ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে বাপ্পির মহড়া
Why this classification
This is classified as political violence because it involves a physical confrontation and armed intimidation between two rival factions of the BNP in Ishwardi, stemming from long-standing internal party conflicts.
Killed
0
Injured
0
Summary
২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট সোমবার পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। এ সময় প্রতিপক্ষ পিন্টু সমর্থকদের ধাওয়ায় তিনি থানায় আশ্রয় নেন।
AI analysis
Category
Political Violence
Confidence
95% · severity 3
Perpetrator side
Victim side
Other actors
Tags
Fields above are extracted automatically by AI and may contain errors. Help us correct them by voting below.
হ্যালো, তথ্যগুলো কি সঠিকভাবে সনাক্ত হয়েছে? আপনার মতামত জানান
জেলা কোনটি?
আপনার মত দিন
নিহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
আহতের সংখ্যা কি সঠিক?
AI: 0
Be the first to vote
অপরাধী কি সঠিক?
AI: BNP
Be the first to vote
ভুক্তভোগী কি সঠিক?
AI: BNP
Be the first to vote
ঘটনার তারিখ কি সঠিক?
AI: 17/08/26
Be the first to vote
ঘটনার ধরন কোনটি?
আপনার মত দিন
মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই।
Original news text (5 sources)
মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া
সারাদেশ মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া × ছবি: সংগৃহীত ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:০৫ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৩ - অ + মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে পাবনার ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে মহড়া দিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি। একপর্যায়ে তিনি থানায় গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথা ছিলেন। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বাপ্পির দাবি, তাকে হত্যার হুমকিদাতাদের এবং মাদক ও সুদের কারবারিদের ওপেন চ্যালেঞ্জ দিতে তিনি অস্ত্র হাতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে রাস্তায় নেমেছেন। এদিকে বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা থানার সমানে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ বাপ্পিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় আটকে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা থানার সামনে অবস্থান নেন। বাপ্পির দাবি, ঈশ্বরদীর কতিপয় সন্ত্রাসী তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে তিনি হুমকিদাতাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে শহরের কলেজ রোডে তার বাড়ি থেকে অস্ত্র হাতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে জিরো পয়েন্ট রেলগেটে আসেন। সেখান থেকে সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে বলেন, ‘আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, এ কারণে আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ দিতে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমেছি। থানায় এসেছি।’ এদিকে জুবায়ের বাপ্পির থানায় থাকার খবর পেয়ে পেয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘জুবায়ের বাপ্পি প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাঁকে গ্রেপ্তার ও তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’ ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত জুবায়ের বাপ্পিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শন করে কাউকে হুমকি দিলে, অস্ত্রের অপব্যবহার করলে সে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার বিধান রয়েছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাপ্পি থানায় পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। বিষয় : পাবনা ঈশ্বরদী ছাত্রদল নেতা আরও পড়ুন চট্টগ্রামে নিজের মাথায় গুলি করে সাবেক ব্যাংকারের মৃত্যু দুই ঘণ্টার বিদ্যুৎবিভ্রাটে চমেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি সড়ক দুর্ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের স্প্রিং-বডি ভেঙে উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ সর্বশেষ অপূর্বর ক্যারিয়ারের ভিন্ন অধ্যায় চট্টগ্রামে নিজের মাথায় গুলি করে সাবেক ব্যাংকারের মৃত্যু রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যুৎহীন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ভোগান্তিতে রোগীরা ৮ বছর একসঙ্গে থাকার পর নতুন জীবনে অর্জুন রামপাল-গ্যাব্রিয়েলা ১৮ উইকেটে ম্যাকাইয়ে রোমাঞ্চের প্রথম দিন ‘স্পিরিট’ থেকে দীপিকার বাদ পড়ার নেপথ্যে তথ্য ফাঁস গুলশানে আবাসন প্রকল্পের নামে দখলবাজি কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান টিআইবির আরও পড়ুন ×
সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ
সেই বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়ায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ পাবনায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া ছবি- সমকাল ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:০১ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা শহরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সড়কে মহড়া দেওয়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা দাবি করা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে গত সোমবার রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধকারীরা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিন, ইমরুল কায়েস সুমনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় জুবায়ের বাপ্পিকে থানা থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তারা। রাত আটটার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও থানার ওসি আশাদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে নেতারা থানা ফটকের সামনে পথসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা প্রশাসনের ভূমিকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি কিন্তু আন্দোলন থেকে সরে যাবো না।' এ সময় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি, ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নান্নু রহমান, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, মাহমুদুর রহমান জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান প্রমুখ। মেহেদী হাসান বলেন, 'আমরা পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় হতাশ হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে সড়ক ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তবে জনগণের স্বার্থে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।' ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, জুবায়ের বাপ্পির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সোমবার রাতেই মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি জানিয়েছে, একজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার হস্তক্ষেপে সোমবার রাতে বাপ্পিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের কলেজ রোডের নিজ বাড়ি থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বের হন বাপ্পি। তার মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল। তিনি শহরের প্রায় দুই কিলোমিটার পথে হেঁটে হেঁটে মহড়া দেন। এ সময় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথা তার পাশাপাশি হাঁটছিলেন। পরে বাপ্পি রেলগেটের জিরো পয়েন্টে যান। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বক্তব্যও রাখেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে থানায় যান। খবর পেয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর একদল নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একপর্যায়ে বাপ্পিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে ডিবি হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোনো পদে না থাকলেও বাপ্পি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা দাবি করেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী। গত শুক্রবার বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে ‘সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘জুবায়ের বাপ্পি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে মহড়া দেয়। আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে রেলগেট ট্রাফিক আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার ও তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানিয়েছি।’ জুবায়ের বাপ্পি বলছেন, ‘আমি মাদক, সুদখোরদের বিরুদ্ধে এবং আমাকে যারা হত্যার হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাতে রাস্তায় নেমেছিলাম।’ ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান, বাপ্পির হাতের শটগানটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার পর এটির লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছি। - বিষয় : - আগ্নেয়াস্ত্র - মহড়া - থানা ঘেরাও
মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া
পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় পরিধান করে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পী মহড়া দিয়েছেন। মহড়াকালে দুই পক্ষের ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এমন মহড়ায় শহরের অভ্যন্তরেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ঈশ্বরদী থানা ফটকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া জোবায়ের হোসেন বাপ্পী থানার ভিতর পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা থানা ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এমন ঘটনার বিচার দাবি করেন। জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাসস্থান থেকে মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় পরিধান করে মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানানোর জন্য তিনি প্রকাশ্যে তার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে থানা ফটকে অবস্থান করেন। পরে অস্ত্র হাতে এমন মহড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার কিছু সময় পড়ে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা থানা ফটকে অবস্থান করে এমন আতঙ্ক সৃষ্টির প্রতিবাদ জানিয়ে জোবায়ের হোসেন বাপ্পী ও হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আইনি পদক্ষেপ দাবি করেন। এসময় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনিসহ থানা ফটকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন বলেন, রাজনৈতিক ক্ষোভে কিছুদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বাপ্পী বার বার হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। আজকে সে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে পুরো শহরে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আমরা মনে করছি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রতিপক্ষের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তার এই অস্ত্রের মহড়া। আমরা এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, এ ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শন করা জোবায়ের হোসেন বাপ্পী ইতোমধ্যে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসএইচএ
ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে বাপ্পির মহড়া
বিএনপির দ্বন্দ্বের জের ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে বাপ্পির মহড়া Advertisement ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে চায়নিজ রাইফেল হাতে সোমবার বিকালে শহরের প্রধান সড়কে মহড়া দিতে দেখা গেছে। পরে রেলগেট এলাকায় পিন্টু সমর্থকদের ধাওয়ায় বাপ্পি পাশে অবস্থিত থানায় আশ্রয় নেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে জানান, বাপ্পি আগ্নেয়াস্ত্রটি জমা দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত। ইতোপূর্বে ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ঈশ্বরদী বিএনপির রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় একটি অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ঈশ্বরদীতে বিগত সংসদ নির্বাচন থেকে বিএনপির দুটি গ্রুপ প্রকাশ্যে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে। এদের একটি পক্ষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী এবং অপরপক্ষ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী। বাপ্পি ফেসবুক লাইভে এসে পিন্টুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিভিন্ন কথা বলেন। তাদের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করে শক্ত অবস্থান ঘোষণা করেন। সেই সূত্র ধরে সোমবার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রেলগেট এলাকায় মহড়া দেওয়ার সময় পিন্টু সমর্থকরা ধাওয়া করলে বাপ্পি পাশে অবস্থিত থানায় আশ্রয় নেন। ঈশ্বরদীর সাবেক ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা বাপ্পি এখনো গ্রেফতার হননি। বিএনপির দুই গ্রুপের সশস্ত্র মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে শটগান হাতে তার মহড়ার ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি বাপ্পি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) উপস্থিত হয়ে ঈশ্বরদীর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এর প্রতিবাদে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশ পালটা সংবাদ সম্মেলন করে বাপ্পির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী জড়ো করার অভিযোগ তোলে। পৌর এলাকায় তার প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে এখনো চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঈশ্বরদীতে কাফনের কাপড় পরে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া
অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেনের মহড়া। গতকাল সোমবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতেছবি: সংগৃহীত পাবনার ঈশ্বরদী শহরে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা জুবায়ের হোসেন ওরফে বাপ্পি (৩৫)। গতকাল সোমবার বিকেলের ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে তিনি তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি থানায় জমা দেন। জুবায়ের হোসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমানের সমর্থক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, জুবায়ের একসময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এদিকে জুবায়েরের অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদে বিএনপির অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা সোমবার রাতে ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এই পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে জুবায়েরের পক্ষে বক্তব্য দেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুবায়েরের বাড়ি ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের মশুড়িয়াপাড়া এলাকায়। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তাঁর হাতে ছিল একটি শটগান। প্রায় চার কিলোমিটার পথ অস্ত্র হাতে শহরের প্রধান সড়কগুলো ঘুরে তিনি থানায় যান। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদ জানান। রাত পৌনে আটটার দিকে থানার সামনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জুবায়ের হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। থানার সামনে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করলে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে জুবায়েরের পক্ষে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জুবায়ের হোসেন ওরফে বাপ্পি একজন প্রতিবাদী ছেলে। তাঁর রক্তে প্রতিবাদ রয়েছে। পুরো ঈশ্বরদী এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে সুদের ব্যবসা। ফলে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। বাপ্পি এসবের প্রতিবাদ করতেই জুবায়ের কাফনের কাপড় পরে থানায় গিয়েছে। নিজের অস্ত্রটিও থানায় জমা দিয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও আইনজীবী মাসুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেটি পূর্বে কী ছিল, জানি না। তবে বর্তমানে আমাদের দলের কোনো পদ-পদবিতে নেই। অন্যদিকে অস্ত্র ব্যবহারের নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ছেলেটি অপরাধ করলে সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মনে করি।’ জুবায়ের থানায় এসে তাঁর অস্ত্রটি জমা দিয়েছেন বলে জানান ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই করেছে। অস্ত্রটি বৈধ ছিল। সেটি থানায় জমা নেওয়া হয়েছে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু রয়েছেন। ওই নির্বাচনে হাবিবুর রহমান বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। জাকারিয়া পিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে জয়ী হন জামায়াতের প্রার্থী। হাবিবুর রহমান নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন জেলা থেকে আরও পড়ুন পুলিশপাবনাবিএনপিঈশ্বরদীরাজনীতিছাত্রদলবিএনপি সরকাররাজশাহী বিভাগ
