মাটির নিচে লুকিয়ে মৃত্যুভয়, দেড় বছরে বিজিবি সদস্যসহ নিহত ১০
Why this classification
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ৯ জুন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে একটি নির্দিষ্ট মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে একজন রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এটি একটি সাম্প্রতিক, সুনির্দিষ্ট সহিংস ঘটনা, তাই সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Killed
1
Injured
0
Summary
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে কলাবাগানে কাজ করার সময় মাইন বিস্ফোরণে আব্দুল খালেক (৩০) নামের এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হন। ঘটনাটি ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তের ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে।
AI analysis
Category
Criminal Violence
Confidence
90% · severity 8
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Unknown
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 09/06/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (3 sources)
নাইক্ষ্যংছড়িতে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত
নাইক্ষ্যংছড়িতে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত প্রতীকী ছবি কক্সবাজার প্রতিনিধি প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ২০:০৪ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির রেজু আমতলী সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. আব্দুল খালেক (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রেজু আমতলী সীমান্তের ৩৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন একটি কলাবাগানে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আব্দুল খালেক উখিয়ার ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা মো. আনুর ছেলে। তিনি সীমান্তে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। কক্সবাজারের বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রেজু আমতলী বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৩৯ থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহ আলমের কলাবাগান নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুল খালেক ওই কলাবাগানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইনটি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর সীমান্তজুড়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি। ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, মাইন বিস্ফোরণের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থলমাইনে জীবনের ঝুঁকি প্রতিরোধে বিজিবির তরফে স্থানীয়দের মাঝে সতর্কতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।
মাটির নিচে লুকিয়ে মৃত্যুভয়, দেড় বছরে বিজিবি সদস্যসহ নিহত ১০
ভোরের আলো তখন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি কলাবাগানে কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। কেউ আগাছা কাটছিলেন, কেউ গাছের গোড়া পরিষ্কার করছিলেন। তাদের মাঝেই ছিলেন আব্দুল খালেক (৩০)। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকা খালেক প্রায়ই স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি বাগানে কাজ করতে আসতেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে কাজ করার সময় হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খালেক। বিস্ফোরণে তার দুই পা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সহকর্মীরা প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়েন। আশপাশে আরও মাইন থাকতে পারে—এমন আতঙ্কে কেউ কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। পরে কয়েকজন ঝুঁকি নিয়ে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনেন। কাপড় ছিঁড়ে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনাস্থল ছিল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তের ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সেখানে আগে থেকেই পুঁতে রাখা ছিল অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন। ১৬ দিনে ৫ জনের মৃত্যু, দেড়বছরে নিহত ১০ আব্দুল খালেকের মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই বাইশফাঁড়ি সীমান্তে একই ধরনের বিস্ফোরণে মারা যায় এক কিশোর। এর আগে, গত ২৪ মে তুমব্রু সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় একসঙ্গে প্রাণ হারান তিন বাংলাদেশি পাহাড়ি শ্রমিক। সব মিলিয়ে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তবাসীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলার বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন এবং আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ এর অধিক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি কৃষক, পাহাড়ি শ্রমিক, রোহিঙ্গা শরণার্থী, কাঠুরে এবং বিজিবি সদস্যও। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু গত ২৪ মে দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়াপাড়া এলাকার কয়েকজন পাহাড়ি শ্রমিক সীমান্তঘেঁষা কলাবাগানে কাজ করতে যান। এলাকাটি ছিল তুমব্রু সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে প্রথম বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নিহত হন অক্যমং তংচঙ্গ্যা (৪০)। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তার দিকে ছুটে যান চিক্যং তংচঙ্গ্যা (৩৪) ও শৈফুচিং তংচঙ্গ্যা (৩২)। কিন্তু কিছুদূর এগোতেই আবারও বিস্ফোরণ। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিভে যায় তিনটি প্রাণ। তিনজনই ছিলেন দরিদ্র পাহাড়ি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রতিদিন পাহাড়ে কাজ না করলে তাদের সংসার চলত না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য অংসাই মারমা বলেন, এটা ছিল খুবই ভয়ংকর দৃশ্য। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন মারা গেলেন। তিনটি পরিবার একসঙ্গে নিঃস্ব হয়ে গেছে। অক্যমং তংচঙ্গ্যার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের বেড়ার ছোট ঘরের এক কোণে এখনো ঝুলছে তার ব্যবহৃত কাপড়। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। তিনি বলেন, সকালেও বলছিল বিকেলে ফিরে মাছ নিয়ে আসবে। আমি জানতাম না এটাই শেষ কথা। দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে আহতদের কাটছে মানবেতর জীবন প্রায় তিন বছর আগে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে পা হারান ঘুমধুম ইউনিয়নের অং না থিং (২৮), বেঁচে গেলেও তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন এক নির্মম স্মৃতি। দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তার পা রক্ষা করতে পারেননি। পরে হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে ঘুমধুম এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি পান-সিগারেটের দোকান চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন অং না থিং। তিনি বলেন, অনেকেই সাহায্যের কথা বলেছিল। কেউ টাকা দেবে, কেউ পাশে থাকবে বলেছিল। কিন্তু আমার হারানো পা কি কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে? সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক, মাইন অপসারণের দাবি নিহত তিন শ্রমিকের পরিবারসহ মাইন বিস্ফোরণে হতাহতদের খোঁজখবর নিতে সম্প্রতি ঘুমধুম সীমান্ত পরিদর্শন করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন। তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এখন এক নীরব মানবিক সংকটের মধ্যে দিনযাপন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আগামী ১৩ জুন নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলায় এক দিনের সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও মাইন অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে তার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘুমধুমের স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাইন অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মাইন পুঁতে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করা উচিত। নিরাপদ ভূখণ্ড ও নিরাপদ জীবন আমাদের ন্যায্য অধিকার। নাইক্ষ্যংছড়ির স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকেন। মাটির নিচে যেন মৃত্যু লুকিয়ে আছে। বারবার প্রাণহানির ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। মাইনে বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে বিজিবি সদস্যেরও মাইন বিস্ফোরণে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রাণ হারিয়েছেন বিজিবির এক সদস্য। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তুমব্রু সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলার-সংলগ্ন এলাকায় টহলের সময় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নায়েক মোহাম্মদ আক্তার হোসেন। বিস্ফোরণে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে কক্সবাজার, পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ১৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩১ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টানিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে হতাহতদের সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রগুলোর একটি। কারণ এসব মাইন সৈন্যদের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে সাধারণ মানুষের। ১৯৯৭ সালের অটোয়া চুক্তি অনুযায়ী অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ব্যবহার, মজুত ও উৎপাদন নিষিদ্ধ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘ বলছে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে হাজারো মানুষ মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন। হতাহতদের বড় অংশই শিশু ও বেসামরিক নাগরিক। যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর পরও এসব মাইন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। বিশেষ করে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের কারণে সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। ইফতিয়াজ নুর নিশান/এএমকে
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত Advertisement বান্দরবান দক্ষিণ ও নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২-এর মধ্যবর্তী এলাকায় সীমান্ত থেকে কিছুটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের পর স্থানীয়দের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর আড়াইটায় তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নিহতরা হলেন সুনইয়ং চাকমার ছেলে লেয়ারা, নিওমং চাকমার ছেলে অংকেমং ও অইমং চাকমার ছেলে চিংকা অং। তাদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়াপাড়ায়। স্থানীয়রা বলেন, নিহতরা সবাই সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে আগে থেকে পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে ওই এলাকায় স্থলমাইন পোঁতা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম খায়রুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ জামায়াতের উদ্বেগ : নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজনের প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সীমান্তে তিনজনের প্রাণহানি জাতির জন্য খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকাসহ সারা দেশের কোথাও নাগরিকরা সুরক্ষিত নয়। সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না। স্থলমাইন বিস্ফোরণে নাগরিকদের মৃত্যুসহ সব অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুরোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
