamaat candidate, Sherpur-3)Amir Hamza (President, Jamaat youth wing)Mawlana Hafizur Rahman (District Jamaat Amir)Azharul Islam Misti (Sreebardi Jamaat Amir)BNP leaders (alleged)

Tags

Election ViolenceParty Clash

Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.

হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান

জেলা কোনটি?

আপনার মত দিন

নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

আহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 1

Be the first to vote

অপরাধী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ভুক্তভোগী কি সঠিক?

AI: Jamaat

Be the first to vote

ঘটনার তারিখ কি সঠিক?

AI: 09/04/26

Be the first to vote

ঘটনার ধরন কোনটি?

আপনার মত দিন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

Original news text (2 sources)

Source 1: Samakal · 09/04/26open original ↗

ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর

শেরপুর-৩ নির্বাচন ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী। ছবি-সমকাল শেরপুর ও নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:২৮ কারচুপি, জাল ভোট প্রদান, প্রভাব বিস্তার, হামলা, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এমন নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে শেরপুর -৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুসুদুর রহমান মাসুদ। এসময় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া, শ্রীবরদী জামায়াতের আমীর আজহারুল ইসলাম মিষ্টাসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত অভিযোগে জামায়াতের এ প্রার্থী শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর ১০-১৫টি কেন্দ্রে জালভোট, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং হামলার অভিযোগ আনেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আগে থেকেই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা ব্যালটের পিছনে সিল ও স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন।   তিনি বলেন, খরিয়া কাজীরচররের লঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি বুথে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সকল বুথে, মামদাবাড়ি কেন্দ্রে সকল ব্যালট পেপারের পিছনে আগে থেকেই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা  সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছিল যা অনৈতিক।    জামায়াতের  এই প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা মামদাবাড়ি, শ্রীবরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট, প্রকাশ্যে সিল মারাসহ  তার ভাগিনাকে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকি দিয়েছেন। জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি আমির হামজা প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং বর্তমানে তিনি জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তিনি জানান।   শ্রীবরদী সরকারি কলেজ, চরশিমূলচূড়া, ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউপির আয়নাপুর কেন্দ্রসহ আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভোটারদের হাতের আঙুলে অমোচনীয় কালি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনকে বলার পরও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জালভোটের সঙ্গে জড়িতদের আটক করে প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এসব কারণে তিনি দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সাথে পরামর্শ করে নির্বাচন বয়কট ও বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। এ ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যাস্ততার কারণে তিনি কথা বলতে পারেননি। তবে দুপুরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ভোটারদের মনোভাব দেখে তিনি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছেন যে ধানের শীষ জয়ী হচ্ছে। এসময় তিনি জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, তারা দুইটি কাজ ভালো করতে পারেন একটা হলো গরীব এলাকায় ভোট কেনেন। আর বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য যেমন- তাদের প্যানা ছিড়ে ফেলা হচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে, এজেন্ট থাকতে দিচ্ছে না সিল মেরে নিচ্ছে এসব গুজবের মাধ্যমে তারা জনগন ও প্রশাসনের নজর অন্যদিকে নিতে চান। তিনি আরও বলেন, শুনছি ভোটের পরিবেশ তাদের পক্ষে না থাকায় তারা ইস্যু সৃষ্টি করে ঝামেলা করতে পারে। - বিষয় : - জামায়াতে ইসলামী - ভোট বর্জন - শেরপুর

Source 2: Jugantor · 10/04/26open original ↗

অনেক কেন্দ্রে জাল ভোট জামায়াতের ভোট বর্জন

সরেজমিন : শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ অনেক কেন্দ্রে জাল ভোট জামায়াতের ভোট বর্জন Advertisement কাজী জেবেল ও রফিক মজিদ, শেরপুর থেকে প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ভোট দিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারীদের লাইন। বৃহস্পতিবার ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে -যুগান্তর অনেক ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাবস্থায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য এবং জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে অন্তত ১৬ জনকে আটক করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আবার অনেককে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে অনিয়ম ও পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বিকাল ৩টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। ওই ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিবেদনে জামায়াত প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও কোনো লিখিত দেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন ‘স্পর্শকাতর’ বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে ছিলেন। এত প্রস্তুতি সত্ত্বেও নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারের আশঙ্কা আগে থেকেই প্রকাশ করে এসেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ভোটের দিন ওই আশঙ্কার অনেকটাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। সরেজমিন আরও দেখা গেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা। ভোটারদের বাড়ি থেকে কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য অটোরিকশার ব্যবস্থাও করেছেন দলটির নেতারা। পক্ষান্তরে ভোটগ্রহণ চলাবস্থায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। এমনকি ভোট দিতে আসা ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া ও ভোটার স্লিপ দিতেও খুব একটা দেখা যায়নি। অনেক কেন্দ্রের বাইরে দলটির ব্যানারও ছিল না। তবে প্রায় সব ভোটকেন্দ্রে দলটির পোলিং এজেন্ট ছিল। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে খুব একটা উৎসাহ দেখা যায়নি। বিএনপি সরকার গঠনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। এ আসনে ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার কেন্দ্রগুলোতে আদিবাসী নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জাতীয় সংসদের অন্যান্য আসনের সঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করায় সে সময় ইসি এ আসনের ভোটের কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করে। পরে পুনঃতফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এ আসনে ভোটগ্রহণ হলো। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১২৮টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল), জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান (মাসুদ) এবং বাসদের মিজানুর রহমান। গতকাল একই দিনে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এ দুটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে নির্বাচন ভবনে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কন্ট্রোল রুম সক্রিয় ছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ইলেকশন বলতে বিশ্বব্যাপী যা বোঝায়, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে যা বোঝায়, সেটা আমরা দেখাতে চাই। তিনি বলেন, আমরা কন্ট্রোল রুমটা ভিজিট করতে এলাম। আমরা আসন দুটিতে ড্রোন থেকে আরম্ভ করে এভরিথিং ইউজ করছি। সম্পূর্ণ সায়েন্টিফিক মেথডে কেন্দ্রীয়ভাবে এটা মনিটর করছি। আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেমন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এটাও যাতে অন্তত তার চেয়ে ভালো ছাড়া খারাপ না হয়, সেটাতে আমরা জোর দিয়েছি। সুন্দরভাবে ও স্মুথলি এই ইলেকশনটা যাতে হয়, সেজন্য সব ধরনের অ্যারেঞ্জমেন্ট আমরা নিয়েছি। সরেজমিন চিত্র : শ্রীবরদী উপজেলার ইন্দিলপুর আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। ওই কেন্দ্রে সন্দেহভাজনদের জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না-এমন অভিযোগে দলটির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। একপর্যায়ে দুজন নেতা কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দেনদরবার করেন। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে দুজনই কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। এ কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার বেশ অভিযোগ ছিল। সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, কয়েকজন জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা জাল ভোট দিতে পারেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাল ভোট দিতে এসে ধরা পড়েছে এমন দুজনকে ছেড়ে দিয়েছি। মানসিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের ছাড়তে হয়েছে। তবে এ কর্মকর্তা জানান, তিন হাজার ৮০১ জন ভোটারের এ কেন্দ্রে বেলা ১টা পর্যন্ত এক হাজার ৫৫৯টি ভোট পড়েছে। এ কেন্দ্রের সাতটি বুথেই জামায়াতের এজেন্ট রয়েছেন। এর আগে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে একই উপজেলার চিথলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি রমজান আলী বলেন, বড় এক ভাইয়ের ভোট দিতে এসেছেন। তিনি ঢাকার লালবাগে একটি কারখানায় কাজ করেন। তাকে আটকের খবর শুনে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে যান। সেখানে সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকায় তারা তেমন তৎপরতা চালাননি। একপর্যায়ে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাজির হন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করেই চলে যান। পরে রমজান আলীকে পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ কেন্দ্রে যখন এমন ঘটনা ঘটে, তখন কোনো কক্ষেই জামায়াতে ইসলামীর পোলিং এজেন্টদের পাওয়া যায়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ কেন্দ্রে বিএনপির সাতজন ও জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন এজেন্ট এসে রিপোর্ট করেন। কিন্তু জামায়াতের এজেন্টরা কোথায় গেছেন তার জানা নেই। তাকে কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। সকাল ১০টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজির চর ইউনিয়নের লঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং লঙ্গরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট পড়ে। এ সময় জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে এক তরুণকে আটক করে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেন জামায়াত সমর্থকরা। বেলা সাড়ে ১১টায় মামদামারী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের পোলিং এজেন্টের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একই সময়ে শ্রীবরদী ইসলামিয়া কামিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের বাধ্য করার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এই কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির নেতাদের হামলায় জামায়াত নেতা আমীর হামযা মিস্টার আহত হন। ঝিনাইগাতি উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মীরা জাল ভোট দিতে থাকলে তাদের আটক করা হলে জামায়াতের এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াতের পোলিং এজেন্ট তাজুল ইসলামকে মারধর করে মারাত্মকভাবে জখম করে। ঝগড়ারচর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান এক বিএনপি কর্মীকে হাতেনাতে আটক করে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই কেন্দ্রে ব্যাপক জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ কেন্দ্র এবং ভেলুয়া ইউনিয়নের শিমুলচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতারা জামায়াতের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন বলে ভোটকেন্দ্রে জামায়াত সমর্থকরা অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ পাওয়া যায় শ্রীবরদী আকবরিয়া পাবলিক পাইলট ইনস্টিটিউট কেন্দ্রেও। এসব অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি রাশেদা বেগম বাঁকাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। এ পর্যন্ত যতগুলো ভোটকেন্দ্র ঘুরেছি সবগুলোতেই অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণের চিত্র দেখেছি। সরেজমিন আরও দেখা গেছে, বেলা ১১টার পর ঝিনাইগাতি উপজেলার বাঁকাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বেলা ১২টায় একই উপজেলার ভালুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। মহিলা ভোটারদের লাইনে ১৫-২০ জনের মতো অপেক্ষমাণ আছেন। এ দুই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানান, পুরুষদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ কম। প্রায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে, হাজি আছিমদ্দিন আমরুন্নেছা বালিকা কেন্দ্রসহ অন্তত ৩০টি ভোটকেন্দ্রে। দিনভর তৎপরতা দেখা যায়নি জামায়াত নেতাকর্মীদের : শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। এমনকি বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রের বাইরে তারা ভোটার স্লিপও বিতরণ করেননি। হাজি আছিমদ্দিন আমরুন্নেছা বালিকা কেন্দ্রের সামনে জামায়াতের কয়েকজন সমর্থককে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে দেখা যায়। চেঙ্গুরিয়া আনছার আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার আছে। তবে দলটির কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। সেখানে যারা ছিলেন তাদের বুকে ধানের শীষের ব্যাজ দেখা গেছে। জামায়াতের ভোট বর্জন : বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক কেন্দ্রে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে জাল ভোটদাতাদের হাতেনাতে আটক করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জামায়াত প্রার্থী বলেন, ঝগড়াচর কেন্দ্রে তার উপস্থিতিতে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও পরে আবারও জাল ভোটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া পুরাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এক এজেন্ট নিজ হাতে ব্যালটে সিল মারছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে জানানো হলেও তিনি নীরব ছিলেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলারও অভিযোগ করেন এই প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিবেদন : জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জনের পর নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীবরদী সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রে দুপুর আড়াইটার দিকে ২০-২৫ জন ভোটার একসঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং তাদের হামলায় একজন আহত হন। মামদামারী দাখিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাকালে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে জামায়াত প্রার্থী মৌখিক কিছু অভিযোগ করলেও লিখিত চিঠি দেননি। টিভির স্ক্রল দেখে তিনি জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা জেনেছেন। বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন : জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জনের পর শ্রীবরদীতে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে জামায়াতের প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পাঁয়তারা করছেন। রুবেল বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং আমার বিজয় সুনিশ্চিত।