বেরোবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষ
Why this classification
The article reports a specific recent clash between Chhatra Dal and Shibir at Begum Rokeya University on Monday, August 3, 2026.
Killed
0
Injured
0
Summary
সন্ধ্যায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
85% · severity 2
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: BNP, Jamaat
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: BNP, Jamaat
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 03/08/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (9 sources)
আবু সাঈদের রংপুর কতটা বদলেছে
আবু সাঈদের রংপুর কতটা বদলেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দেন আবু সাঈদ (ফাইল ছবি) আলতাফ হোসেন দুলাল, রংপুর প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রংপুরের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ, সুশাসন এবং উন্নত জীবনমান। শুধু সরকার বদল নয়; রাষ্ট্রের আচরণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চেয়েছে তারা। দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার ও মামলা-হয়রানি বন্ধের স্বপ্ন দেখেছে তারা। জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পর রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। তাদের কথায় এসব প্রত্যাশার বিষয় উঠে এসেছে। তবে তাদের বেশির ভাগের মতে, বিভিন্ন প্রত্যাশা পূরণে এখনও বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ‘আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন চাইনি’ রংপুর নগরের তরুণ রাকিব হাসান বলেন, ‘আমরা শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা চেয়েছিলাম, রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাবে, প্রশাসন জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং পুলিশ থাকবে নিরপেক্ষ। কিন্তু দুই বছর পর তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।’ বালাপাড়া এলাকার তরুণ নাঈম ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ভেবেছিলাম, নতুন একটা বাংলাদেশ হবে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো হবে জবাবদিহিমূলক, ঘুষ-দুর্নীতি থাকবে না। কিন্তু আমরা যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা এখনও অনেক দূরে আছে।’ তবে জুলাই আন্দোলনের পর তরুণদের চিন্তা ও চেতনায় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন অনেকে। রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন প্রজন্ম আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছে। অনেক তরুণ প্রথমবার রাজপথে নেমেছেন, কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন, কেউ নাগরিক অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘আগে আমরা অনেক বিষয় নিয়ে ভয়ে চুপ থাকতাম। এখন শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে শিখেছে। তবে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি যেন আবার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে হারিয়ে না যায়, সেটিই আমাদের ভয়।’ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ। বেরোবিতে বদল কতটা? আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পরও বেরোবি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে অন্তত ছয় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু হাসান বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় জীবন দিয়েছেন আবু সাঈদ। আমরা ভেবেছিলাম, এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তত উন্নয়ন হবে। কিন্তু তেমন কিছুই হলো না।’ বেরোবি ছাত্রদলের সহসভাপতি তুহিন রানা বলেন, ‘আবু সাঈদের জীবন উৎসর্গে আমরা আশা করেছিলাম, সব ধরনের বৈষম্য-বঞ্চনার অবসান, গণতন্ত্রের আমূল পরিবর্তন এবং নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও রংপুরের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরেছে।’ বেরোবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান সৌরভ বলেন, ‘দুই বছরেও রংপুরের তেমন কোনো পরিবর্তন বা উন্নয়ন হয়নি। বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদ গেট, জাদুঘর বা স্মৃতিস্তম্ভ এখনও দৃশ্যমান নয়। আবু সাঈদ যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন, সেই বৈষম্যও দূর হয়নি।’ ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আধিপত্য ছিল। এখন ছাত্রদল ও শিবিরের আধিপত্য আছে। পরিবর্তন বলতে শুধু দল পরিবর্তন হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অবকাঠামোগত উন্নয়নও আশানুরূপ নয়। শিক্ষার্থীদের মেধা-মনন ও ক্যারিয়ার সমৃদ্ধকরণেও দৃশ্যমান উদ্যোগ কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, আবু সাঈদ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু সেই বৈষম্যের তলানিতে পড়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় তথা রংপুর অঞ্চল। শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উন্নয়নে রংপুর কি এখনও পিছিয়ে আন্দোলনের দুই বছর পরও উন্নয়নের ক্ষেত্রে রংপুর পিছিয়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সড়ক, রেল, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর হয়নি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকটও পুরোপুরি কাটেনি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। রংপুর জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার আট উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৬১৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে পাকা ২ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার, যা প্রায় ৩৫ শতাংশ। কাঁচা সড়ক রয়েছে ৪ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৭১ কিলোমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ। এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে ৭০ শতাংশ সড়ক পাকাকরণ হয়েছে। সে তুলনায় রংপুর অনেক পিছিয়ে। আবু সাঈদের জন্মভিটা পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪ সালের পর মাত্র ১৫ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ চলছে। উপজেলাটিতে এখনও কাঁচা সড়ক রয়েছে ৭৩২ কিলোমিটার। রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী বলেন, ২০২৪ সালের পর সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়ক বা অবকাঠামোগত তেমন উন্নয়ন হয়নি। সম্প্রতি ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। রংপুর নাগরিক কমিটির নেতা আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, অতীতের সব সরকারের আমলে বৈষম্য ও উন্নয়নবঞ্চিত ছিল রংপুর। এখনও আছে। পুলিশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক চব্বিশের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ৫ আগস্টের পর পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। নগরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের আচরণে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও ভয় কাজ করে। আমরা চাই, পুলিশ রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করুক।’ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারালেও এখন তা ফিরেছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু হবে, এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’ ক্ষমতা বদলেছে, রাজনীতি কি বদলেছে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মেছের উদ্দিন বলেন, রাজনীতিতে মুখ বদলেছে; কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন কতটা হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। দখল, প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। রংপুরের বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেহেদি হাসিন বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আইনের অপব্যবহারও বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা ভিন্নমতের কারণে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা না গেলে পরিবর্তন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বেরোবির জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্বহা হোসাইন বলেন, উন্নয়নে এখনও বৈষম্যের শিকার রংপুর। অনেকেই আশা করেছিলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগের বিষয়টি দেশ-বিদেশে গুরুত্ব পাওয়ায় রংপুরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে। শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ঘুচবে। কিন্তু কোনোটাই গুরুত্ব পায়নি। রংপুরের প্রবীণ নাগরিক আবদুল হালিম বলেন, ‘আবু সাঈদ নিজের জন্য জীবন দেননি। তিনি এমন এক সমাজের জন্য জীবন দিয়েছেন, যেখানে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে। এখন যদি আবার মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, তাহলে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।’ - বিষয় : - জুলাই যোদ্ধা - জুলাই আন্দোলন - রংপুর - আবু সাঈদ
উত্তেজনার পর বেরোবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল-শিবির
সারাদেশ উত্তেজনার পর বেরোবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল-শিবির × ছবি- সমকাল বেরোবি প্রতিনিধি প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪৯ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২২:১২ - অ + দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন। গত সোমবার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের পর উভয় সংগঠন একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাজহাট থানার কাছে ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেছিল। তবে সেই উত্তেজনার মধ্যেই জাতীয় কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তাঁদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে আমরা কখনো বাধা দিইনি। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। আশা করি, তারা ক্যাম্পাসে লেখা ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানটি মুছে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, জুলাই আমাদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্য ধরে রেখেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও সহিংসতা পরিহার করতে হবে। তা না হলে আবারও ফ্যাসিবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যের ফলেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। আশা করি আর যেন কোন স্বৈরাচার না আসতে পারে। সেজন্য তরুণরা যেভাবে একত্রিত হয়ে কাজ করছে এখনো তাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যপূর্ণ পরিবেশ, সেটা আজকেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা সর্বস্তরের শিক্ষার্থী, ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সবাই একসঙ্গে বর্ণাঢ্য র্যা লি করেছি। এছাড়াও আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করলাম। বিষয় : বেরোবি জুলাই গণঅভ্যুত্থান আরও পড়ুন শেখ হাসিনার সঙ্গে পবিপ্রবি শিক্ষকদের বৈঠক, তদন্তে কমিটি গঠন ক্রিকেটার সাকিবের বাড়িতে হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা পিবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত সর্বশেষ গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পবিপ্রবি শিক্ষকদের বৈঠক, তদন্তে কমিটি গঠন কারাগারে অসুস্থ নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার ঢামেকে মৃত্যু ক্রিকেটার সাকিবের বাড়িতে হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ শিবিরের আহত নেতাদের দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণে লড়াই চলবে: শফিকুর রহমান আরও পড়ুন ×
বেরোবিতে আবারও মুখোমুখি ছাত্রশিবির-ছাত্রদল, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে গতকাল সোমবারের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মুখোমুখি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে একই স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দুই সংগঠন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা জারি হয়নি। মুখোমুখি কর্মসূচির ঘোষণায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দুই সংগঠন একই সময়ে একই স্থানে অবস্থান নিলে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে একাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম রবি বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আবু সাঈদ চত্বরে তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম বলেন, বেরোবিতে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আবু সাঈদ চত্বরে সমাবেশ করা হবে।একই স্থানে দুই সংগঠনের কর্মসূচির ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন।আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল সোমবার রাতে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংঘর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই স্থানে নতুন করে দুই সংগঠনের কর্মসূচির কারণে ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ: বেরোবিতে দর্শনার্থী ও যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিকেলের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই সংগঠনের কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি; বিষয়টি বিবেচনাধীন।
বেরোবিতে উত্তেজনা, একই স্থানে শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে উভয় সংগঠন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর ৫ জনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় দুই সংগঠন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল সাড়ে ৫ টায় লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্ক মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই এলাকায় দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই স্থানে কর্মসূচি ঘোষণা করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাশেদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রিপন শাহরিয়ার/এমএমবি
রাজনীতি নিষিদ্ধের পরও বেরোবিতে রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্তের কোনো তোয়াক্কাই করছে না প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকাশ্য সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত ৩ আগস্ট (সোমবার) রাতে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে একটি ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতরুপ পাঁচজনসহ আরও অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ছাড়া পরদিন মঙ্গলবার ছাত্রদল-যুবদলের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশঙ্কা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও জানিয়েছিল। শহীদ আবু সাঈদের রক্তে ভেজা ও রাজনীতি নিষিদ্ধ এই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে পড়াশোনার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে। তেমনি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তারা চিন্তিত। আর এ ধরনের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে উপাচার্যের উপস্থিতি ও বক্তব্য প্রদান করার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি ও বাহবা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল মোমিন বলেন, ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ যেখানে শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস লাইফ লিডে কাজ করা সেখানে আমরা দেখছি সহিংসতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জীবনকে ভীতিকর পরিস্থিতিতে ফেলানো হচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি নির্বাচনের মাধ্যমে কল্যানমূলক সংসদীয় রাজনীতি করেন যেখানে ক্যাম্পাসের ভেতরে মিছিল-মিটিং, জোরপূর্বক দলে নেওয়া এবং পোস্টার টানানোর মতো প্রচলিত রাজনীতি থাকবে না, কিন্তু রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে তাদের কাছ থেকে এই সহিংসতামূলক আচরণ আমাদেরকে চরম ভীতিকর এবং অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি করছে। এর দায় সেইসব দল এবং প্রশাসন উভয়কেই সমানভাবে নিতে হবে। আমরা তো এমনটা চাইনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, অস্ত্র প্রদর্শন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা কোনো রাজনৈতিক সংঘাত চাই না, আমরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে যারা ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে। শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, শিক্ষার্থীদের গণরায়ের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল সিন্ডিকেট, কিন্তু তারা সেই আইনের বাস্তবায়ন করতে ব্যার্থ হয়েছে। ফলতঃ শিক্ষার্থীরা পূণরায় ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখলো, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। এ বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট অনুযায়ী সকল প্রকার লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপরীতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর ছাত্র রাজনীতি চালুর বিষয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি চালু থাকবে কি থাকবে না এই বিষয় নিয়ে প্রশাসন একটা কমিটি করে দিয়েছে। সেই কমিটি প্রশাসন বরাবর রিপোর্ট জমা দিলেই আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো। তবে সাম্প্রতিক যে ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ঘটেছে সেটা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। রিপন শাহরিয়ার/এএমকে
যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শন বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পালটাপালটি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে কয়েক ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পার্কের মোড়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আপত্তি জানিয়ে ব্যানার সরানোর দাবি করলে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টাঙানো ব্যানার সরাতে ছাত্রদল চাপ সৃষ্টি করে। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে বলা হলেও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগও করেন তিনি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে প্রদর্শন করায় তারা আপত্তি জানান। ব্যানার সরানোর দাবি করলে শিবিরের নেতা-কর্মীরা চেয়ার ছুড়ে হামলা চালায় এবং এতে ছাত্রদলের এক নেতা আহত হন। ছাত্রদলের অভিযোগ, পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা এসে হামলায় অংশ নেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রশিবির। সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রদর্শনীস্থলের সামনে ছাত্রশিবির এবং মূল ফটকের সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে যান। তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং শত শত যানবাহন মহাসড়কে আটকা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে এসে ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন দাবি করেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার অপসারণের দাবি জানানো হলে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন।
ব্যানারে ছয় নেতার ছবি নিয়ে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যানারে ছয় নেতার ছবি নিয়ে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক তিন ঘণ্টা বন্ধ Advertisement রংপুর ব্যুরো প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যানার নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়। প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে জামায়াত ও বিএনপির ছয় নেতার ছবিসংবলিত ওই ব্যানার টাঙানো হয়। ছাত্রদল নেতারা ব্যানারটি সরিয়ে নিতে বলার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিক ও একই শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা এবং বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের জিএস পদপ্রার্থী (শিবির সমর্থিত) মেহেদী হাসান। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ‘একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতা বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ উল্লেখ করা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পালটাপালটি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্ট্যাম্প দিয়ে শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রদর্শনীস্থলের সামনে শিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয়পক্ষ পালটাপালটি স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সড়ক যোগাযোগ সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে না জানিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে আক্রমণ করে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সরাতে বললে হামলা চালায় শিবির। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রলীগের উসকানিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করব। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের চিত্রছবি: প্রথম আলো রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক এবং ছাত্রদল পার্কের মোড় মসজিদে সামনে অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনব্যাপী শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং)’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি সরাতে বলে। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক বলেন, ‘জুডিশিয়াল কিলিংয়ের যেসব ছবি আমরা লাগিয়েছি, ছাত্রদল এসে বলে , তারা বরাজাকার, তাদের ছবি রাখা যাবে না, সরিয়ে ফেলতে হবে। আমরা ছাত্রদলকে বলেছি, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন, তারা সিদ্ধান্ত দেবে। আপনারা তো এখানকার অথরিটি (কর্তৃপক্ষ) না এসব নামিয়ে ফেলার জন্য। তো তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে।’ ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক আরও বলেন, তাঁদের সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তাঁদের কয়েকজন আহত হন। পরে প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে তাঁরা থেমে যান। ছাত্রদলও চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। তাঁরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা মীমাংসার চেষ্টা করেন উপাচার্য ও প্রক্টর। সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেছবি: প্রথম আলো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন মুঠোফোনে বলেন, ‘রাজাকারদের যে ছবি ছিল; গোলাম আজম, কাদের মোল্লা নিজামী তারা যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ছিল তাদের ছবিগুলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পাশে টাঙানো বিষয়ে আমরা তাদের বলি এগুলো অপসারণ করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়।’ শিবিরের নেতা–কর্মীরা কারমাইকেল কলেজের ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় অভিযোগ করে ছাত্রদল নেতা মো. ইয়ামিন আরও বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কোনো আপোষ করবো না। জুলাই নিয়েও কোনো আপোষ করবো না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, যাঁরা এই মারামারির পেছনে জড়িত, তাঁদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে অতিশিগগিগই বিচার করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার (ওসি) রফিকুল ইসলাম রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরে মধ্যে হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ামাত্র তাঁরা ক্যাম্পাসে এসেছেন। এখন পরিবেশ শান্ত। দুই দলের সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করছেন। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন ইসলামী ছাত্রশিবিরছাত্র রাজনীতিরোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়রংপুরছাত্রদলরংপুর বিভাগসংঘর্ষ
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনার্থী–যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ, বিকেলে ছাত্রশিবির–ছাত্রদলের বিক্ষোভ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ফাইল ছবি ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দর্শনার্থীসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি বা দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আরও পড়ুন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ০৩ আগস্ট ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত। বিকেলে শিবির–ছাত্রদলের বিক্ষোভের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি বা দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।’ এদিকে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে রংপুর মহানগর ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা মঙ্গলবার (আজ) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। শহরের লালবাগ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁরা আবু সাঈদ চত্বরে যাবেন। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের চিত্রছবি: প্রথম আলো অন্যদিকে আজ বিকেল চারটার দিকে রংপুর মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্বে আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন। ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ তৎপর আছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন রংপুর মহানগরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়রংপুরইসলামী ছাত্রশিবিরছাত্রদলরংপুর বিভাগসংঘর্ষ
