ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর
Why this classification
The article reports a murder of a seven-year-old girl whose body was found on 16 June, followed by a mob attack in which crowds surrounded a police convoy, damaged several police vehicles, and burned the suspects' homes. At least 40 people, including police officers, were injured, and the incident falls within the last 14 days in Lalmonirhat district.
Killed
1
Injured
40
Summary
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার পর ১৬ জুন বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্দেহভাজনদের ছিনিয়ে নিতে জনতা পুলিশের গাড়িবহর ঘেরাও করে, সন্দেহভাজনদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে, যাতে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
AI analysis
Category
Mob Justice / Lynchings
Confidence
90% · severity 8
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Affected infrastructure
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 1
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 40
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: Locals
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: Law Enforcement, Locals
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 16/06/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (2 sources)
ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর
আদিতমারীতে শিশু হত্যা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর লালমনিরহাট প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের মেয়ে শিশুকে হত্যার ঘটনায় দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ত্রাণমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবার সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়ি যান। আসাদুল হাবিব দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি শিশুটির বাড়িতে এসেছেন। শিশুটির স্বজনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ছোট্ট, নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতে পারে, তারা মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন জনগণের প্রতিপক্ষ নয়। শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর যারা মব সৃষ্টি করে প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তারা সাধারণ মানুষ নয়, তারা একটি পক্ষ। সরকারকে বিব্রত করতেই একটি চক্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এ সময় লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধান ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির মা বিলাপ করছেন। তিনি বলেন, ‘হামার মাইয়াক (মেয়েকে) যামরা (যে) হত্যা করেছে, চোখের সামনে তার ফাঁসি দেইখপার (দেখতে) চাই। মেয়ে আর কোনোদিন ফিরি আইসপার (আসবে) না। নেশাখোর বিধান চন্দ্র ছাওয়াটাকে (মেয়ে) এভাবে হত্যা করি লাশ মাটিচাপা দিছে। আমি তার ফাঁসি দেখতে চাই।’ ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দি মরদেহ গত মঙ্গলবার উদ্ধারের পর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিধান চন্দ্র ও তাঁর বাবা রনজিত কুমারকে আটক করে জনতা। তাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এক পর্যায়ে বাবা-ছেলেকে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের গাড়িবহর ঘেরাও করে শত শত মানুষ। তারা সন্দেহভাজন ছেলে ও তাঁর বাবাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। অজ্ঞাতনামা আসামি দুই সহস্রাধিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মব সৃষ্টি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত করা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ এনে গত বুধবার রাতে এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেছেন। এতে ১২শ থেকে ১৫শ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এতে ১২শ থেকে ১৫শ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যারা মব কালচারে থাকতে চায় ও সরকারি কাজে বাধা দেয়, সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। - বিষয় : - হত্যা
মেয়ের স্কুলব্যাগ, বই–খাতা আর ফ্রক বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন মা–বাবা
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর বইখাতা। সেই স্মৃতি আঁকড়ে কাদছেন মা–বাবা। বুধবার সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশুটির বাড়িতেছবি: প্রথম আলো শোবার ঘরের খাটের ওপর ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে মেয়েটির স্কুলব্যাগ ও ফ্রক। পাশেই প্রথম শ্রেণির বই–খাতা। মেয়েকে হারিয়ে এখন তার স্মৃতিচিহ্ন আঁকড়ে ধরে কাঁদছেন মা–বাবা। কে তাঁদের মা–বাবা বলে ডাকবে, সেই কথা ভেবে আহাজারি করছেন। তাঁদের একটাই দাবি, মেয়েকে হত্যা ও নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটিকে নেশাখোর বিধান চন্দ্র ফুসলিয়ে নিয়ে এভাবে মারি ফেলে ভুট্টাখেতত বস্তাত ভরি পুঁতি থুইল। ও তো আর কোনো দিন মোক মা কয়া ডাক দিবার নয়; ওর বাপোক বাবা কয়া ডাক দিবার নয়। আমরা থানাত মামলা দিছি। বিধানসহ ওগুলোর ফাঁসি চাই, তাইলে মনোত শান্তি হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার একটি ভুট্টাখেত থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ভুট্টাখেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। আগের দিন সোমবার বিকেল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র বর্মণ (২০) ও তাঁর বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে গতকাল আটক করে পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় জনতা মব সৃষ্টি করে তাঁদের নিজেদের হাতে তুলে নিতে চান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর দফায় দফায় হামলা হয়। ভাঙচুর করা হয় সরকারি ছয়টি গাড়ি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় আটক ব্যক্তিদের বাড়ি। আহত হন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন। পরে শিশুটির বাবার করা মামলায় আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আরও পড়ুন শিশুর লাশ উদ্ধার, আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ‘মব’, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর ১৬ জুন ২০২৬ আজ বুধবার দুপুরে শিশুটির গ্রামের বাজারে গিয়ে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। গ্রামের তরুণ ও যুবক বয়সী তেমন কাউকে বাজারে দেখা যায়নি। শিশুটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির মা–বাবা মেয়ের বই-খাতা, পোশাক নিয়ে আহাজারি করছেন এবং মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করছেন। প্রশাসনের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবারের হামলার ঘটনার পর এলাকার বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। বুধবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো স্থানীয় বাসিন্দা জলধর বর্মণসহ প্রবীণ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, তাঁদের জীবনকালে এমন ভয়াবহ ঘটনা তাঁদের গ্রামে কখনো ঘটেনি। তাঁদের দাবি, আসামিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ প্রশাসনের গাড়িতে হামলায় গ্রামের কেউ জড়িত ছিলেন না। তাঁদের অধিকাংশই বহিরাগত ও অচেনা। হামলার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা তাঁরা শুনেছেন। গণহারে যেন আসামি না করা হয়, সেই দাবি করেন তাঁরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার দিন (সোমবার) রাত ১২টার দিকে শিশুটির বাবা গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে কয়েক দিন পর থানায় যেতে বলেন। পরদিন (মঙ্গলবার) লাশ উদ্ধারের পর দুপুরে পুলিশ বিধান চন্দ্র ও তাঁর বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কারা হট্টগোল করে একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করেন। ওই ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার জন্য আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হককে গতকাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে শিশুটির লাশ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাত দুইটা পর্যন্ত গ্রামের শ্মশানে চলে সৎকারের কাজ। আজ দুপুরে অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় ও তাঁর বাবা রণজিৎ চন্দ্র রায়কে মেয়েটির বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে আদিতমারী থানা-পুলিশ। আরও পড়ুন লালমনিরহাটে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার পর বস্তাবন্দী করে পুঁতে রাখা হলো ভুট্টাখেতে ১৬ জুন ২০২৬ লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিন আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন শিশুগ্রেপ্তারমরদেহ উদ্ধাররংপুর বিভাগঅপরাধআদিতমারীলালমনিরহাটহত্যা
