রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাকে ধরার নামে পুলিশের ২ ঘণ্টার ‘নাটক’

AI-classifiedconfidence 98%

Why this classification

This incident was classified as criminal violence in Rajshahi. Parties reported: Swechasebak Dal, BNP. Reported casualties: 0 killed and 1 injured. Reported by 3 sources.

Reported by:Prothom AloAjker PatrikaSamakalJugantorCorroborated · 4 sources
27/06/26•Chayanir Residential Area, Shahmakhdum

Killed

0

Injured

1

Summary

রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে ফয়সাল বাঁধন নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলটি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ভাড়া নেওয়া ডেরা এবং সেখান থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

AI analysis

Category

Political Violence

Confidence

98% · severity 5

Parties involved

Swechasebak DalBNP

Tags

Gang WarMurder

Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.

হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান

জেলা কোনটি?

আপনার মত দিন

নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 0

Be the first to vote

আহতের সংখ্যা কি সঠিক?

AI: 1

Be the first to vote

অপরাধী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ভুক্তভোগী কি সঠিক?

AI: Unknown

Be the first to vote

ঘটনার তারিখ কি সঠিক?

AI: 27/06/26

Be the first to vote

ঘটনার ধরন কোনটি?

আপনার মত দিন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

Original news text (4 sources)

Source 1: Samakal · 24/06/26open original ↗

রাজধানীতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা / রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের পিটুনিতে যুবক নিহত

বাংলাদেশ রাজধানীতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের পিটুনিতে যুবক নিহত আরও তিন জেলায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার × সমকাল ডেস্ক প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৫ | প্রিন্ট সংস্করণ - অ + চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চারু মামার ক্যান্টিনের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এদিন রাতে রাজধানীতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া তিন জেলায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজশাহীতে নিহত যুবকের নাম রাকিবুল হাসান রকি (৩২)। তিনি নগরের হেতেম খাঁ কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পানির পাইপলাইন মেরামত মিস্ত্রির কাজ করতেন রাকিবুল। তাঁকে হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার গ্রেপ্তার তিনজন হলেন– রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী আতিক, সৈয়ব ও ফাহিম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুরির অভিযোগে রাকিবুলকে আটক করেন কয়েক শিক্ষার্থী। পরে তাঁকে স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর দুই হাত, দুই পা ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাকিবুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর গতকাল তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, হত্যার কোনো ক্লু ছিল না। নিহতের পরিবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে মামলা করে। পরে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখে, নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা রাকিবুলকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। সেই ফুটেজ দেখে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। রাজধানীতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইনে আব্দুল কুদ্দুস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় নবারুণ গলির একটি বিদ্যালয়ের সামনে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল কুদ্দুস মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। পূর্ব জুরাইন দারোগাবাড়ী সড়কের ভাড়া বাসায় থাকতেন। কদমতলী থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিচিতরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহতের ছোট ভাই আব্দুল হাশেম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জুরাইন পপি স্কুলের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন কুদ্দুস। হঠাৎ ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত চায়ের দোকানে ঢুকে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রেখে যায়। কুদ্দুসকে হাসপাতালে নেওয়া বাড়ির মালিক কামাল সিকদারের ভাষ্য, স্থানীয় মাদক কারবারি মনির ও ফিরোজের সঙ্গে কুদ্দুসের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। এক মুদি দোকানির মাধ্যমে মাদক বিক্রি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। মোহাম্মদপুরে স্থানীয় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল দুপুরে সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ের সাত মাসের মাথায় খাদিজা সুলতানা কাশপি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খাদিজা একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল জলিলের মেয়ে। তার বয়স ১৪ বছর। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মাঝির বাড়ির আব্দুস সালামের ছেলে মোহাম্মদ মারুফের স্ত্রী খাদিজা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাত মাস আগে বিয়ে করেন মারুফ ও খাদিজা। মাস দুয়েক ধরে মালঘর বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন তারা। খাদিজার মা শাহিনুর আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ফোন করে মারুফ আমাকে জানায়, ‘আপনার মেয়ে অসুস্থ’। এরপর দ্রুত তাদের বাসায় গিয়ে দেখি, খাদিজা বিছানায় পড়ে আছে। তখন মারুফ বলে, ‘সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে’। খাদিজাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই আমরা। এক ফাঁকে হাসপাতাল থেকে মারুফ পালিয়ে যায়। নদীর তীরে যুবকের মরদেহ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কালনী নদীর তীর থেকে শফিক মিয়া (৩১) নামের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন– হান্নান ও ফরহাদ। ডোবায় ব্যবসায়ীর মরদেহ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মেহেদী হাসান (৩২) নামে এক মধু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাশের ডোবা থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে টাকা ছিনতাই নীলফামারীর ডিমলায় জামিয়ার রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সোনাখুলী স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। (সমকাল প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার তথ্য) বিষয় : হত্যা আরও পড়ুন জনপ্রশাসন সচিবের ওএসডির খবর ‘ভিত্তিহীন’, মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় সেপ্টেম্বরে চুক্তির সম্ভাবনা: বেবিচক চেয়ারম্যান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বরখাস্ত ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ সর্বশেষ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল ঝালমুড়িওয়ালার ঘরে, গণপিটুনিতে নারী নিহত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারীর মৃত্যু কুতুবদিয়ায় আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৬ এ যেন এক হাত থেকে অন্য হাতে মশাল তুলে দেওয়া স্রোতের তোড়ে নদীতে ভেঙে পড়ল সেতু, সাঁতরে পাড়ে উঠলেন শিশুসহ ৩ জন ‘তোমার কান্না আমাদেরও কান্না’—হেরেও ভালোবাসায় সিক্ত মেসি চাঁদাবাজ ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা, ছিনতাইকারী ধরলে ৫০ হাজার ফিফার সেরা ৪৮: র‌্যাংকিংয়ে ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগালের অবস্থান যেখানে আরও পড়ুন ×

Source 2: Ajker Patrika · 28/06/26open original ↗

মধ্যরাতে ভবন ঘেরাও ডিবির, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে রক্ষায় হুলুস্থুল কাণ্ড করলেন নেতা-কর্মীরা

রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক এক রিকশাচালক হত্যা মামলার আসামি। তিনি জামিন নেননি। পুলিশও গ্রেপ্তার করেনি। গতকাল শনিবার রাতে একটি ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ভবনটি ঘিরে ফেলে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ সরে যায়। এর ৫৫ মিনিট পর নেতা-কর্মীরা মীর তারেককে বের করে নিয়ে যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে মীর তারেক এক ভবনের ছাদ থেকে আরেক ভবনের ছাদে লাফ দিয়েছেন। এতে তাঁর ডান পা ভেঙে গেছে। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজনেরও একই অবস্থা। গতকাল রাতের এই ঘটনা রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। এখন পুলিশ বলছে, যে আসামিকে পুলিশ ধরতে গিয়েছিল, তিনি সেখানে ছিলেন না। তাই পুলিশ ফিরে এসেছে। মীর তারেক ভুল বুঝেছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে নগরের বোয়ালিয়া থানার নিউমার্কেট এলাকায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাসের বাসায় অবস্থান করছিলেন মীর তারেক। রাত পৌনে ১১টায় মহানগর ডিবি পুলিশের একটি দল ছয়তলা ভবনটি ঘিরে ফেলে। তখনই আসাসের বাসার ছাদ থেকে পাশের ভবনের ছাদে লাফ দেন মীর তারেক। এরপর তিনি ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দেন। লেখেন, ‘আসাসের বাসায় আমি। ডিবি ঘিরে নিয়েছে। সবাই আসো।’ এরপরই নেতা-কর্মীরা গিয়ে ভবনের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন। তখন ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে দাঁড়িয়ে সবই দেখছিলেন মীর তারেক। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভও করছিলেন।লাইভে মীর তারেক বলেন, ‘এই দেশের আইনশৃঙ্খলাকে আমি ঘৃণা জানাই। আজ নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে। ইলিয়াস আলীকে আমরা পাইনি। চৌধুরী আলমকে পাইনি। আজকে আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করে আমাদের গ্রেপ্তার করার জন্য এসেছে। আমি বলছি, পুলিশ যখনই ডাকবে, আমি যাব, কিন্তু এইভাবে গ্রেপ্তার করতে আসতে পারে না।’রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ডিবি পুলিশের পাশাপাশি থানা থেকেও পুলিশের একটি দল এসেছে। যে ভবনের ছাদে তারেক, সেটির সামনেই তারা দাঁড়িয়ে আছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিচ্ছেন—‘তারেক ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। তাঁরা পুলিশের বিরুদ্ধেও নানা স্লোগান দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর লাঠি (ব্যাটন) হাতে আসে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি)। কিছুক্ষণের জন্য তখন সেখানে থমথমে পরিস্থিতি। আশপাশে পুলিশের আটটি গাড়ি। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। পুলিশ ধীরে ধীরে ভবনের সামনে থেকে দক্ষিণ দিকে অলোকার মোড়ের দিকে সরে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গাড়িতে উঠে তারা চলে যায়। তখন রাত ১২টা ৫৫ মিনিট। একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘সিনেমা শেষ। সবাই চলো। ভাই বের হয়ে গেছে।’ পরে প্রায় অর্ধেক নেতা-কর্মী সরে যান।রাত ১টা ১২ মিনিটে অলোকার মোড়ের দিক থেকে একসঙ্গে হর্ন বাজাতে বাজাতে প্রায় ১০০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর আসে। ভবনটির সামনে তিনটি প্রাইভেট কারও এসে থামে। নেতা-কর্মীরা আহত অবস্থায় পড়ে থাকা মীর তারেককে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু যে ভবনের ছাদে তিনি লাফ দিয়ে পড়েছেন সেটির কলাপসিবল গেটের চাবি নেই। ১টা ২১ মিনিটে একজন ছোট একটা হাতুড়ি আনেন। সেটির আঘাতে তালা ভাঙছে না। দুই মিনিট পর আরেকজন আনেন শাবল। ভবনটির নিচতলায় দুটি সিসি ক্যামেরা ছিল। একজন একটি সিসি ক্যামেরার সামনে সাদা কাপড় গুঁজে দেন। আরেকজন আরেকটি ক্যামেরার সামনে একটি হেলমেট ধরে থাকেন। অনেকক্ষণ হেলমেট ধরে থাকার পরে ওই ক্যামেরার মুখটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পর তালা ভেঙে যায়। সাংবাদিকেরা প্রস্তুত—মীর তারেক বের হলে ছবি তুলবেন। নেতা-কর্মীদের কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে ক্যামেরা চালু না করার অনুরোধ করতে থাকলেন। ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি’ বলে কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে নেতা-কর্মীদের স্বর বদলে যায়। ফোন বের করলেই ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন। একজন সাংবাদিকদের গালি দিয়ে বললেন, ‘পিটিয়ে তাড়িয়ে দে না।’ ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর দুটি ইটের টুকরা এনে রাস্তায় রাখলেন। ক্যামেরা চালু হলেই ইট ছোড়া হবে ঘোষণা দিলেন।রাত ১টা ৩৯ মিনিটে দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে হেলমেট পরা অবস্থায় একজন বের হলেন। তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত দক্ষিণ দিকে চলে গেল। এরপর দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে হেলমেট পরে এলেন মীর তারেক। তাঁকেও একটি মোটরসাইকেলে তোলা হলো। এরপর একই মোটরসাইকেলে আরেকজন চড়লেন। দ্রুতই মোটরসাইকেলটি উত্তর দিকে চলে গেল। নেতা-কর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু নিলেন। ভবনটি থেকে আহত অবস্থায় বের করা অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।২১ জুন নগরের শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ভাড়া বাসায় গুলিবিদ্ধ হন ফয়সাল বাঁধন (৩০) নামের এক যুবক। তিনি সব সময় মীর তারেকের সঙ্গেই থাকেন। সেদিন পুলিশ বাড়িটি থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, গুলির খোসা, ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ছাদে আটকে থাকা অবস্থায় তারেক যে লাইভ করছিলেন, তা দেখে বোঝা গেছে, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গিয়েছিল। তারেকের সঙ্গে থাকা ছাত্রদল নেতা আসাস লাইভে বলেন, ‘এখানে আমাদের জিজ্ঞেস করছে বিস্ফোরক কার, অস্ত্র কার? বাঁধন ভাই কোথায় থেকে কী নিয়ে আসছে আমি জানি?’ মীর তারেক পাশ থেকে বলেন, ‘কোথায় বিস্ফোরক? কার বিস্ফোরক?’ আসাস ওই লাইভে আরও দেখান, ডিবি পুলিশ আসার আগেই বাঁধনের স্ত্রী সোনিয়া শেখের সঙ্গে মেসেঞ্জারে তাঁর কথা হয়েছে। ওই কথোপকথনে সোনিয়া লিখেছেন, ‘এত বেশি বাড়িস না। তুই ওর পেছনে কীভাবে লেগেছিলি সবাই জানে। গিভ মি সাম টাইম অ্যান্ড আই উইল ক্যালকুলেট।’ ছাদ থেকে ফেসবুক লাইভে মীর তারেক দেখান, তাঁর ডান পা ভেঙে গেছে। তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। ভবনের সামনে থেকে পুলিশ সরে যাওয়ার আগমুহূর্তে তারেকের ফেসবুক লাইভ বন্ধ হয় এবং আইডি থেকে ওই ভিডিও ডিলিট করে দেওয়া হয়।বাঁধন গুলিবিদ্ধ হওয়ার জেরেই মীর তারেককে গ্রেপ্তারে অভিযান কি না, জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘না, না। সেটা না। পুলিশ আসলে অন্য এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল। ওই আসামি সেখানে ছিল না। কিন্তু সেখানে থাকা এক নেতা মনে করেছিলেন তাঁকে গ্রেপ্তারের অভিযান। এটা আসলে ভুল-বোঝাবুঝি। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ চলে এসেছে।’ এদিকে বাঁধন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মীর তারেককে গ্রেপ্তার করা না হলেও তিনি অন্য একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গত বছরের ৭ মার্চ নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ভেতর ছুরিকাঘাতে নিহত হন গোলাম হোসেন নামের এক রিকশাচালক। এ ঘটনায় গোলামের স্ত্রী পরিবানু বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ১৩ মার্চ বোয়ালিয়া থানায় এ মামলা করা হয়। মামলা নম্বর-১৩।এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মীর তারেক। এ ছাড়া নগরের শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদারও মামলার আসামি। থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কোনো আসামি আদালতে আত্মসমর্পণও করেননি। পুলিশের চোখে তাঁরা পলাতক। গতকাল রাতে মীর তারেককে উদ্ধার করতে এসেছিলেন পুলিশের চোখে আরেক ‘পলাতক’ আসামি সুমন সরদার। আহত মীর তারেককে নিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলের মাঝে বসানো হয়েছিল। আর সুমন সরদার বসেছিলেন পেছনে।রাতে আসামি ধরা নিয়ে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ হলেও হত্যা মামলায় কেন মীর তারেককে গ্রেপ্তার করা হলো না, জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, এটা অনেক পুরোনো মামলা। কী অবস্থায় মামলাটা আছে, সেটা না দেখে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।কথা বলার জন্য আজ রোববার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মীর তারেকের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। রাতে পুলিশের এই অভিযান নিয়ে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের ডাকলে আমরা যেতাম। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি, আমরা কোথাও পালাইনি। কেন পালাব? যে অন্যায় আমরা করিনি, কেন আসবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমি মানি না এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

Source 3: Jugantor · 22/06/26open original ↗

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাসায় যুবক গুলিবিদ্ধ

রাজশাহীতে আলোড়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাসায় যুবক গুলিবিদ্ধ Advertisement রাজশাহী ব্যুরো প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর তারেকের ভাড়া বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ফয়সাল বাঁধন (৩০) নামের এক যুবক। রোববার সকালে ঘটনার সময় সেখানে মীর তারেকসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধ বাঁধন মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও তার সঙ্গে ছিলেন। বাঁধনের মোটরসাইকেলেই চলাচল করেন মীর তারেক। ঘটনার পর বাঁধনকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, তার নাভির সামান্য ওপরে পেটে গুলি লাগে। বেলা ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং পাঁচ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা বলেছেন। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা গুলিটি পিস্তলের বলে মনে করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, গুলির খোসা, ককটেল সদৃশ বস্তু এবং কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসাটি কার নামে ভাড়া নেওয়া কিংবা সেখানে কারা নিয়মিত অবস্থান করেন সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন, এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। সূত্রে জানা গেছে, পাঁচতলা ভবনটির মালিক রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি সাঈদ আল মারজুখের বাবার। ভবনের পঞ্চম তলাটি মীর তারেক ভাড়া নিয়েছিলেন। পাঁচতলার নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও একটি কক্ষ ব্যবহার উপযোগী ছিল। মূলত সেই কক্ষেই তিনি নিয়মিত বসতেন। গুলির সময় মীর তারেকসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তারা স্থান ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রদল নেতা সাঈদ আল মারজুখের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কলা দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে মীর তারেকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, বাসাটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা এমন কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Source 4: Prothom Alo · 28/06/26open original ↗

রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাকে ধরার নামে পুলিশের ২ ঘণ্টার ‘নাটক’

রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও একটি হত্যা মামলার আসামি মীর তারেককে গ্রেপ্তারের জন্য ভবন ঘিরে রাখে পুলিশ। সেখানে জড়ো হন তাঁর কর্মী-সমর্থকেরাও। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকার স্টেশন রোডেছবি: প্রথম আলো রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ‘ডেরা’ থেকে এক সপ্তাহ আগে গুলিবিদ্ধ এক যুবক, পিস্তল, গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ ছাড়া মীর তারেক একটি হত্যা মামলার আসামি, যা থেকে এখনো তিনি জামিন নেননি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য গতকাল শনিবার রাতে প্রায় দুই ঘণ্টা নগরের একটি বাসা ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। এ সময় মীর তারেক ফেসবুক লাইভে আসেন। তাঁর সমর্থকেরা ওই বাসার নিচে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন ‘তারেক ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। পরে এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার না করে সেখান থেকে চলে যায় পুলিশ। গতকাল রাত পৌনে ১১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত রাজশাহী নগরের নিউমার্কেট এলাকার স্টেশন রোডের একটি বাসার সামনে পুলিশ অবস্থান করে। বাসাটি জেলা ছাত্রদলের নেতা আসাসের। পুলিশের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করলে এক পর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে সরতে শুরু করে। দিবাগত রাত ১টা ৪৯ মিনিটে মীর তারেকের মাথায় হেলমেট পরিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে ওই এলাকা ত্যাগ করেন। এ সময় সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে চাইলে নেতা-কর্মীরা মারমুখী আচরণ করেন। কাউকে ক্যামেরা বা মুঠোফোন বের করতে দেননি। মীর তারেককে গ্রেপ্তার না করে কেন পুলিশ সরে গেল, তা জানতে চাইলে আজ রোববার সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ যে আসামিকে ধরার জন্য ওখানে অবস্থান নিয়েছিল, পরে জানা গেছে সেই আসামি ওখানে নেই। সে জন্য পুলিশ চলে আসে। লাইভে তো মীর তারেক বলেছে যে তাঁকে পুলিশ ধরতে গেছে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ও ভুল বুঝেছিল। ওকে ধরতে গেলে পুলিশ তো তার বাড়িতে যেত।’ এর আগে ২১ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের শাহমখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকার একটি পাঁচতলা বাসার অসম্পূর্ণ টপ ফ্লোরে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ বলছে, অপরাধমূলক কাজের জন্য বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তল ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় ওই বাসায় মীর তারেকও উপস্থিত ছিলেন। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম ফয়সাল বাঁধন (৩০)। তিনি রাজশাহী মহানগরের সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা। ফয়সাল বাঁধনকে ঘটনার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর পেটে গুলি লেগেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় ওই বাড়ি থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। বাড়িটি থেকে ম্যাগাজিন, গুলিসহ একটি পিস্তল, গুলির খোসা, একটি ককটেল সদৃশ বস্তু এবং কিছু বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় ও দলীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পাঁচতলা বাড়িটির পঞ্চম তলা ভাড়া নিয়েছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক। এই বাসার কাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু একটি কক্ষের কাজ শেষ হয়েছিল। সেখানেই তিনি গিয়ে বসতেন। বাঁধন গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় মীর তারেকসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। ঘটনার পর তাঁরা চলে যান। এ ছাড়া গত বছরের ১৩ মার্চ বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গোলাম হোসেন নামের একজন রিকশাচালক নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পরিবানু বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় মীর তারেক একজন এজাহারভুক্ত আসামি হলেও এত দিন পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। গতকাল রাতে নিউমার্কেট এলাকার স্টেশন রোডের ওই বাসার ছাদ থেকে ফেসবুক লাইভে এসে মীর তারেক বলেন, ‘যে ঘটনা আমরা ঘটাইনি, সে ঘটনায় দায়ী করে অন্যায়ভাবে ডিবি এসে আমাদের ধরার জন্য গোটা বাড়ি ঘিরে নিয়ে মব সৃষ্টি করেছে। আমার সঙ্গে ছোট ভাই আসাস আছে। নিচে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছে।’ নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি, আমার ডান পা ভেঙে গেছে। রাস্তায় আজকে যদি যেতে হয়, আমাদের লাশের ওপর দিয়ে থানায় যাব। আমার লাশ যাবে, না হয় জাতীয়তাবাদের সৈনিক যাবে—বাংলা কথা।’ মীর তারেক তাঁর পায়ের ছবিও দেখান। পাশ থেকে ছাত্রদল নেতা আসাস বলেন, ‘আমরা যদি এ ঘটনা ঘটাই, আমরা কোথাও যাব না।’ মীর তারেক বলেন, ‘দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করি, আমরা পালাইনি। কেন পালাব? আমি মানি না এসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’ পাশ থেকে আসাস বলেন, ‘অনেকেই আমাকে তুলে নিতে চাচ্ছে, তারেক ভাইকে বের করে নিতে চাচ্ছে, তাদের উদ্দেশে একটা কথাই বলি, আমরা দুই ভাই একসঙ্গে ছিলাম, একসঙ্গেই থাকব। আমাকে যদি ছাড়ে, আমি ডিবি অফিসে একাই চলে যাব। কিন্তু এভাবে মব সৃষ্টি করে ধরে নিয়ে যাবে? অস্ত্র আমরা কোনো দিন ব্যবহার করিনি আর আমাদের বলছে, আমরা গুলি করেছি—এটা তো হবে না।’ রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ‘ডেরায়’ যুবক গুলিবিদ্ধ নিচে অবস্থানরত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধেও নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে লাঠি হাতে আসে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি)। কিছুক্ষণের জন্য সেখানে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। আশপাশে পুলিশের আটটি গাড়ি ছিল। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। পুলিশ ধীরে ধীরে ভবনের সামনে থেকে দক্ষিণ দিকে অলোকার মোড়ের দিকে সরে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গাড়িতে উঠে তারা চলে যায়। তখন রাত ১২টা ৫৫ মিনিট। একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘সিনেমা শেষ। সবাই চল। ভাই বের হয়ে গেছে।’ পরে প্রায় অর্ধেক নেতা-কর্মী সরে যান। পুলিশ সরে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই ফেসবুক লাইভ বন্ধ হয়ে যায় এবং ডিলিট করে দেওয়া হয়। রাত ১টা ১২ মিনিটে অলোকার মোড়ের দিক থেকে একসঙ্গে হর্ন বাজাতে বাজাতে মোটরসাইকেলের একটি বহর আসে। ভবনটির সামনে তিনটি প্রাইভেট কারও এসে থামে। তারা মীর তারেককে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। কিন্তু যে ভবনের ছাদে তিনি লাফ দিয়ে পড়েছেন, সেটির কলাপসিবল ফটকের চাবি ছিল না। রাত ১টা ২১ মিনিটে একজন ছোট একটি হাতুড়ি আনেন। সেটির আঘাতে তালা না ভাঙায় দুই মিনিট পর আরেকজন আনেন শাবল। ভবনটির নিচতলায় দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। একজন একটি সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে সাদা কাপড় গুঁজে দেন। আরেকজন আরেকটি ক্যামেরার সামনে একটি হেলমেট ধরে থাকেন। অনেকক্ষণ হেলমেট ধরে থাকার পর ওই ক্যামেরার মুখটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পর তালা ভেঙে যায়। মীর তারেক বের হলে সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে যাচ্ছিলেন। তখন নেতা-কর্মীদের কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে ক্যামেরা চালু না করার জন্য বলেন। ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি’ বলে কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেন। তারপরও ফোন বের করলেই ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন। একজন সাংবাদিকদের গালি দিয়ে বললেন, ‘পিটিয়ে তাড়িয়ে দে না।’ ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর দুটি ইটের টুকরা এনে রাস্তায় ফেলে রাখলেন। ক্যামেরা চালু হলেই ইট ছোড়া হবে বলে ঘোষণা দিলেন। রাত ১টা ৩৯ মিনিটে দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে হেলমেট পরা অবস্থায় একজন বের হলেন। তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত সেটি দক্ষিণ দিকে চলে গেল। এরপর দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে হেলমেট পরে এলেন মীর তারেক। তাঁকেও একটি মোটরসাইকেলে তোলা হলো। তারপর একই মোটরসাইকেলে আরেকজন চড়লেন। তাঁর নাম সুমন সরদার। তিনিও রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার আসামি। দ্রুতই মোটরসাইকেলটি উত্তর দিকে চলে গেল। সঙ্গে সঙ্গে নেতা-কর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু নিলেন। ভবনটি থেকে আহত অবস্থায় বের করা অন্যজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন পুলিশবিএনপিঅপরাধরাজশাহী সিটিরাজশাহীরাজশাহী বিভাগ