রাতে বাসায় ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা নিখোঁজ, সকালে মিলল রক্তাক্ত লাশ

AI-classifiedconfidence 89%

Why this classification

This incident was classified as criminal violence in Cumilla. Parties reported: Unknown. Reported casualties: 1 killed and 0 injured. Reported by 2 sources.

Reported by:Prothom AloAjker PatrikaJugantorSamakalDhaka PostCorroborated · 5 sources
25/04/26•Kotbari, Comilla Sadar Dakshin

Killed

1

Injured

0

Summary

চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার তাঁর ফোন বন্ধ হওয়ার আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কথা বলতে শোনার প্রেক্ষিতে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।

AI analysis

Category

Criminal Violence

Confidence

89% · severity 7

Parties involved

Unknown

Tags

Murder

Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.

হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান

জেলা কোনটি?

আপনার মত দিন

নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 1

Be the first to vote

আহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

অপরাধী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ভুক্তভোগী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ঘটনার তারিখ কি সঠিক?

AI: 25/04/26

Be the first to vote

ঘটনার ধরন কোনটি?

আপনার মত দিন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

Original news text (5 sources)

Source 1: Samakal · 26/04/26open original ↗

বিয়ে বার্ষিকীর ৩ দিন পর স্বামীর মৃত্যুর খবর, শোকে স্তব্ধ স্ত্রী

বিয়ে বার্ষিকীর ৩ দিন পর স্বামীর মৃত্যুর খবর, শোকে স্তব্ধ স্ত্রী বুলেট বৈরাগী ও তার স্ত্রী উর্মি হীরা কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৫৪ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৩ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর বিয়ে বার্ষিকী ছিল গত বুধবার। সেদিন তার স্ত্রী উর্মি হীরা সামাজিকমাধ্যমে তাদের নানা মুহূর্তের ছবি পোস্ট করেন। লাল শাড়ি পরা উর্মির ছবি ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু সেই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস যেন হঠাৎ উর্মির জীবন থেকে উধাও! শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশের রাস্তা থেকে উদ্ধার হয় তার স্বামী বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ। গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ার বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকার ভুইয়া হেরিটেজ নামে ভাড়া বাসায়। ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার মেয়ে উর্মির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ৯ মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। শনিবার দুপুরে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র সন্তান বুলেটকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা। মেয়েকে কোলে নিয়ে বাকরুদ্ধ বুলেটের স্ত্রী উর্মি হীরা বসে আছেন একটি কক্ষে। কেবল চোখের জল ফেলছেন তিনি। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না। অনেকবার প্রশ্ন করার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে উর্মি সমকালকে বলেন, 'তার সঙ্গে আমার রাত একটা ২৫ মিনিটে শেষ কথা হয়। এর পর তার মায়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার কথা হয়। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি।' পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল বিভাগীয় প্রশিক্ষণ নিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে উঠেন। তার কুমিল্লার বাসায় ফেরার কথা ছিল। যাত্রাপথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয়। নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী সমকালকে জানান, বুলেট তার একমাত্র ছেলে। ওই রাতে সর্বশেষ ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছে। পরে রাত আড়াইটার পর তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সুশীল বৈরাগী আহাজারি করে বলেন, 'ঘাতকরা কেন আমার বুকে ধন কেড়ে নিল। ওরা টাকা পয়সা চাইলে দিতাম। কেন আমাদের সন্তান-হারা করলো। তার স্ত্রী স্বামীহারা হলো, একমাত্র সন্তানটা বাবা হারাল।' তিনি ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার দাবি করেন। ময়নাতদন্ত শেষ মরদেহ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে ওই মরদেহ বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ও মুখ রক্তাক্ত ছিল। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল মোস্তফা সমকালকে বলেন, গভীর রাতে নগরীর টমছমব্রিজ থেকে তাকে কীভাবে মহাসড়কে নেওয়া হয়। এসব বিষয় তদন্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য প্রযিুক্তর সহায়তায় ঘটনার তদন্ত চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে গেছে। ওসি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে দুপুরের পর মরদেহ বুঝে পেয়েছি। দেরি হওয়ায় শনিবার ময়নাতদন্ত করা হয়নি, তবে রোববার সকালে ময়নাতদন্ত হবে।   - বিষয় : - কুমিল্লা - কাস্টমস কর্মকর্তা

Source 2: Ajker Patrika · 26/04/26open original ↗

কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা: লাশ নিয়ে স্বজনদের আর্তনাদ

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) রহস্যজনক হত্যার ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র‍্যাবের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাত থেকে শুরু করে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বিস্তারিত জানাতে প্রেস ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছি।’ নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এর পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মরদেহ কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়ার সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বামীর লাশবাহী গাড়ির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী উর্মি হীরা। স্ত্রী উর্মি হীরা বলেন, ‘আমি শুধু আমার স্বামীর রক্তাক্ত শরীর দেখেছি। অনেকে অনেক কথা বলছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কী আসবে, তদন্ত কী বলবে—এসবের বাইরে আমার একটাই প্রশ্ন, আমার স্বামীর সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল? আমি শুধু সেটার উত্তর চাই।’ নিহতের মা নিলীমা বৈরাগী ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’এদিকে কাস্টমস বিভাগ জানিয়েছে, বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে এ মৃত্যু—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সহকর্মী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Source 3: Dhaka Post · 27/04/26open original ↗

চার দিন আগে ছিল বিবাহবার্ষিকী, আজ ছেলের জন্মদিন

আজ ২৭ এপ্রিল, নিহত বুলেট বৈরাগীর একমাত্র ছেলে অব্বয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! গতকাল বাড়িতে ফিরেছে কুমিল্লায় নিহত রাজস্ব কর্মকর্তা বাবা বুলেট বৈরাগীর নিথর মরদেহ। ছেলের প্রথম জন্মদিন কাটছে বাবা হারানো শোক আর কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে বুলেটের স্ত্রী উর্মী হীরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তার স্বামী আর নেই। এ ঘটনার চার দিন আগে তাদের বিবাহবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। স্বজনেরা লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছান। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রাতেই নিহত বুলেটকে বাড়ির পাশে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সমাহিত করা হয়। আজ সোমবার বুলেটের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে কাতর বুলেটের স্ত্রী উর্মী হীরা। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। বাবার কবরের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বুলেটের এক বছর বয়সী ছেলে অব্বয়। অন্যদিকে নিজ সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বুলেটের বাবা ও মা। তাদের আহাজারিতে কেঁপে উঠছে আশপাশের এলাকা। নিহত বুলেটের শাশুড়ি মমতা হীরা বলেন, আমার জামাই বুলেটের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আজ তার জন্মদিন। কে জানতো তার প্রথম জন্মদিন পালিত হবে বাবাকে দাফনের মধ্য দিয়ে। আমার মেয়ের চার দিন আগে বিবাহবার্ষিকী গেছে। চার বছর তাদের বিবাহ হয়েছে। আমার মেয়েটা অকালে বিধবা হলো। এটি কোন দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা। বুলেটকে যারা হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। নিহতের স্ত্রী উর্মী হীরা বলেন, আজ আমাদের পুত্র সন্তান অব্বয়ের প্রথম জন্মদিন। এজন্য দুই দিন আগে বুলেট বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ওর সঙ্গে আমার যখন শেষবার কথা হয় তখন সে আমাকে বলেছিল- আমি রওনা হইছি। কিন্তু আর জীবিত ফেরা হলো না ওর। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমাকে যারা অকালে বিধবা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। নিহত বুলেট বৈরাগী টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া উত্তরপাড়া (বাবুপাড়া) গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন এবং সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন। কাছাকাছি পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর হঠাৎ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা পরে হাইওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার মুখমণ্ডলে জখমের দাগ চিহ্ন ছিল বলে জানায় পুলিশ। আরকে

Source 4: Jugantor · 25/04/26open original ↗

মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল কাস্টমস কর্মকর্তার লাশ

মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল কাস্টমস কর্মকর্তার লাশ Advertisement কুমিল্লা ব্যুরো প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম বুলেট বৈরাগী। ফাইল ছবি। কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বুলেট বৈরাগী (৩৮) নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে আইরিশ হোটেলের পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা। চাকরির কারণে তিনি কুমিল্লার রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার ৯ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী জানান, বুলেট বৈরাগী তার একমাত্র ছেলে। ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে তিনি কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে ওঠেন। রাত আড়াইটার দিকে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। সে সময় তিনি পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমে রাজগঞ্জের বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, রাত আড়াইটার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একাধিকবার যোগাযোগ করে। এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকালে কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে মহাসড়কের ধারে তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি মমিনুল হক বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Source 5: Prothom Alo · 25/04/26open original ↗

রাতে বাসায় ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা নিখোঁজ, সকালে মিলল রক্তাক্ত লাশ

বুলেট বৈরাগীছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তা। কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। এরপরই হঠাৎ তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে মহাসড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে। তাঁর মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন দেখা গেছে। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা একটার দিকে পরিবারের সদস্যরা হাইওয়ে থানায় গিয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগদান করেন। সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। সেখানে থেকেই ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণে চট্টগ্রামে যান। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও ৯ মাস বয়সী এক ছেলেসন্তান আছে। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৪৪তম বনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম যান বুলেট বৈরাগী। গতকাল শুক্রবার প্রশিক্ষণ শেষে রাত ১১টার দিকে তিনি চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে ঢাকার একটি বাসে ওঠেন। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তখন জানিয়েছিলেন, তিনি কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমে রাজগঞ্জ পানপট্টির বাসায় ফিরবেন। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আজ বেলা ১১টার দিকে তাঁর বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এ–সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মমিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে সকাল পৌনে ৮টার দিকে কোটবাড়ী এলাকার মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বেলা একটার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির মুখমণ্ডল কিছুটা রক্তাক্ত থাকলেও শরীরে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। নিহত বুলেটের মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, ‘শুক্রবার রাত আড়াইটার পর ছেলের মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন, এর পর থেকেই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। আমার ছেলে বাস থেকে পদুয়ার বাজারে নামার কথা। কিন্তু কোটবাড়ীতে লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে তার যাওয়ার কথা না।’ তাঁর দাবি, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তিনি পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে আসে। তখন আমরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দেখি, তাঁর মুঠোফোন সর্বশেষ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি এলাকা পর্যন্ত চালু ছিল। পরে তাদের সদর দক্ষিণ থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এরপর তারা আমাদের কাছে একটি অভিযোগ দিয়ে যায়। সর্বশেষ যেখানে লাশ উদ্ধার হয়েছে, এটিও সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় পড়েছে। এ ঘটনায় মামলা সদর দক্ষিণ থানায় হবে।’ যোগাযোগ করলে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে মুখমণ্ডলের রক্তাক্ত চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি দুর্ঘটনা হতে পারে। যদিও এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন নিখোঁজমরদেহ উদ্ধারচট্টগ্রাম বিভাগকুমিল্লা